১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দেশব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় দিনব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পার্বত্য উপজেলাসহ কর অঞ্চলগুলোর আওতাভুক্ত উপজেলাগুলোতেও ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রতিটি জেলা শহরের মতো এবার উপজেলা পর্যায়ে আয়কর মেলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমবারের মতো টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় দিনব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পার্বত্য উপজেলাসহ কর অঞ্চলগুলোর আওতাভুক্ত কমবেশি ৫টি উপজেলায় ট্রাকের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য কর অঞ্চলগুলোর কাছ থেকে খরচের বাজেট চাওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এবারের আয়কর দিবস ও মেলার লক্ষ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ সংখ্যক করদাতার কাছে করবার্তা পৌঁছে দেয়া। এজন্য জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে আয়কর মেলা করা হচ্ছে। জেলা শহরের মেলার ভেন্যু এখনও ঠিক করা হয়নি। কমিশনাররা সুবিধাজনক স্থান বাছাই করবেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য করদাতাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে আয়কর মেলা করতে কমিশনারদের বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে অর্থনীতিবিদ ও সংসদ সদস্যরা উপজেলা পর্যায়ে আয়কর মেলা করার কথা বলে আসছিলেন। সর্বশেষ রবিবার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশে ১৮ লাখ টিআইএনধারী থাকলে ১১ লাখ রিটার্ন জমা দেন। ক্রয়ক্ষমতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যা অপ্রতুল। বর্তমানে গ্রামেগঞ্জে কর দেয়ার মতো অনেক মানুষ রয়েছে। তাদের টিআইএন নম্বর দিয়ে কর আদায় করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।’

একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘ভ্যাট মোটেও জনপ্রিয় কর নয়। এমনকি কোন করই জনপ্রিয় নয়। এ দেশের কম-বেশি চার কোটি লোক আয় করেন। এর মধ্যে মাত্র ১১ লাখ লোক কর দেন।’

অবশ্য ৪ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ে আয়কর মেলা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আয়কর মেলার বিস্তৃতি উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ মেলায় বিশেষ লক্ষণীয় হলো যুবক ও নতুন করদাতাদের উপস্থিতি। মেলাতে আরও প্রতিভাত হয় যে, কর-রাজস্ব প্রশাসন একটি ব্যবসাবান্ধব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস হলেও এবার আগেভাগে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে। যাতে করদাতাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়া যায়। এবার আয়কর মেলা ও দিবসের একটা লক্ষ্য, সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মাঝে কর বার্তা পৌঁছে দেয়া।