মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

এই গল্পটা আমার মা’র

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৫
  • মাহবুব রেজা

আমাদের বাড়ির সামনে প্রাচীনকালের একটা বটগাছ বেশ ডালপালা, লতাপাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তার অস্তিতের জানান দিচ্ছে। দূর থেকে বটগাছটাকে দেখলে যে কেউই বেশ সমীহ করবে আর ভাববে, ওরে বাব্বা! এর আগে এত্তো বড় ছাতা তো বাপের জন্মেও দেখিনি!

ছাতা!

হ্যা, বড়-সড় বট গাছকে দূর থেকে দেখলে অমন ছাতাই মনে হয়।

বটগাছ থেকে দিনমান একটা ঠা-া হাওয়া এসে লুটিয়ে পড়ে আমাদের সামনের ঘরে। আমরা যখন সেই ঘরে থাকি তখন মাকে আর কষ্ট করে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয় না।ঠান্ডা হাওয়া আমাদের শীতল করে তোলে। আমরা তখন সামনের ঘরের বিছানায় হা করে শুয়ে থাকি।

বর্ষার সময় সেই হাওয়া যেন আরও প্রাণ প্রায়। সারাদিন শো শো করে হাওয়া বয়ে যায়।আমি তখন হাওয়ার ভেতর ডুবে থাকি। আমার ভেতর তখন প্রশ্ন জাগে, আচ্ছা,বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো ঘর থিকা কই মিলায়া যায়!

একদিন আমি বোকার মতো মাকে জিজ্ঞেস করলাম, মা, বটগাছের ঠা-া হাওয়া আমাগো বাড়ি থিকা কই চইলা যায়?

আমার কথা শুনে মা ছোট মেয়ের মত হি হি করে হাসলেন। বললেন, তর নানীগো বাইত।

মার কথা শুনে আমি তো অবাক!

নানীগো বাইত যায় মানি? মা বলে কী!

আমি ভাবলাম, আমার কথা হয়ত মা বুঝতে ভুল করেছেন। মা বুঝি আমার কথা ঠিকমতো শোনেন নি।

হাওয়া আবার নানীর বাড়ি যায় কীভাবে!

হাওয়া কী নানীর বাড়ি চেনে যে গুটি গুটি পায়ে চলে যাবে নানী বাড়ি!

আমি আবার মাকে বললাম, মা বটগাছ থিকা যে হাওয়া আমাগো বাড়ির ওপর দিয়া যায় হেই হাওয়া কই যায়?

মা এবার আমার কথার জবাবে আগের মতো নানীর বাড়ি বললেন না। বললেন, এই হাওয়া সোজা যাইবো বিক্রমপুরÑ বলে মা দুহাত সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বাইরের দিকে ইশারা করল। আমার মনে হলো মা যেন তার হাত দুটোকে বিক্রমপুরের দিকে নিশানা করে রেখেছে।

এবার মার কথায় সত্যি সত্যিই আমার বিশ্বাস হলো। সন্ধ্যার পর বাবা ঘরে এলে বাবাকেও একই প্রশ্ন করলাম। প্রশ্ন শুনে বাবা ভাল করে আমাকে দেখলেন। মা তখন রান্নাঘরে ব্যস্ত।

আমার কথা শুনে বাবা বেশ গম্ভীর হয়ে বললেন, আগে বল, তোর এই প্রশ্নে বেগম সাহেবা কি উত্তর দিলেন। মা সামনে না থাকলে বাবা মাকে বেগম-সাহেবা বলে সম্বোধন করেন ।

মায় প্রথম বার কইলো, এই হাওয়া যায় তগো নানীগো বাইত। হেরপর কইলো বিক্রমপুর।

বিক্রমপুর শুনে বাবা শব্দ করে হাসলেন, সবকিছুতে তোর মা খালি বিক্রমপুর-বিক্রমপুর করে। এইটা হইলো তোর মার একটা রোগ।

বাবার কথা শেষ হলো না। তার আগেই ঘরের দরোজায় মার ছায়া এসে পড়ল।

মাকে দেখে বাবা ভুত দেখার মত চমকে গেলেন।

মা দরোজায় দাড়িয়ে আমাকে বললেন, তর বাপে কী কয় রে-

বাবা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পিট পিট করে কি যেন ইশারা করলেন। তারপর মাকে বললেন, না আমরা বাপ মাইয়ায় মিল্যা বট গাছের গল্প করতাছি-

বাবার মুখে বট গাছের গল্প করতাছি শুনে মা মেজাজ খারাপ করে উত্তর করলেন, সন্ধ্যার সময় কই মাইয়ারে লইয়া পড়াইতে বইবো না তিনি মাইয়ারে শুনাইতাছেন বট গাছের গল্প।একথা বলে মা গট গট করে চলে গেলেন।

মা চলে যাবার পর বাবা আর আমি হো হো করে হাসতে থাকি।

ধঃযধরৎরফযধ১৫@ুধযড়ড়.পড়স

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৫

১৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: