মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সিরিয়ার শরণার্থী সঙ্কট বাফার জোনের পরিকল্পনা তুরস্ক ও জর্ডানের

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৫
  • আবিদ হাসান

বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমস্যা ক্রমাগত পুরনো সমস্যাকে ছাপিয়ে যায়। খবরের পাতা কিংবা টিভি স্ক্রিনে সঙ্কুলান হয় তাজা খবরের। দর্শক ও পাঠকের খবরের প্রতি একগুয়েমি কিংবা রুচির পরিবর্তন কারণেই গণমাধ্যমের এমন ভূমিকা। এ যেমন সিরিয়ার সঙ্কটের কথাই ধরুন। টানা চার বছর পত্রিকার পাতায় এ রাষ্ট্রের গৃহবিবাদ, আইএস উত্থান, কুর্দি জাতীয়তাবাদ, আন্তঃধর্মীয় সংঘাতের খবর এখন আর খুব একটা রেখাপাত করে না পাঠকের মনে। বরং গ্রীস, রোহিঙ্গা কিংবা ইরান ইস্যু প্রাধান্য পায় পাঠকের ভাবনায়। কিন্তু ইউরোপের নৌকাডুবির মতো ঘটনা যখন আবার উদিত হয় খবরের শিরোনামে তখন পাঠকের মনে আবারও প্রোথিত হয় সিরিয়ার ভাবনা। সিরিয়ার শরণার্থীদের সংখ্যা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব বিবেকের। দ্বিতীয় বিশ্বপরবর্তী সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ এ শরণার্থী সঙ্কট বর্তমানে সংখ্যায় চল্লিশ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে (তুরস্ক, জর্ডান) বাড়ছে নতুন শিবির ও প্রবেশের হার এবং ইউরোপে পাড়ি দেয়ার দুঃসাহসিক সাগর পাড়ির ঘটনা। সিরিয়ান শরণার্থীদের সঙ্কট ইউরোপের দেশগুলোকে যেমন মানবিক হতে বাধ্য করেছে তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র জর্ডান ও তুস্কও তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে অভয়ারণ্য। তবে দেশ দুটি এখন কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ‘বাফার জোন’ তৈরির কথা ভাবছে এবং ভঙ্গুর সিরিয়ায় নিজেদের প্রভাব আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে।

তুরস্কের পরিকল্পনা হলো ১১০ কি.মি. লম্বা ও ৩৩ কি. মি. গভীর বাফার জোন সৃষ্টির। যাতে খুব সহজে তুরস্কের সেনাবাহিনী সিরিয়ায় প্রবেশ করতে পারে এবং দক্ষিণাঞ্চল দখল করতে পারে। জর্ডানও তেমন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা ফিন্সিয়াল টাইমসকে জানায়, সিরিয়ার উত্তারাঞ্চল দেরা ও সয়াইদা অঞ্চল তারা দখলে নিয়ে বাফার জোন তৈরি করতে চায়।

এমন বাফার জোনের পরিকল্পনা বহু আগের কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের কথা বিবেচনায় রেখে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এখন অবস্থা ভিন্ন সিরিয়ার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। রাজধানী দামেস্ক ছাড়া বাশার আল আসাদ ও তার সেনাবাহিনীর কার্যত কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি, জাবেথ আল নসুরা, আইএস ও কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে দেশটির ভূ-খ-। তাই এমন পরিস্থিতির সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না তুরস্ক ও জর্ডান। কারণ যুদ্ধপরিস্থিতি যতই ভয়াবহ হবে শরণার্থী সংখ্যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ততই বৃদ্ধি পাবে। এ পরিস্থিতি ঠেকানোর একমাত্র উপায় হস্তক্ষেপ।

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৫

১৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: