মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কোন সুবিধা ছাড়াই চলছে স্থলবন্দরের কার্যক্রম

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৫
  • অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৬ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ

রাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম থেকে ॥ দেশের ১৮তম কুড়িগ্রামের বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরটি চালু হলেও কোন অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়ায় বর্তমানে কোন সুবিধা ছাড়াই চলছে বন্দরের কার্যক্রম। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বঙ্গসোনাহাট বন্দর দিয়ে কয়লা ও পাথর আমদানি শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত গত ৭ মাসে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৬২ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন কয়লা ও ৪৫ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন পাথর আমদানি করে ব্যবসায়ীরা। এতে করে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২ কেটি টাকা।

কয়লা ও পাথর আমদানি করে রাজস্ব দিলেও নানা সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি দু’দেশের সরকার অনুমোদিত সবগুলো পণ্য আমদানি রফতানি শুরু না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।

কয়েক দফা উদ্বোধনের পর গত বছরের ডিসেম্বর থেকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি। অন্যদিকে স্থলবন্দরের ভারতীয় অংশে সকল অবকাঠামো নির্মাণ হলেও বাংলাদেশ অংশে অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই চলছে বন্দরের কার্যক্রম। ভারতের অসম, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, অরুণাচল ও মেঘালয় রাজ্য থেকে স্বপ্ল সময় ও কম খরচে পণ্য আমদানি ও রফতানি সুবিধা থাকায় ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্দরটি আবারও চালু করা হয়। এ বন্দর দিয়ে ভারতের ১০টি পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্য রফতানির কথা থাকলেও এর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে হতাশায় পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। বন্দর দিয়ে পুরোদমে পণ্য আমদানি ও রফতানি শুরু না হওয়ায় স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। অবকাঠামো না থাকায় পণ্য লোড-আনলোডে ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের খবরদারীর নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের কুলি-শ্রমিক আতাউল জানান, স্থলবন্দরে শুরুর দিকে ভাল ইনকাম হলেও বর্তমানে শ্রমিক নেতারা টাকার বিনিময়ে শ্রমিক বাড়াচ্ছে। এতে করে শ্রমিকের কার্ড নিয়েও বেকার সময় কাটাতে হচ্ছে আমাদের। সপ্তাহে মাত্র ২টি থেকে ৩টি ট্রাকের মাল আনলোড-আপলোড করতে পারি। এতে করে সপ্তাহে ৪ থেকে ৫শ’ টাকা পাই যা দিয়ে সংসার চলছে না। স্থলবন্দরের মহিলা শ্রমিক জমিলা জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কয়লা ও পাথর সরানোর কাজ করি। ১শ’ ৫০ টাকা হাজিরা পাই। অথচ সমান কাজ করলেও পুরুষদের ২শ’ টাকা দেয়। আমরা হাজিরা কিছু বাড়িয়ে চাই।

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শাহীন আহমেদ জানান, ভারত থেকে কয়লা, পাথর, তাজাফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুনসহ মসলা জাতীয় ১০টি পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের পণ্য রফতানির অনুমোদন থাকলেও ভারত থেকে শুধুমাত্র কয়লা ও পাথর আমদানির অনুমোদন রয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো না থাকা এবং দুধকুমর নদীতে সংযোগ রক্ষাকারী সোনাহাট রেলসেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেশি খরচ গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সকল সমস্যা সমাধান করে পুরোদমে স্থলবন্দরটি চালুর দাবি জানাচ্ছি। কুড়িগ্রাম বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট সভাপতি, সরকার রকিব আহমেদ জুয়েল জানান, পণ্য পরিমাপের স্কেল (ওয়ে ব্রিজ) না থাকায় ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অবকাঠামোসহ দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম কাস্টম এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার শাকিল খন্দকার জানান, গত ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৭ মাসে এ বন্দর দিয়ে শুধু ২টি পণ্য থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ অবকাঠামো নির্মাণসহ সকল সমস্যার সমাধান করলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসার পরিধিও বাড়বে, উন্নয়ন হবে আর্থ-সামাজিক অবস্থার। এ প্রসঙ্গে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাণিজ্যিক) নাসির আরিফ মাহমুদ বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রসারে ভুরুঙ্গামারীতে স্থলবন্দর অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রফতানিকৃত দ্রব্যসামগ্রীর গুদামজাতকরণ ও আনা-নেয়ার সুবিধাদি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোনাহাট স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও উন্নয়ন করা হবে। কুড়িগ্রাম জেলা থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সোনাহাটের অবস্থান। তবে বাংলাদেশের অংশের নাম বঙ্গসোনাহাট। সোনাহাটে শুল্ক ও ইমিগ্রেশন বিভাগের অংশে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সোনাহাট জিরো পয়েন্ট থেকে ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প ছাড়া এখানে সরকারী কোন অফিস নেই।

নির্মিতব্য স্থলবন্দরের ভারতের অংশের নাম সোনাহাট। ভারতীয় অংশে সোনাহাটে এলাকাটি অসম রাজ্যের ধুবড়ী জেলার গোপালগঞ্জ থানায় অবস্থিত। তবে এ স্থানের খুব কাছে ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের অংশবিশেষ রয়েছে। সোনাহাট সংলগ্ন ভারতীয় অংশে ওয়্যারহাউজ, পার্কিং ইয়ার্ড, বাউন্ডারিসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

‘সোনাইহাট স্থলবন্দর উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সোনাহাট স্থলবন্দরটির অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে, ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি এ বছরের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে শেষ হবে। প্রকল্পের সমস্ত অর্থ সরকারী তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ১৪ দশমিক ৮৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ১ লাখ ৬৫ হাজার ঘন মিটার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৭ হাজার ৭শ’ বর্গমিটার রাস্তা, ১৩ হাজার বর্গমিটার ওপেন ইয়ার্ড, ১ হাজার ২০৮ বর্গমিটার ওয়্যারহাউজ ও ১ হাজার ৭৮ মিটার এলাকাজুড়ে ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করাসহ ১ হাজার ১২৮ রানিং মিটার ড্রেন, দুটি প্রক্ষালন কমপ্লেক্স, ফার্নিচার ও কম্পিউটার ক্রয় করা হবে। দুটি একশ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ওয়েব্রিজ সংগ্রহ করা হবে।

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৫

১৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অর্থ বাণিজ্য



শীর্ষ সংবাদ: