১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সামনে ঈদ ॥ বরিশালে ছিনতাই চক্র সক্রিয়


স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বরিশালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের দলে রয়েছে একাধিক নারী সদস্য। এরা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নগরীর বিভিন্নস্থানে তৎপর রয়েছে। এসব গ্রুপে বাহির থেকেও ভাড়াটে পেশাদার ছিনতাইকারীদের আনা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের তিনটি গ্রুপের এক নারীসহ বেশ কয়েক সদস্যকে ইতোমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক অপরাধীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এদের গ্রেফতারের জন্য ডিবি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের তালিকা সূত্রে জানা গেছে, অর্ধশতাধিক ছিনতাইকারীর মধ্যে গ্রুপ-উপগ্রুপ মিলিয়ে রয়েছে শতাধিক ছিনতাইকারী। এদের বসবাস নগরীতেই। তবে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি চক্র আবার শহরের উপকণ্ঠে বাণিজ্যিক এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, এসব চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করার পরপরই স্থান বদল করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছুতেই তাদের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সূত্রমতে, ঈদকে টার্গেট করে এবার ছিনতাইকারী চক্র নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে নগরীর চকবাজার, গীর্জা মহল্লা, সদর রোডসহ বেশ কিছু এলাকাকে বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি উপগ্রুপের সদস্যরা জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় ছিনতাইয়ের জন্য সক্রিয় রয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারীর তালিকায় থাকা নগরীর বেলতলা এলাকার সুমন, ভাটিখানার মহসিন, সোহেল, অন্তর এবং রূপাতলী এলাকার শাহিনসহ অর্ধশতাধিক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীর তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি এ তালিকায় বেশ কয়েক নারী ছিনতাইকারীর নামও রয়েছে। ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার নগরীর চকবাজার এলাকায় ছিনতাইকালে রুমা নামের ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে রুমা জানায়, এবারের ঈদকে টার্গেট করে তাদের এ চক্রে ২৫ সদস্য কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে নিরাপদ দুরত্বে থাকতে তারা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে নেমেছে। এর আগেও ওই নারী (রুমা) ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলার বাহিরে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল বলেও স্বীকার করে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করার পর টাকার বিনিময়ে তাদের মেট্রো আইনে আদালতে সোর্পদ করা হয়। যে কারণে সামান্য কিছু জরিমানা বা ২-৪ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় হয়ে পড়ে। যদিও এসব অভিযোগ পুলিশের পক্ষ থেকে সব সময়েই অস্বীকার করা হয়।

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) আনছার উদ্দিন বলেন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।