১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সবচেয়ে উঁচু সড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


সবচেয়ে উঁচু সড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবানে দেশের ‘সবচেয়ে উঁচু’ সড়কসহ তিনটি সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবন থেকে বিআইডব্লিউটিসির একটি জাহাজ ও দুটি ফেরিরও উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের জন্য তার সরকারের ‘ঈদ উপহার’।

এসব প্রকল্পের মধ্যে বান্দরবানের থানচি থেকে আলীকদম পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তৈরি এ সড়কটি দেশের সবচেয়ে উঁচুতে বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে জানান। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সবদিক দিয়েই মানুষের উন্নয়ন ‘ত্বরান্বিত হবে’ বলে ভিডিও কনফারেন্সে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীর কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের স্কুল কলেজগুলোকে আবাসিক করে দেয়া হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারী স্কুল ও কলেজ করারও ঘোষণা দেন তিনি।

রংপুরে ১৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত

যানজট নিরসন, আন্তঃজেলা ও আন্তর্জাতিক যাতায়াত সহজ করতে রংপুর শহর ও শহর সংলগ্ন ১৬ কিলোমিটার রাস্তাকে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ‘বিভাগীয় সদর রংপুরের সওজ-এর সড়ক চার লেনে উন্নয়ন’ এ প্রকল্পটি শেষ করতে খরচ হয় ১২৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

১৬ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে রংপুর শহর অংশে ৮ দশমিক ২৪ কিলোমিটার এবং রংপুর বাইপাস অংশে ৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। বিভাগীয় শহর রংপুর উত্তরাঞ্চলের ৬টি জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের প্রবেশদ্বার। সীমান্তবর্তী বাংলাবান্ধা, বিরল, বুড়িমারী ও সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে রাজধানী ঢাকা এবং সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মংলার যোগাযোগ রক্ষাকারী মহাসড়কটি রংপুর বিভাগীয় শহরের উপর দিয়েই গেছে। এ মহাসড়কটি ব্যবহার করে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটান হতে পণ্য আমদানি ও রফতানি হয়ে থাকে। মহাসড়ক উদ্বোধনের সময় গণভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা এবং উর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রংপুর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনে সংযুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙাসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।

যাত্রা শুরু করল এমভি মধুমতি ॥ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে যাত্রা শুরু করল বিআইডব্লিউটিসি’র যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি। মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জাহাজটির উদ্বোধন করেন। ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-হুলারহাট-মোড়েলগঞ্জ-মংলা ও খুলনা রুটে জাহাজটি চলাচল করবে আজ বুধবার থেকে।

৭৫০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজটি নির্মাণ করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইর্য়াড লিমিটেড। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি আটান্ন লাখ বায়ান্ন হাজার আটশ’ টাকা। ৭৫ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ, ১২ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থ, ৩ মিটার উচ্চতা ও ১ দশমিক ৬ মিটার গভীরতার জাহাজটির খালি অবস্থায় প্রায় ওজন এক হাজার টন।

অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল এ জাহাজটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ৩১ মাস। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী নৌ-রুটগুলোর খনন কাজ দ্রুতসম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। নৌপথের সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে সবচেয়ে কম খরচে নৌপথে যাতায়াত করা যায়। নৌপরিবহন ও নৌপথের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এমভি মধুমতি’ এবং ‘ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা রো রো ফেরি’ ও ‘কুসুমকলি’ ফেরির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এমভি মধুমতি উদ্বোধনের সময় ভাষাসেনিক গোলাম মাওলা রো রো ফেরি এবং কুসুমকলি ফেরি নামে দু’টি ফেরির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গণভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ নৌ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমভি মধুমতি জাহাজের ভেতর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রেজা খানম, বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিআইডাব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক, লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিরুলিয়া সেতু এবং বিরুলিয়া-আশুলিয়া মহাসড়কের উদ্বোধন ॥ রাজধানীর পাশে তুরাগ নদীর ওপর বিরুলিয়া সেতু এবং বিরুলিয়া-আশুলিয়া মহাসড়কের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ দুটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ সেতু ও মহাসড়ক চালুর ফলে রাজধানীতে প্রবেশের নতুন আরেকটি রুট সংযোজিত হলো। নতুন এ রুট চালুর ফলে ঢাকায় প্রবেশ ও বহির্গমন রুটগুলোর ওপর চাপ কমবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর ৪৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিরুলিয়া-আশুলিয়া মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক, ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তুরাগ নদীর ওপর ১৮৬ দশমিক ৪ মিটার দীর্ঘ বিরুলিয়া সেতু এবং বিরুলিয়া খালের ওপর ৩৬ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়।

এ সময় গণভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা এবং উর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিরুলিয়া থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন সংসদ সদস্য ডাঃ এনামুর রহমান ও ঢাকা জেলার বিভাগীয় কমিশনারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: