২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাতভর ইবাদত বন্দেগিতে কাটল লাইলাতুল কদর


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাপমোচন, অতীতের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা, অনুতাপ ও মহান আল্লাহতাআলার

রহমত লাভের আশায় রাতভর ইবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। রাজধানীসহ সারাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যে যার মতো করে আল্লাহর ধ্যানে মশগুল ছিলেন। কদরের রাতে অনেকেই কবরস্থানে গিয়ে মৃত স্বজনদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। আবার অনেকে আল্লাহতাআলার করুণা লাভের আশায় গরিব দুঃখীদের মাঝে দান খয়রাত করেন। এ রাতে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার মধ্য দিয়ে মুসলিম উম্মার ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত ২৭ রমজানের রাত ছিল পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত। কোরান শরীফে এ রাতকে মহিমান্বিত রাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে এ রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে পবিত্র এ রাতটিকে যথাযথ মর্যাদা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় মুসল্লিরা রাতভর কোরান তেলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির আসকর ও নফল ইবাদতে মশগুল ছিলেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হয় লাইলাতুল কদরের নানা অনুষ্ঠান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে আয়োজন করা হয় পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শিরোনামে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল। এতে আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা মিজানুর রহমান। এছাড়া রাত পৌনে ১১টায় আয়োজন করা হয় পবিত্র লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও করণীয় শিরোনামে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিল। এতে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক।

শুধু বায়তুল মোকাররম মসজিদ নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মসজিদে পবিত্র কদর উপলক্ষে চলে রাতভর ইবাদত-বন্দেগী। মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পরপরই শুরু হয় শব-ই-কদরের ফজিলত। তা চলতে থাকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এ রাতে আল্লাহতাআলা নিকটতম আসমানে অবস্থান করেন। এ রাতে যারা ইবাদত-বন্দেগী করবে তাদের গুনাহ মাফের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি কোরান নাজিলের মাস হিসেবে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত, তেমনি কোরান নাজিলের কারণেই শব-ই-কদর অতি ফজিলত ও তাৎপর্য বহন করে। তাই মঙ্গলবার দিনগত রাতে তারাবির নামাজের পর থেকে শুরু হয় ইবাদত-বন্দেগী। তা সেহ্রী খাওয়ার আগ পর্যন্ত চলে। শেষ রাতে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে শেষ হয় পবিত্র লাইলাতুল কদরের আনুষ্ঠানিকতা।

শুধু এ রাতভর ইবাদত-বন্দেগী নয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমেও দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। সংবাদপত্রগুলো তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করে। টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচার করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আজ বুধবার সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী প্রদান করেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: