২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউরোজোনের সঙ্গে চুক্তি ॥ কঠোর সমলোচনার মুখে সিপরাস


ইউরোজোনের সঙ্গে হওয়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার (বেইলআউট) চুক্তি নিয়ে নিজ দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এ্যালেক্সিস সিপরাস। ক্ষমতাসীন জোট, নিজের দল ও দলের বাইরে সবখানেই সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, অত্যন্ত অবমাননাকর সব শর্ত মেনে সিপরাস এই চুক্তি করে এসেছেন। খবর বিবিসি ও ইয়াহু নিউজের।

প্রধান দাতাদেশ জার্মানির দাবির কাছে সিপরাস আত্মসমর্পণ করেছেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ইউরো জোনের কোন সরকারকে ব্যয় সংকোচনের এত কঠিন শর্ত দেয়নি দাতারা। বেইলআউট নিয়ে সমঝোতা করতে এতসব কঠিন শর্ত মেনে নেয়ায় সিপরাাসের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন তার নিজ দল সিরিজা পার্টির কিছু নেতা। ইউরো জোনের ১৭ ঘণ্টা ধরে চলা জরুরী শীর্ষ বৈঠকে জার্মানির নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা যেসব শর্তারোপ করেছে তাতে সিপরাসকে গ্রীসবাসীকে দেয়া ব্যয় সংকোচনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে। এর বিপরীতে তাকে চুক্তির শর্তানুযায়ী আর্থিক খাতে সংস্কারের জন্য গ্রীসের পার্লামেন্টকে বুধবারের মধ্যে আইন প্রণয়ন করতে হবে। পেনশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, শ্রম বাজার উদারীকরণ, বিদ্যুত খাত বেসরকারীকরণ করতে হবে। এছাড়া গ্রীসের নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচ হাজার কোটি ইউরোর একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হবে। ইউরো জোনের ঋণ ফেরতের এটি একটি ব্যবস্থা। পাঁচ বছরের কঠোর ব্যয় সঙ্কোচন থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচমাস আগে নির্বাচিত হন সিপরাস।

সেই সিপরাসই আবারও ব্যয় সঙ্কোচনের শর্তে নতুন বেইলআউট চুক্তির বিষয়ে ইউরো জোনের নেতাদের রাজি করিয়ে বলছেন, তিনি কঠিন লড়াই করেছেন এবং আর্থিক খাতের ভেঙে পড়া এড়াতে পেরেছেন। ফলে বুধবারের মধ্যে নতুন বেইলআউট চুক্তির বিষয়ে পার্লামেন্টের সমর্থন পেতে তাকে ইউরোপপন্থী বিরোধীদলগুলোর ওপরই নির্ভর করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে তার সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যার ফলে গ্রীসে নতুন জাতীয় নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।