২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ফোরকান মল্লিকের মামলার রায় আগামীকাল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর রাজাকার কমান্ডার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ৫ ধরনের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন পক্ষ। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেছেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৪ জুন সিএভি রাখেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান, অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

উল্লেখ্য, ফোরকান মল্লিকের মামলার রায়টি হবে ট্রাইব্যুনালের বিংশতিতম রায়। এর আগে দুটি ট্রাইব্যুনাল আরও ১৯টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ১-এ ৯টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ

রায় ঘোঘণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল জনকণ্ঠকে বলেন, আসামি ফোরকানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন বিচারকালে এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ পেশ করেছে। এ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন দাবি করে সর্বোাচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেন প্রসিকিউটর বাদল।

প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ২৮ মে থেকে শুরু করে ১ জুন যুক্তিতর্ক শেষ করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষ ২ জুন থেকে শরু করে তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। আসামি ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায়সহ মোট ১৪ জন সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেছেন। ২৬ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন সাফাই সাক্ষী। ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তর করণের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৮ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ৪ জনকে ধর্ষণ, ৩ জনকে ধর্মান্তর করণ, ১৩টি পরিবারকে দেশান্তকরণ , ৬৪টি বসতঘর ও দোকানপাটে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। বিপক্ষে শুনানি করেন ফোরকান মল্লিকের আইনজীবী আব্দুস সালাম খান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: