২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

অবশেষে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সমঝোতা


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ শেষ পর্যন্ত পরমাণু ইস্যু নিয়ে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে একটি রফা হয়েছে। মঙ্গলবার ভিয়েনায় ইরান এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির মধ্যে এই সমঝোতাটি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।

এই সমঝোতার পরে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা কমপক্ষে ১৫ বছর পিছিয়ে গেল, একই সঙ্গে তেহরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অবাধে সম্ভাব্য স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে দেবে। বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ছয় বিশ্বশক্তি।

এদিকে এই সমঝোতাকে একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে অভিহিত করেছে ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের অপর মিত্র সৌদি আরব প্রায় একই রকম দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে। এ ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শীঘ্রই দেশ দুটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। সমঝোতার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওবামা বলেছেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার সম্ভব সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, এই সমঝোতার ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় তৈরি হবে। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর ১ দশমিক ২১ ডলার কমে ৫৬ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে এসেছে।

গত কয়েকদিন ধরে ছয় বিশ্বশক্তির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। ভিয়েনা থেকে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের দাবিতে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশের অভিযোগ ছিলÑ ইরান পরমাণু কর্মসূচীর আড়ালে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছিল; শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করাই তাদের পরমাণু কর্মসূচীর লক্ষ্য। এ নিয়ে পশ্চিমের সঙ্গে ১৩ বছর ধরে ইরানের টানাপোড়েন চলছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি প্রায় ভেঙ্গে পড়েছিল। এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ তৈরি হলো।