২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্ব নেতারা সিরীয় শিশুদের হতাশ করেছে ॥ মালালা


বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী, শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই লেবাননে রবিবার তার ১৮তম জন্মদিন পালন করেছেন। এ সময় সিরীয় সীমান্তঘেঁষা লেবাননের বেকা উপত্যকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি। অলাভজনক বিদ্যালয়টি মালালা ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। বিদ্যালয়টিতে দু’শতাধিক ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী শিশু পড়াশোনা করতে পারবে। খবর এএফপি, এনবিসি ও ডেইলি মেইলের। এ সময় বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে মালালা বলেন, বুলেট নয়, শিক্ষাবিস্তারে বিনিয়োগ করুন। কারণ বুলেট নয়, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে বই।

বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ব নেতারা সিরীয় শিশুদের হতাশ করেছে। নিজের জন্মদিন বিষয়ে বলেন, আমি সিরিয়ার এসব সাহসী ও উদ্দীপ্ত মেয়ের সঙ্গে জন্মদিন পালন করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। আমি এখানে দুই কোটি ৮০ লাখ শিশুর প্রতিনিধি হয়ে এসেছি, যারা যুদ্ধের কারণে শ্রেণীকক্ষের বাইরে রয়েছে। লেবাননে জন্মদিন পালন করতে আসার কারণ বিষয়ে বলেন, আমি লেবাননে আসার সিদ্ধান্ত নিই, কারণ আমার মনে হয়েছে সিরিয়ার এসব উদ্বাস্তু শিশুর কথা শোনা দরকার। এসব শিশু দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত রয়েছে। আর প্রাপ্তবয়সী হিসেবে আজ আমার প্রথম দিন। বিশ্বের সকল শিশুর পক্ষ থেকে বিশ্ব নেতাদের কাছে আমার দাবি, বুলেটের পরিবর্তে আপনারা শিক্ষাবিস্তারে বিনিয়োগ করুন। অনুষ্ঠানের পর পাকিস্তানের এই শিশু অধিকারকর্মী লেবাননের প্রধানমন্ত্রী তামাম সালামের সঙ্গে তার বৈরুতের বাড়িতে দেখা করেন। এ সময় মালালার সঙ্গে তার বাবা ও কায়ানি কাউন্ডেশনের প্রধান নুউরা জুমব্লাত উপস্থিত ছিলেন। এরপর এক সাক্ষাতকারে বিবিসিকে তিনি বলেন, সিরিয়ার শিশুরা অনেক কষ্টের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘ চার বছর তারা শরণার্থী হিসেবে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশ্ব নেতারা বিষয়টির প্রতি নজর দিচ্ছে না। আর এই কারণেই আমার এখানে জন্মদিন পালন করতে আসা। আমি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা বিষয়টি আমলে নিন। শিক্ষায় বিনিয়োগ করুন। অন্যথায় এখানে একটা প্রজন্ম হারিয়ে যাবে। লেবাননে বর্তমানে ১২ লাখ নিবন্ধিত সিরীয় শরণার্থী রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।