১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অবশেষে পরমাণু চুক্তি সই


দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কঠিন আলোচনা শেষে মঙ্গলবার ভিয়েনায় প্রধান প্রধান বিশ্বশক্তি ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। একজন সিনিয়র কূটনীতিক বলেছেন, চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। পরমাণু কর্মসূচী সীমিত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্তে চূড়ান্ত চুক্তি বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তেহরান এবং ছয় শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির মধ্যে ১৮ দিনব্যাপী সুদীর্ঘ ও আয়াসসাধ্য আলোচনা শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হলো। খবর এএফপি ও ওয়েবসাইটের।

চুক্তি অনুযায়ী ইরানের পরমাণু কর্মসূচী ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং পরমাণু বোমা তৈরির উদ্যোগকে অসম্ভব করে তুলতে এবং সহজেই তা উদঘাটন করতে জাতিসংঘের কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে। চুক্তিতেই ইরানের পারমাণুবিক স্থাপনা পরিদর্শনের ব্যাপারে একটি সমঝোতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। চুক্তির অধীনে ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের জাতিসংঘের অনুরোধকে তেহরানের চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থাকবে এবং ইরানও ছয় বিশ্বশক্তি নিয়ে গঠিত একটি সালিশি বোর্ড আলোচনা করে পরিদর্শন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবে। তবুও শীর্ষ ইরানী কর্মকর্তারা তাদের দৃঢ়তাপূর্ণ দাবি তুলে ধরে এই ব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যণীয়ভাবে সরে এসে বলেছেন, তারা কখনও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে তাদের এ ধরনের স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেবেন না। ইরান যুক্তি দিয়েছে যে, আইএইএ’র এ ধরনের পরিদর্শন তাদের সামরিক গোপনীয়তার ওপর গুপ্তচরবৃত্তির সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে প্রবেশাধিকারের বিষয় তেহরানের বর্তমান পরমাণু কর্মসূচীর সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণের ওপর নজরদারি করার একটি প্রধান অংশ হলেও আইএইএ’র জন্য এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে ইরান কাজ করেছে এই অভিযোগ তদন্ত করার জন্য প্রায় দশকব্যাপী বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রচেষ্টা সংস্থা দ্রুত শুরু করতে পারবে। ওয়াশিংটন বলেছে, সকল অবরোধ প্রত্যাহারের পূর্বে একটি সার্বিক চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে অবশ্যই আইএইএ’র তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার দিতে ইরানও নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার এটি পরমাণু সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় গিয়ে পরমাণু বোমা তৈরির কাজে সন্দেহভাজন বিজ্ঞানীদের সাক্ষাতকার গ্রহণের অতিরিক্ত কর্তৃত্ব দেবে- তেহরান সংস্থার যে দাবি ইতোপূর্বে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইরানের সঙ্গে যে কোন চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যাবে এবং পরিষদ এ মাসের শেষনাগাদ তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইরানের তেল রফতানিকে বিপর্যন্ত করে দেখা জাতিসংঘের ও পশ্চিমা অবরোধ পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হলে ৭ কোটি ৮০ লক্ষ লোকের দেশটির অর্থনীতিও প্রাণ ফিরে পাবে।

২০১৩ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ক্ষমতাসীন হলে পাশ্চাত্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়। এ বছরের নবেম্বরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ব্যাপারে মতৈক্য হলেও ২০১৪ তে একটি স্থায়ী চুক্তিতেও পৌঁছানোর দুটি সময়সীমা হারাতে হয়। গত ২ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি চুক্তির প্রধান রূপরেখার ব্যাপারে একমত হয়ে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করে ৩০ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করার লক্ষ্য ধার্য করে।