মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঈদ আনন্দ পরিবার থেকে দূরে

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৫
  • মাঈন উদ্দিন

ঈদ প্রতিবছর আসে খুশির বার্তা নিয়ে । এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করতে সবাই নাড়ির টানে ছোটে বাড়ির পথে। তবে চাইলেও সবার এ সুযোগ হয় না। বিভিন্ন কারণে পরিবারের বাইরে ঈদ করতে হয় অনেককে। এ দলে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ঈদ শেষেই হয়ত কারও গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস, এ্যাসাইনমেন্ট, টিউটরিয়াল কিম্বা ফাইনাল পরীক্ষা। আর এরই মারপ্যাঁচে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে থেকে যেতে হয় বহু শিক্ষার্থীকে। তবে জীবন থেমে থাকে না, কারও জন্য অপেক্ষাও করে না। তাই থেমে থাকে না ঈদের আনন্দও। যারা ঈদে বাড়ি যেতে পারেন না, তারাও প্রস্তুতি নেন নিজেদের মতো করে ঈদের আনন্দ উদযাপন করার। অনেকেই এই প্রথম বাড়ি ছেড়ে ঈদ করছে সহপাঠী, বন্ধু কিংবা সিনিয়র কোন বড় ভাইয়ের সঙ্গে। আবার অনেকে ক্যাম্পাসের প্রতি বিশেষ ভালবাসা থেকে শিক্ষা জীবনের শেষ ঈদে থেকে যান ক্যাম্পাসেই।

ঈদ-উল-ফিতর মুসলমানদের প্রধান আনন্দ উৎসব। ধনী গরিবের ভেদাভেদ ভুলে এ দিন একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্য বন্ধনে আবিষ্ট হয় সবাই। খুশির ঈদের বিশেষত্ব এখানেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদেরই উপস্থিতি রয়েছে। তবে ঈদ এলে, ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছোটে সবাই। তাই ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে প্রায় শূন্য। ওলি, নাসির, ইমরান, মাহিদুল, শোভন, রকি, প্রিন্স ওরা সবাই বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ঈদ শেষ হওয়ার পরপরই দ্বিতীয় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের ঈদে বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে ঢাকার ছেলে শোভনের এ সমস্যা নেই। শোভন ঢাকাতেই ঈদ করবেন। ওর জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার-পরিজন সবকিছু ঢাকাতেই। ওর কাছে ঢাকাতে ঈদ করা মানে বেশি আনন্দ। মাহিদুল, রকি, প্রিন্স-এর পরীক্ষা ঈদের পরেই। তাই ঈদে বাড়ি যাওয়া হবে না ওদের। তাই তারা প্রস্তুতি নেন ক্যাম্পাসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার।

ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপন মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের দর্শনীয় স্থানগুলোতে দীর্ঘ সময় আড্ডা দেয়া। আর এই আড্ডার বেশির ভাগ অংশজুড়ে থাকে ছোটবেলার ঈদ স্মৃতি, কোন হাসির গল্প।

ঈদের সময় ক্যাম্পাসে থাকার কারণ সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হক খান বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে, যাদের আর্থিক সঙ্গতি ভাল নয়। আমার মতো অনেকের বাড়ি দূরে হওয়ায় এবং এ সময় নিরিবিলি পরিবেশে ক্যাম্পাসে ভাল পড়াশোনা করা যাবে বলে ক্যাম্পাসেই থেকে যাই। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইফুল ইসলাম জানান, তার বাড়ি থেকে টাকা আসে না। সে একটা টিউশনি করে চলত। কিন্তু রমজানে তার টিউশনি চলে যায়। বাড়ি যাওয়ার খরচ অনেক। ছোট ভাই-বোনদের জন্য কিছু নিয়ে যেতে হয়। টিউশনি হারিয়ে সে বেকায়দায় পড়েছিল। তাই এবার ঈদ সে ক্যাম্পাসেই করছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস পার্ট-৪ এর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সুরভী জানান, ঈদের বন্ধে তাদের ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা।

আর যারা ক্যাম্পাসে ঈদ কাটায়নি এবং যাদের বাড়ি ঢাকা থেকে অনেক দূরে তাদের ঈদের আনন্দটা একটু অন্যরকম হবে। কষ্টকর, আবার সুখেরও বটে! অনেক দিন পর তারা মিলিত হবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তাদের জন্য ঈদটা কষ্টকর। এই অর্থে যে, বাড়ি যাওয়ার আগে তাদের জন্য ছিল অনেক প্রতিকূলতা। এর মধ্যে অন্যতম হলো লঞ্চ, স্টিমার, বাস এবং ট্রেনের সিট ও টিকিট পাওয়া।

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৫

১৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: