২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। চলমান অভিযানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী তিন প্রতারক ও ১১ ডাকাত। ভুয়া পুলিশের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নকল ওয়্যারলেস সেট, হ্যান্ডকাফ, একটি মাইক্রোবাস ও চাঁদাবাজির ৫০ হাজার টাকা।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সোমবার রাজধানীর এ্যালিফান্ট রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ আবুল হোসেন ও মোঃ শরীফ হোসেন জনিকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একজোড়া হ্যান্ডকাফ, একটি নকল ওয়্যারলেস সেট, একটি মাইক্রোবাস ও চাঁদাবাজির ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।

গ্রেফতারকৃতরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কামাল হোসেন ও বজলুর রহমানকে নগদ ২০ লাখ টাকাসহ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসে তোলে। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। চক্রটি প্রায় তিন বছর ধরে একাজ করছে। ইতোপূর্বেও গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেল খেটেছে।

বজলুর রহমান জানান, তিনি ও তার ভাই ধানম-ি ওয়ান ব্যাংকের একটি শাখা থেকে টাকা তুলে মতিঝিলে যাচ্ছিলেন। তারা সাইন্সল্যাবরেটরি মোড় দিয়ে হেঁটে ফুটপাথে উঠে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একজন নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাইক্রোবাসে তুলতে জোর করে। রাজি না হলে, জোর করে তাদের মাইক্রোবাসে তোলা হয়। গাড়িতে তুলেই মারধর করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তাদের চিৎকারে টহল পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করলে কয়েকজন পালিয়ে যায়। ধরা পড়ে তিনজন। তাদের কাছ থেকে ভুয়া ওয়্যারলেস সেট, হ্যান্ডকাফ, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির ৫০ হাজার টাকা ও মাইক্রোবাসটি উদ্ধার হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ সব সময় তাদের নিজস্ব জ্যাকেট পরে অভিযান চালায়। অভিযানকারী পুলিশ বা গোয়েন্দা সদস্যদের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলানো থাকে। জ্যাকেটবিহীন পুলিশ পরিচয়দানকারীরা ভুয়া পুলিশ। তারা পুলিশ পরিচয়ে যে কোন ধরনের কর্মকা- চালানো মাত্রই তাদের আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা যাবে। অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। বেআইনীভাবে এসব সরঞ্জাম বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে।

এছাড়া রবিবার রাতে ডিবির অভিযানে রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তৌফিকুল ইসলাম ওরফে রন্টি, মোঃ আলম ভা-ারি, সাইফুল ইসলাম মুন্না, মীর মোঃ মাসুম, মোঃ রাসেল, মোঃ সাদেক ফকির ও মোঃ ইউসুফসহ এগারো ডাকাত গ্রেফতার হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, রবিবার রাতে উত্তরা থেকে রন্টি ও আলমকে একটি বিদেশী পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ছিনতাই করা একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। গ্রেফতারকৃতরা ইতোপূর্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। গত ২৪ জুন মধ্যরাতে রন্টি ও আলমের নেতৃত্বে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন ফ্লাইওভারের কাছে একজনকে গুলি চালিয়ে জখমের পর জব্দকৃত প্রাইভেটকারটি ছিনতাই করে। ওই মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত ফারুক, টিটু, সুমন ও ফারুক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেয়।

অন্যদিকে রবিবার রাতে রমনা মডেল থানাধীন ইস্কাটন গার্ডেন রোডের হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সাইফুল, মাসুম, রাসেল, সাদেক ও ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়।