মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পাবনায় গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্ত্রী আটক

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ১৪ জুলাই ॥ শহরের খেয়াঘাটপাড়া এলাকায় তাসলিমা খাতুন (২২) নামের এক গৃহকর্মীকে বঁটি ও লাঠি দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগে সরকারী কলেজের অধ্যাপকের স্ত্রী কামরুন্নাহার মৌসুমীকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত নয়টার দিকে তাকে আটক ও আহত গৃহকর্মী তাসলিমা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পাবনা শহরের খেয়াঘাটপাড়া এলাকার সুব্রত চক্রবর্তীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমাম হোসেন। তার ভাড়া বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন তাসলিমা খাতুন। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজের অভিযোগে গৃহকর্মী তাসলিমা খাতুনকে বঁটি ও লাঠি দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালাতেন শিক্ষক ইমাম হোসেনের স্ত্রী কামরুন্নাহার মৌসুমী। দিনের পর দিন এমন নির্যাতনে শিকার তাসলিমা গত ১১ জুলাই সকালে বাড়ির আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ভয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ইমাম হোসেন।

এদিকে সোমবার রাতে আহত তাসলিমাকে রাস্তায় অভুক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে তাকে গৃহকর্তার বাসায় পৌঁছে দিয়ে পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ভাড়াটিয়ার বাসা থেকে নির্যাতনের শিকার তাসলিমাকে উদ্ধার এবং নির্যাতনকারী মৌসুমী ও তার স্বামী হোসেনকে আটক করে। এরপর মঙ্গলবার সকালে স্বামী ইমাম হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

উদ্ধারের পর নির্যাতিতা তাসলিমা খাতুন জানান, মৌসুমী ম্যাডাম প্রায়ই আমার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালাতেন। কখনও বটি দিয়ে কোপাতেন, কখনও লাঠি দিয়ে মারপিট করতেন। এজন্য ভয়ে আর ওই বাসায় যাইনি। তবে মৌসুমী ও তার স্বামী ইমাম নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাসলিমার শরীরে কাটা দাগ আগে থেকেই ছিল। আমরা মাঝে মধ্যে তার ক্ষতস্থান ড্রেসিং করে দিতাম।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আহত গৃহকর্মী তাসলিমাকে উদ্ধার করি এবং স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী তাসলিমা গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের হরতকিরটেক গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে। অপরদিকে নির্যাতনকারী গৃহবধূ কামরুন্নহারের স্বামী ইমাম হোসেন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার তরুণ মেরুয়া গ্রামের আবুল হাফিজের ছেলে।

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৫

১৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: