২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢাকার দিনরাত


ঈদ মৌসুমে রাজধানীর শপিংমলগুলো রীতিমতো মৌচাক হয়ে ওঠে। মৌচাক ঘিরে যেমন থাকে মধুসন্ধানী ও মধুসঞ্চয়ী মৌমাছি, তেমনি শপিংমল ও শপিং সেন্টারগুলো ঘিরে থাকে ঈদের পোশাক সন্ধানী ও সংগ্রহকারীদের ভিড়। যদি বলি ঈদ মৌসুমে গোটা রাজধানীই হয়ে ওঠে এক জাতীয় মৌচাক- তাতে ভিড় করে আসে মধুসন্ধানী মানুষ, তাহলে খুব একটা ভুল বলা হবে না। ঈদ যত কাছে চলে আসে ততই ভিড় বাড়তে থাকে ঢাকায়। সাধারণত দু’শ্রেণীর মানুষ এ সময় বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে ভিড় করেন। এমনিতেই ঢাকা হলো লোকে ঠাসা, রাস্তাগুলো অতিরিক্ত গাড়িতে ঠাসা। তার ওপর বিশেষ কোন উপলক্ষে ঢাকায় নতুন আগমনকারী মানুষের ভিড়ে ঢাকা আরও ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

ঈদ মৌসুমে কারা আসেন ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে? ধনী এবং গরিব দু’শ্রেণীর মানুষই আসেন। শুধু ধনী বলা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজনও আসেন। উদ্দেশ্য একটাইÑ ঈদের বাজার করা। ঢাকার মহাবিত্তবানরা যদি ঈদ শপিং করার জন্য সিঙ্গাপুর ব্যাংকক যেতে পারেন, তাহলে দেশের মানুষ ঈদের কেনাকাটার জন্য রাজধানীতে কেন আসবেন না! আর গরিব মানুষেরা আসেন অর্থোপার্জনে। ঈদের সময়, আরও নির্দিষ্টভাবে বললে রোজার ঈদের সময় হাতে বেশ ক’টা দিন সময় নিয়ে গরিব মানুষেরা ঢাকায় আসেন। কোরবানির ঈদের সময়ও আসেন তারা, তবে সংখ্যায় কম। সেসময় কোরবানির মাংস সংগ্রহের একটা ব্যাপার থাকে। আর রোজার ঈদের সময় ফিতরা, যাকাত সংগ্রহ প্রধান উদ্দেশ্য ঢাকায় আসার। বলতে খারাপ লাগলেও সত্য হলো ঈদের আগে রমজানের শেষার্ধে গরিব মানুষেরা আসেন ভিক্ষা করতে। এ সময়টাকে তারা ভিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করেন। এদের সবার পেশা ভিক্ষাবৃত্তিÑ এমন নয়। অনেকেই মৌসুমি ভিক্ষুক। রমজানে মানুষ দান খয়রাত বেশি করেন। একটু চোখ কান খোলা রাখলেই জানা যায় আশপাশে অনেক নতুন মুখ ভিক্ষা করছে। সাধারণত মার্কেটগুলোর সামনে এবং বাস স্টপেজে এরা ভিক্ষা করেন। ঢাকা এভাবেই যুগপৎভাবে বহিরাগত ধনী ব্যক্তি এবং বিত্তহীন দরিদ্র মানুষের অনিবার্য সফরের স্থান হয়ে উঠেছে।

ঈদসংখ্যা ও ইফতার পার্টি

গত সপ্তাহে এই কলামে ইফতার পার্টি এবং ঈদসংখ্যা ম্যাগাজিন নিয়ে আলাদাভাবে কিছু কথা বলেছি। এবার দুটো মিলিয়ে বলতে চাইছি অল্পকথা। আশি ও নব্বই দশকে সাপ্তাহিক পত্রিকার ভেতর বিচিত্রা ও সন্ধানী, এমনকি রোববার ও পূর্বাণীরই ছিল ঈদসংখ্যা ম্যাগাজিন প্রকাশের ধারাবাহিকতা। এখন এগুলোর মধ্যে একটি পত্রিকাই বেঁচে আছে, যদিও তার ঈদসংখ্যা নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। এখন সাপ্তাহিক-পাক্ষিক পত্রিকার ভেতর দৃষ্টিনন্দন ঢাউশ ঈদ ম্যাগাজিন প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘অন্যদিন’কে এগিয়ে রাখতে হবে। ৪০০ পাতা দিয়ে শুরু করলেও এখন এ ঈদসংখ্যার পৃষ্ঠা ৭০০ ছুঁয়েছে। এতে নিয়মিত উপন্যাস বেরুতো হুমায়ূন আহমেদের। ম্যাগাজিনটির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে সেদিন ঢাকা ক্লাবে ইফতার পার্টির আয়োজনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লেখক-শিল্পী উপস্থিত হয়েছিলেন। এদের প্রত্যেকেরই লেখা বা ইলাসট্রেশন রয়েছে এবারের ঈদসংখ্যায়। কাপড়ের সুদৃশ্য ব্যাগে সবার হাতে একখানা করে টাটকা ঈদ ম্যাগাজিন তুলে দেন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। ড. আনিসুজ্জামান, আহমদ রফিক, সালেহ চৌধুরী থেকে শুরু করে তরুণতর লেখক নওশাদ জামিল, পিয়াস মজিদ পর্যন্ত বহুজনের আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল ঢাকা ক্লাবের বেঙ্গল লাউঞ্জ। এ ধরনের প্রীতি সমাবেশ লেখক-শিল্পীদের জন্য অক্সিজেনস্বরূপ।

রমজানে জলজট যানজট

গত সপ্তাহে আবার রাজধানীবাসী ভীষণ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা এবং রেকর্ড-ভাঙ্গা যানজটে। বার বার একই কথা লিখতে যেমন ভাল লাগে না, পাঠকেরও নিশ্চয়ই পড়তে বিরক্ত লাগে। কিন্তু কী আর করা, ঢাকা যে বার বার তার পুরনো রেকর্ডই বাজিয়েই চলেছে; ঢাকাবাসীর সবচেয়ে বড় ভোগান্তি ও বিড়ম্বনারও পুনঃপুনঃ পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চলেছে। আষাঢ় শেষের মাত্রাছাড়া গরমে টানা বৃষ্টি আশীর্বাদস্বরূপ বটে। অথচ জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়লে সেই আশীর্বাদই আবার অভিশাপ বলে মনে হয়। কী যে এক বৈপরীত্য! রোজার মাস বলেই এসব চেনা বিষয় আরও বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে ইফতারি করতে না পারা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকার কোটি কর্মজীবীর একজন হিসেবে আমিও তার বড় প্রমাণ। গত কয়েকটা দিন বিকেল সাড়ে চারটায় অফিস (ইস্কাটন) থেকে বেরিয়েও ইফতারির সময়ে বাসায় (উত্তরা) পৌঁছতে পারিনি একদিনের জন্যও। সবচেয়ে বেশি দেরি হয়েছে বৃহস্পতিবার। অফিস থেকে বেরিয়ে কাছেই বাংলামোটর মোড়ে এসে দেখেছি শত শত মানুষ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে। আর মীরপুর-মোহাম্মদপুর কিংবা উত্তরা-বালুঘাটÑ যে রুটেরই বাস আসুক না কেন সব ক’টি যাত্রীঠাসা। তবু বাসের পাদানিতে ঝোলার জন্য দু-চারজন প্রাণান্ত চেষ্টা চালান। যাহোক বাংলামোটর থেকে কারওয়ান বাজার পেরিয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথে রাস্তার ধারে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষারত। একইসঙ্গে হাজারো মানুষ হেঁটেও চলেছে। উত্তরাগামী এসি বাসের জন্য ফার্মগেটের লাইনে দাঁড়িয়ে দেখি মিনিট দশেকের মধ্যে ৪০-৫০ জন পেছনে দাঁড়িয়ে গেছেন। ঘণ্টায় একটি করে বাস এলে দশজন কি বিশজন ঠেলেঠুলে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে কোনমতে দেহটা গলিয়ে দেন বাসের ভেতর। আর নন এসি বাসগুলোর কথা কি আর বলব। এই একটি স্টপেজেই যদি দুই থেকে তিন ঘণ্টা হাজার হাজার মানুষ বাসের অপেক্ষায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে কতখানি কষ্ট হয় তা এই লেখা পড়ে কি বোঝা যাবে? তার ওপর যদি প্রচ- বৃষ্টি থাকে? সত্যি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতাই বটে! উত্তরা রুটে এসি বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রমজানে বিকেলবেলা সড়কে যানবাহনের প্রচ- চাপের কারণে যানজটেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে গাড়ি।

জাল টাকার ‘টাকশাল’!

ঢাকার বৈধ অবৈধ কত কিসিমের পেশাজীবী যে সক্রিয় তার ইয়ত্তা নেই। আবার একই পেশার হরেক রকম আদলও বর্তমান। ধরুন সেলুনের কথাই। প্রধানত চুল কাটানোর জায়গা। গালভরা হেয়ার ড্রেসার নামে ডাকলেও আদপে তো এখানকার পেশাজীবীর পরিচয় তিনি নরসুন্দর, সোজা বাংলায় নাপিত। বিশ্বের বড় বড় শহরের অভিজাত সেলুনের আঙ্গিকেও সেলুন কাম বিউটি পার্লার রয়েছে এই ঢাকায়। যা মেট্রোপলিটান সিটির স্বাভাবিক চিত্র। আবার গ্রামীণ আদলেও রয়েছে এখানে বিত্তহীনদের চুল কাটার সুবন্দোবস্ত। রাস্তার ধারের গাছে ছোট্ট আয়না ঝুলিয়ে সামনে একখানা হাতলভাঙ্গা চেয়ার বসিয়ে দিব্যি চলে চুল কাটা দাড়ি ছাঁটা। যাহোক কলিকালে নকল টাকা, তথা জাল টাকা তৈরির পেশাটিও গোপনে গোপনে কুটির শিল্পের রূপ পেতে চলেছে! সাংবাদিকতা পেশার আবরণে অভিনব সব অপরাধের দৃষ্টান্ত আর কত দেখা যাবে! আদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে ২৫ লাখ জাল টাকা এবং টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ দুজনকে গত সপ্তাহে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। জাল টাকা পরিবহনের জন্য মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লিখে দুর্বত্তরা চলাচল করতেন।

সেহরিতে জমজমাট

সময় বদলেছে। ঢাকার ভোজন রসিক এবং অভিনবত্ব সন্ধানী সচ্ছল মানুষ আজকাল মধ্যরাতে সেহরি খাওয়ার জন্য নামীদামী হোটেল-রেস্টুরেন্টের উদ্দেশে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। কেউ কিছু একটা শুরু করলে ঢাকায় তা ফ্যাশনে পরিণত হতেও খুব একটা সময় লাগে না। ফেসবুক সংস্কৃতির কল্যাণে এই হুজুগ বাড়তেও বিশেষ দেরি হয় না। অবশ্য শখের বশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরাও রেস্তরাঁর সেহরি চাখায় শামিল হচ্ছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বুয়েট-মেডিক্যালের ছাত্রাবাসগুলোয় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা রোজা রাখেন সেহরির সময়ে তাদের খাবারের একটা সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত ছাত্রাবাসের ভেতর কিংবা ছাত্রাবাস সংলগ্ন রেস্টুরেন্ট ছাত্রদের প্রয়োজনের দিকটি বিবেচনা করে সেহরির বন্দোবস্ত করে থাকে। সে কথা আলাদা। এখন রেস্তরাঁর সামনে ঝুলন্ত ব্যানারে থাকে সেহরির বিজ্ঞাপন। প্রতি মধ্যরাতে ৬০ থেকে ১০০ লোক আসছেন একেকটি নামী রেস্তরায়। রাতে ঢাকা শহরের ভিন্নরূপ, যানজটমুক্ত পরিবেশ। এ সময় সেহরি করতে বের হওয়াটা অনেকের কাছে রোমাঞ্চকরও বটে। তবে এ নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা ও সমালোচনাও কম হচ্ছে না। একজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেনÑ ‘তা বেশ! এই রুখাসুখা রমজানেও একখানা উৎসবের ইভেন্ট পাওয়া গেল বইকি!

