২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

অনুমতি ছাড়া সরকারী কর্মচারীদের গ্রেফতার করা যাবে না


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ফৌজদারি মামলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারী কর্মচারীদের গ্রেফতার করা যাবে না এমন বিধান রেখে সরকারী কর্মচারী আইন-২০১৫ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে মাঠ প্রশাসনে পাঁচ বছর কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা ‘আর্মি (সংশোধন) এ্যাক্ট’-২০১৫ ও ‘এয়ারফোর্স (সংশোধন) এ্যাক্ট’-২০১৫ এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র অধ্যাদেশ-২০১৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের একথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারী কর্মচারী আইনের খসড়ায় আছে, ফৌজদারি মামলা হলেই সরকারী কর্মচারীদের গ্রেফতার করা যাবে না। গ্রেফতার করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। তবে ওই মামলায় অভিযোগপত্র দেয়ার পর আদালত তা অনুমোদন করলে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি লাগবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অনেক বছর ধরে এই আইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারী কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা বিধান প্রভৃতির জন্য এই আইন করা জরুরী ছিল। মন্ত্রিসভা এটির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের ভ্যাটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পুনরায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।

সচিব আরও বলেন, আইনের খসড়ায় ১০টি ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। এই বিধিমালার মাধ্যমে সরকারী কর্মচারীদের চাকরি নিয়ন্ত্রিত হবে। এতদিন সরকারী কর্মচারীরা কিভাবে পরিচালিত হবে- প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংবিধানে বলা আছে, আইন না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য বিধিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ফৌজদারি মামলা হলেই সরকারী কর্মচারীদের গ্রেফতার করা যাবে না। আদালত মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন করলে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি লাগবে না। এর আগে গ্রেফতার করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে সরকারী কর্মচারীরা যদি চাকরি বিধি লঙ্ঘন বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। এটি আইনের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র অধ্যাদেশ ॥ পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনায় একটি সরকারী কোম্পানি গঠনের সুযোগ রেখে একটি অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ এটোমিক এনার্জি কমিশন রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করছে। এই কেন্দ্র বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য সরকারী কোম্পানি গঠনে অধ্যাদেশের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সরকার দেবে ১ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ এবং বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে রাশিয়া।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে পরিচালনা পদ্ধতি ঠিক করতে একটি কোম্পানি গঠন করা দরকার। বাংলাদেশ ও রাশিয়া মনে করে সরকারী মালিকানাধীন কোম্পানি গঠন প্রয়োজন। কোম্পানি গঠিত হয় কোম্পানিজ আইনের অধীনে, কিন্তু এটা হাইটেক প্রকল্পের কারণে বিদ্যমান আইনে পরিচালনা কঠিন হবে। এজন্য একটি আইনের আওতায় কোম্পানি গঠনের কথা বলা হয়।

গত ৪ মে মন্ত্রিসভায় ‘পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র আইন, ২০১৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হলেও কাজটি জরুরী হয়ে পড়ায় সংসদ অধিবেশন না চলার কারণে আইন পাসের সুযোগ না থাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এই অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়।

এখন রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে অধ্যাদেশ জারি হয়ে যাবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর সংসদ অধিবেশন বসলে অধ্যাদেশটি উত্থাপন করা হবে আইনে পরিণত করার জন্য।

‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে এই কোম্পানি ভবিষতে অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনা করবে।

কোম্পানিতে একটি ওনার অর্গানাইজেশন থাকবে, তা হবে ‘এ্যাটমিক এনার্জি কমিশন।’ আর অপারেটিং অর্গানাইজেশন হিসেবে থাকবে ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।’ এতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বেটার ম্যানেজমেন্ট হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সচিব বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা না থাকায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নীতিমালা মেনে রূপপুরে সব কাজ করা হচ্ছে। কোম্পানি পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব চেয়ারম্যান হবেন। এছাড়া সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ ১২ জন পরিচালক থাকবেন। প্রকল্প পরিচালক হবেন কোম্পানির প্রথম এমডি। ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়িত প্রকল্প ২০২১ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হবে বলে আশা করছে সরকার।

সৈয়দ আশরাফ অনুপস্থিত ॥ দফতর হারানোর পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বৈঠকের পর পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে আশরাফের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন। উত্তরে তিনি বলেন, বৈঠকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না। তার মানে এই নয় যে, আগামীতে তিনি আসবেন না।

সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরালেও দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৯ জুলাই তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা শোভিত গাড়ি নিয়েই অংশ নিতে দেখা গেছে আশরাফকে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য সৈদয় আশরাফকে ‘কেবিনেট ফোল্ডার’ পাঠানো হয়েছিল কি না- সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সৈয়দ আশরাফকে ‘কেবিনেট ফোল্ডার’ পাঠানো হয়েছিল কি না- সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কোন কর্মকর্তাই সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যে মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী রয়েছেন সেসব মন্ত্রণালয়ের শুধু মন্ত্রী মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নিতে ‘কেবিনেট ফোল্ডার’ পান। ওই সব মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের তিন মাস পর পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য ফোল্ডার পাঠানো হয়।

সৈয়দ আশরাফকে সরানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিসভায় আরও কোন রদবদল হচ্ছে কি না- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে সচিব মোশাররাফ বলেন, “রিশাফল হয়ে যাওয়ার পর জেনে যাবেন। এ্যাজ আর্লি পসিবল প্রেসরিলিজ দিয়ে দেব। আমাদের ওয়েসবাইটেও দেখতে পাবেন।”

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: