২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এলপিজি গ্রাহকদের ভর্তুকি দেয়ার চিন্তা সরকারের


রশিদ মামুন ॥ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) গ্রাহকদের জন্য ভর্তুকি দেয়ার চিন্তা করছে সরকার। সাধারণ গ্যাস ব্যহারকারীদের সঙ্গে বৈষম্য দূর ছাড়াও এলপিজিকে জনপ্রিয় করতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে চিঠি দেবে জ্বালানি বিভাগ।

বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এ প্রসঙ্গে শনিবার জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা এলপিজি গ্রাহকদের ভর্তুকি দেয়ার চিন্তা করছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পরই কোন প্রক্রিয়ায় ভর্তুকি দেয়া যায় তা চূড়ান্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দেশে গ্যাস ব্যবহারকারী আবাসিক এবং এলপিজি গ্রাহকদের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। পাইপলাইনে সংযোগপ্রাপ্তরা মাসে মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বিল দিয়ে অফুরন্ত গ্যাস ব্যবহার সুযোগ পান। অন্যদিকে এলপিজি ব্যবহার করে এমন পরিবারগুলোর মাসিক জ্বালানি ব্যয় অন্তত দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এতে দুই শ্রেণীর গ্রাহকদের মধ্যে পাথর্ক্য তৈরি হয়। এক শ্রেণী রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগ করলেও অন্য শ্রেণী তা থেকে বঞ্চিত হন। বিদ্যুত এবং জ্বালানির অন্যান্য দামের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য নেই। যা আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এলপিজি গ্রাহকদের রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে আবাসিকখাতে আর কোন নতুন গ্যাস লাইন সম্প্রসারণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। এজন্য এলপিজিকে জনপ্রিয় করার কোন বিকল্প নেই। গ্যাস বিতরণ এলাকার বাইরের গ্রাহকদের এজন্যই এলপিজিতে ভর্তুকি দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও এলপিজি গ্রাহকদের ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি ব্যয় সহনীয় রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন সরকারের একার পক্ষে সারাদেশের এলপিজি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে দেশের এলপিজি বাজারের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারী কোম্পানিগুলো। সরকার এলপিজি ব্যবসার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে ৩৩টি কোম্পানিকে এলপিজি বটলিং করার অনুমোদন দেয়। এরমধ্যে কোন কোন কোম্পানি এলপিজি বাজারজাত করা শুরু করেছে। তবে সরকার এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট করার উদ্যোগ নিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

সরকারী হিসাবে দেশে বর্তমানে এলপিজি’র বার্ষিক চাহিদা তিন লাখ টন। এর মধ্যে সরকারী খাতের সরবরাহ ক্ষমতা মাত্র ২০ হাজার টন। এর বাইরে আরও এক লাখ টন এলপিজি বেসরকারীখাত সরবরাহ করে। ফলে চাহিদার সঙ্গে যোগানের ফারাক থাকায় এলপিজিতে অতি বাণিজ্যের কারণে ক্ষতির শিকার হন গ্রাহক। যদিও সারাবিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য জ্বালানির দাম কমেছে। আগে যেখানে এক বোতল ১২ কেজির এলপিজি এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হতো এখন সেখানে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কি প্রক্রিয়ায় এলপিজিতে ভর্তুকি দেয়া হবে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, এখন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গ্যাসের দাম না বৃদ্ধি করলেও লাভজনকভাবেই কোম্পানিগুলো চলতে পারে। সঙ্গতকারণে স্বল্পহারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে একটি তহবিল গঠন করে ওই টাকা এলপিজি গ্রাহকদের ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে। গ্রাহক প্রতিমাসে যত ইউনিট এলপিজি ব্যবহার করবে তার বিপরীতে তাদের ভর্তুকির অর্থ পৌঁছে দেয়া হবে। এতে সারাদেশের মানুষ দেশের সম্পদ ব্যবহারের সুফল পাবেন। এ ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয় যেভাবে ১০ টাকার হিসেব খুলে যেভাবে কৃষকদের ভর্তুকির অর্থ পৌঁছে দেয় একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, নতুন করে আর বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না। সিএনজিতে ক্রমন্বয়ে পাইপ লাইনের গ্যাস দেয়া বন্ধ করে দেয়া হবে। আর ক্যাপটিভ বিদ্যুত কেন্দ্রেও পাইপ লাইনের গ্যাস দেয়া হবে না। এর পরিবর্তে এলএনজি দেয়া হবে। আর বাসা বাড়িতে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো হবে।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেখা যাচ্ছে কেউ ৩০ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনছে। আর প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে চলছে কিন্তু অন্যরা সেই গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না। কিছু মানুষ ব্যবহার করতে পারবে আর অধিকাংশ মানুষ বঞ্চিত হবে এই অবস্থা থেকে সরকার বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এখনও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। কমিশন তার কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন মেনে নিলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে কোম্পানিগুলোর কাছে কমিশন অতিরিক্ত কিছু তথ্য চেয়েছে তার ভিত্তিতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। যদিও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে ওই অর্থ এলপিজিতে ভর্তুকি দেয়া হবে এ ধরনের কোন পরামর্শ সরকাররের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে বিইআরসি সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, এখনও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা কোম্পানিগুলোর কাছে অতিরিক্ত কিছু তথ্য চেয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের আইনে রয়েছে সকল তথ্য প্রাপ্তির পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। সঙ্গতকারণে শুনানির পর থেকে ৯০ কার্যদিবসের বাধ্যবাধতার বিষয়টি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।