১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্পাদক সমীপে


পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোটানোর মানসিকতা দেখা গেলেও অবহেলিত থেকে যায় পরিবারের কাজের ছেলেটি কিংবা মেয়েটি। নতুন পোশাক পরিধান করে অন্য সবার মতো ওদের ঈদের দিন আনন্দ প্রকাশ করা হয় না। আপন সন্তানের চেয়ে বয়সে কম কিংবা সমবয়সী হলেও ওরা থেকে যায় অনাদরে-অবহেলায়। ওদের পরিচয়, ওরা তো কাজের লোক! ওদের আবার ঈদ কী? ঈদের দিন সকালেও ওদের কোন ফুরসত নাই। ভোর থেকে শুরু করে পরের দিন গভীর রাত পর্যন্ত ওদের কাজ বিরামহীন চলতেই থাকে। সকল মেহমানকে আপ্যায়ন করার দায়িত্ব ওদের। অন্যদের মধ্যে খুশি বিলালেও ওদের জীবন থেকে যায় হাসি-আনন্দের বাইরে।

বছরের অন্য দিনগুলোর সঙ্গে ওদের ঈদের দিনটিও কেটে যায় নানা কর্ম ব্যস্ততায়। ঈদের দিনকে আলাদা করে ভাবার কোন সুযোগ কিংবা পরিবেশ ওদের জীবনে দেখা যায় না। অথচ যে নবীর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আমরা ঈদ উদযাপন করছি সেই হযরত মুহম্মদ (সা) তাঁর জীবনের শেষ ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমরা নিজের জন্য যা পছন্দ করবে তোমার অন্য ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করবে, নিজে যা খাবে অন্য ভাইকেও তা খাওয়াবে, নিজে যা পরিধান করবে অন্য ভাইকেও তা পরিধান করাবে।’

সুতরাং শ্রেষ্ঠ মানবের এ উপদেশ থেকেই আমাদের শিক্ষা নেয়া আবশ্যক। ঈদের বাজারে যখন আপনজনদের জন্য কোন পোশাক ক্রয় করতে যাব তখন যেন বাসার কাজের মেয়েটি-ছেলেটির জন্যও পোশাক ক্রয় করা হয়। হোক সেটা কম দামের। ঈদ উপলক্ষে যদি বাসার অবহেলিত মানুষটিকে কিছু উপহার দেয়া হয় তবে তার চেয়ে খুশি এ পৃথিবীতে আর কে হবে? তার মুখের হাসির সামনে পৃথিবীর সকল হাসি সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাবে।

যদি বিশ্বাস না হয় তবে এই ঈদে পরীক্ষা করুন। তার হাসিমাখা মুখ দেখে আপনিও স্বর্গীয় সুখ পাবেন। ধর্ম, মানবতাসহ সকল দিকের বিবেচনায় ঈদের জন্য পোশাক ক্রয়ে গৃহকর্মীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করুন। আপনার একটি ক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত আরেকজনকে অনাবিল সুখ দিতে পারে।

রাজু আহমেদ

ৎধলঁ৬৯ধষরাব@মসধরষ.পড়স