১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশীদের লিবিয়ায় না যাওয়ার নির্দেশ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশী নাগরিকদের লিবিয়া যেতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। লিবিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতির কারণে বাংলাদেশ সরকার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এছাড়া লিবিয়া থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস সরিয়ে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশী সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণের পাশাপাশি লিবিয়ায় কোন শ্রমিককে না যাওয়ার জন্যও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিবিয়া পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের যুদ্ধ এলাকা, লোকজনের ভিড়, বিক্ষোভ বা মিছিল এড়িয়ে চলে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

লিবিয়ার চলমান পরিস্থতি বিবেচনা করে সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস সরিয়ে নেয়া হয়েছে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তাকে সরিয়ে তিউনিসিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন তিউনিসিয়া থেকেই লিবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে সরকার। এছাড়া তিউনিসিয়ায় একটি তথ্য কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। লিবিয়ার বিষয়ে কোন প্রয়োজনে কন্স্যুলার এ এস এম আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানের টেলিফোন নম্বর +২১৬৭৫৭০৩০০ ও মোবাইল নম্বর +২১৬২১৯২৪২২৯।

সূত্র জানায়, চার বছর আগে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর দেশটির রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে সেখানে দুটি সশস্ত্র গ্রুপের সরকার রয়েছে। দুই গ্রুপই নিজেদের দেশটির মূল সরকার বলে দাবি করে আসছে। একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে হামলা-পাল্টা হামলা করছে। শুধু তাই নয়, মিলিশিয়া বা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীও একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। এ প্রেক্ষিতে গত বছর ৩১ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লিবিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে দেশটিতে ভ্রমণ না করতেও বাংলাদেশী নাগরিকদের পরামর্শ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকার থেকে লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও সেদেশে বিভিন্নভাবে শ্রমিক যাচ্ছিলেন। তবে সেসব শ্রমিক লিবিয়া যাচ্ছিলেন ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে এসব শ্রমিক ইউরোপে পাড়ি জমিয়ে থাকেন। কারণ মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির পতনের পর গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া এখন ইউরোপমুখী মানবপাচারের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৬ মে লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের লিবিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। দেশটির অভিযোগ লিবিয়ার কোম্পানিতে বাংলাদেশীরা চাকরি নিয়ে আসে। কিন্তু তারপর অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়া সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লিবিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকার থেকেই এক বছর আগেই সেদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও অনেক শ্রমিক লিবিয়া গেছেন। আবার লিবিয়ায় এসব শ্রমিক কোন সমস্যায় পড়লে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হয়। সে কারণে সরকার থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সে নিষেধাজ্ঞা অনেকেই উপেক্ষা করে সে দেশে যাচ্ছিলেন। সে কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য লিবিয়া সরকারকেই অনুরোধ করা হয়। এরপর চলতি বছর ১৬ মে লিবিয়ার সরকার থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের সেদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

২০১১ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরুর পর লিবিয়া থেকে প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে অনেকেই সঙ্কটের মধ্যেও দেশটিতে থেকে যান। পরবর্তীতে দেশটির অচলাবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তারপর বাংলাদেশ থেকে কিছু কিছু শ্রমিক লিবিয়া গেলেও দেশটির পরিস্থিতি গত বছর থেকে আর বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। এ প্রেক্ষিতে গত বছর ৩১ মে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এক বছরের বেশি সময়ের পর মঙ্গলবার পুনরায় বাংলাদেশীদের লিবিয়ায় যেতে নিষেধ করলো সরকার।