সেহরি নাইট! সেখানে দেখা গেল নামকরা, দুর্নামকরা, বয়সী, মধ্যবয়সী, কমবয়সী, উঠতি, ঝড়তি, পড়তি সব নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, খেলোয়াড় মডেল পার্লার মালকিন রঙচঙ মেখে হাহাহিহিতে জবজবে হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।’

নামী-দামী হোটেল-রেস্তরাঁর অন্দরমহল

ঢাকার নামী-দামী রেস্তরাঁর বাইরের চাকচিক্য দেখে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারবে না যে, কী বিশ্রি অবস্থা চলছে সেখানে। এ নিয়ে তথ্যনিষ্ঠ একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছে জনকণ্ঠেই। আজাদ সুলায়মানের লেখা প্রতিবেদন থেকে খানিকটা অংশ তুলে দিচ্ছি।

‘টিকটিকি ও তেলাপোকার দৌড়ঝাঁপ। মাছির গুঞ্জন, মশার ভনভনানি। কর্দমাক্ত মেঝে। পাশের টয়লেটের দরজাটাও খোলা। সেখান থেকে আসে উটকো গন্ধ। উপরে আছে পাশের একটি ছাউনি। সেখান থেকে গড়িয়ে পড়ে পানি। পানি পড়ে তো, অন্য কোথাও নয়, ঠিক যেখানটায় রাখা হয় খাবারের হাঁড়ি। স্যুয়ারেজ ড্রেনের পাশেই হাঁড়ি পাতিল। এটি নাখালপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হাজী হোটেলের রান্নাঘরের চিত্র। ...

সুপারস্টারের মতো নামী-দামী হোটেলে দিনরাত ক্রেতার ভিড় থাকে। রাজধানীতে রয়েছে এর বেশ কয়েকটি শাখা। প্রতিটি শাখার বাইরের চিত্র খুবই পরিপাটি ও মনোরম। ভেতরের বসার স্থানও বেশ ঝকমকে। সুন্দর সাজানো গোছানো চেয়ার টেবিল ও থালা বাসন। এখানে বসলেই খাবারের রুচি হয়। কিন্তু কয়েক গজ দূরেই রান্নাঘর ও অন্দরমহলের যে চিত্র সেটা দেখলেই আতকে ওঠার মতো। রান্নাঘরে যে জায়গাটায় ডেক-ডেকচি রাখা হয়, যেখানে খাবার রান্না ও সংরক্ষণ করে রাখা হয়, সেটার মান কোনটাই গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন।...’

মৌসুমী ডিজাইনার

শিল্পীমনের ছোঁয়া

ভারতীয় বাংলা এবং হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকাদের পরিহিত পোশাক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ঈদের পোশাক বানিয়ে বাজার মাত করতে দেখছি আমরা অধুনা কয় বছর। এটা অস্বীকার করব না, সমাজবাস্তবতাই এমন যে, কী গ্রাম কী শহরÑ সর্বত্র গৃহিণী দর্শকদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দি সিরিয়াল। এসব সিরিয়ালে পারিবারিক জটিলতা, অন্ধ ধর্মবিশ্বাস বা ধর্মীয় কুসংস্কার এবং পরকীয়াই প্রধান উপজীব্য। গৃহিণীরা এসব গোগ্রাসে গেলেন। ব্যবসায়ীরা বোঝেন এই মনোস্তত্ত্ব। তাই সেভাবেই পোশাকের বাজার তৈরি করেন, বাজারে সাপ্লাই দেন। নায়িকার পোশাকের অনুকরণে তৈরি এমন দুতিনটে থ্রিপিস হিট হয়েছে ঈদের বাজারে। তাই বলে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির নক্সাসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গে তৈরি পোশাকের চাহিদা মুখ থুবড়ে পড়েনি। শিক্ষিত রুচিবান সংস্কৃতিবান ক্রেতারা দেশীয় পোশাক নির্মাতাদের পোশাক ঠিকই বেছে নিচ্ছেন ঈদের পোশাক হিসেবে। দেখতে দেখতে বর্তমানে শতাধিক দেশীয় পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাজারে ঈদের পোশাকের যোগান দিতে হিমশিম খান। অন্তত এক কুড়ি প্রতিষ্ঠান রীতিমতো ব্র্যান্ড হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। এরা নিজেদের শিল্পী তথা নক্সাকার এবং কারিগরদের মাধ্যমে পোশাক তৈরি ও যোগান দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না। তাই ভরসা করেন ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়ের শিল্পী ও কারিগরদের ওপর। ফলে ঈদ পোশাক শিল্পে নিয়োজিত হন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডিজাইনার-দর্জি-কর্মীবৃন্দ। এরা তো আছেনই। কিন্তু দোকান নেই, নামধামের প্রতিযোগিতায় যাননি এমন বহু নারী ও পুরুষ আছেন যারা তাদের অন্তর্গত শিল্পীসত্তার প্রেরণা ও তাগিদ থেকে ঈদ মৌসুমে পোশাক ডিজাইন করে থাকেন। নামমাত্র মুনাফায় এসব তারা বন্ধুমহলে বিক্রি করেন। কেউ যেচে তাদের তৈরি পোশাক শোরুমে রাখতে চাইল সম্মত হন বটে। যদিও এরা শাড়ি বা থ্রিপিস তৈরি করেন যেমন মনের মাধুরি মিশিয়ে একেবারে নিজস্ব ঢঙে দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়ায়Ñ তেমনি এরা চান ক্রেতারা মুগ্ধ হয়ে মন থেকেই এসব পোশাক কিনুক। এ রকম একাধিক ডিজাইনারের কাজ দেখে মনে হয়েছে আমাদের আশপাশেই কতই না এমন সৃজনশীল মানুষ রয়েছেন যারা একটি প্রধান উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে এবং দেশের ঐতিহ্যের পতাকা উর্ধে তুলে ধরতে নিভৃত চর্চাকারে চলেছেন। এমন নিভৃতচারী ডিজাইনারের পোশাক প্রদর্শনীর জন্য যদি কোন সংস্থা এগিয়ে আসত তবে অতিবিজ্ঞাপিত এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী অভিনব পোশাকের ধারার সমান্তরালে বাঙালীর সৃষ্টিশীলতার আরও নমুনাও আমাদের চোখের সামনে প্রতিভাত হতে পারত। ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নায়িকাদের পোশাকের পাশাপাশি সেসব পোশাকও স্বতন্ত্র্য ঔজ্জ্বল্যে বিকশিত হওয়ার পথ পেত।

এবং বাঘের গর্জন

জিতলে বাঘ আর হারলে বিড়ালÑ অনুসারী দর্শকদের কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এমনটাই যেন পরিচয়। পাকিস্তান ও ভারতকে দুর্দান্তভাবে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে শোচনীয় পরাজয় দেখে যাদের হতাশায় তলিয়ে যাওয়ার দশা হয়েছিল, রবিবারের ম্যাচ তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দারুণ শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি দলকে সীমিত ওভারের ম্যাচে গর্ব করার মতো সীমিত রানের অঙ্কে বেঁধে ফেলে চমক লাগিয়ে দেয় টাইগাররা। ব্যাটিং করতে নেমে অল্প রানের ভেতর দুজন ব্যাটসম্যানকে হারালেও পরে সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ চমৎকার জুটি গড়ে তুলে দলকে দাপুটে এক জয় এনে দেয়। এর ফলে নিশ্চিত হলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা। সাবাশ বাংলাদেশ।

১৩ জুলাই ২০১৫

সধৎঁভৎধরযধহ৭১@মসধরষ.পড়স