১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিশু রাজনের নৃশংস হত্যায় সর্বত্র নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় ॥ ফুঁসে উঠেছে মানুষ


শিশু রাজনের নৃশংস হত্যায় সর্বত্র নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় ॥ ফুঁসে উঠেছে মানুষ

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ শিশু সামিউল আলম রাজনের নৃশংস হত্যাকা-ে হতবাক বিশ্ববিবেক। নির্যাতনের ভিডিওচিত্র দেখে চোখ ধরে রাখা যায় না। বর্বরোচিত এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ২২ গ্রামের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। রবিবার রাত এগারোটায় গ্রামবাসীর বৈঠক থেকে খুনীদের ধরতে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। রাজন হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামি মুহিত আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রাজনের ময়না তদন্ত রিপোর্টে শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নির্যাতন ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। রাজন হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ- বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাজন হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে ইসমাইল হোসেন আবলুছ নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ইসমাইল জালালাবাদ থানার মিরেরগাঁও এলাকার ইব্রাহিম আলীর ছেলে। মূল আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ঘটনার দিন রাজনকে হত্যা করে তার লাশ গুম করে ফেলার সময় গ্রামবাসী মুহিত আলম নামের এক আসামিকে ধরে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। এর পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে আসামি কামরুল সৌদিতে গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন রাত এগারোটা পর্যন্ত শিশু রাজনের লাশ অজ্ঞাত হিসাবেই ছিল। রাজনের বাবা আজিজুর রহমান প্রথমে থানায় গিয়ে লাশের পরিচয় জানতে চাইলে এসআই আমিনুল রাজনকে চোর বলে উল্লেখ করে মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা দেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। রাজনের বাবা আজিজুর রহমান জানান, অনেক সময় হত্যাকা-ের ঘটনার ২/৪ দিনেও পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয় না কিন্তু এই ঘটনার দিন রাত এগারোটার আগেই পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা রেকর্ড করে। রাজনের বাবা থানায় গিয়ে মামলা দিতে চাইলে এসআই আমিনুল তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘চোর চুট্টা জন্ম দিয়েছো, আবার থানায় মামলা দিতে এসেছ। একটা মামলা হয়েছে আর না।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই এসআই আমিনুল যে মার্কেটের সামনে ঘটনা ঘটে সেখান থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলেন। সে সময়ও নির্যাতনকারীরা মার্কেটের ভেতরেই অবস্থান করছিল। তখনই জড়িতদের আটক করা সম্ভব হতো। এই ঘটনার পর পুলিশী তৎপরতা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের তৎপরতা রুখতে স্থানীয় জনগণ সোচ্চার হলেও পুলিশের কোন ভূমিকা নেই। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী মাদকসেবীদের আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দিলে তারা এটাকে পুলিশী তৎপরতা দেখিয়ে ক্রেডিট নিতে চান। শিশু রাজন হত্যার পর প্রথম দিকে ছিল গতানুগতিক ঢিলেঢালা ভাব। এরপর ভিডিও ফুটেজ প্রচারের পর পুলিশ কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। যে কোন মূল্যে তারা খুনীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানান। এই বিষয় নিয়ে এখন এলাকার আবাল বৃদ্ধ বনিতা মাঠে সোচ্চার। প্রতিদিন স্থানে স্থানে সভা সমাবেশ হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে প্রজেক্টের মাধ্যমে রাজন হত্যার ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। বৃহত্তর কর্মসূচী নিয়ে এলাকাবাসী মাঠে নামছেন। এদিকে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান এলাকাবাসীসহ সিলেটবাসীর কাছে তাকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবে আর যেন কোন পিতাকে তার সন্তানের নির্মম মৃত্যু দেখতে না হয়। সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া রাজনের খুনীকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। জালালাবাদ থানার ওসি জানান, রাজন হত্যাকারীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও রাজনের বাবার দেয়া এজাহারও নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার মুহিতের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার অগ্রগতি হবে।

শরীরে ৬৪ আঘাতের চিহ্ন ॥ শিশু রাজনের লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাসমিনা ইসলাম। প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই রাজনের মৃত্যুর কারণ। তার শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

৫ দিনের রিমান্ডে মুহিত ॥ শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি মুহিদ আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার সকালে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালতে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রবিবার মুহিত আলমের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। মহানগর হাকিম আদালত-২ এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মূল হোতা কামরুল সৌদিতে আটক ॥ রাজন হত্যাকা-ের মূল হোতা কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে আটক করে পুলিশে দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটার দিকে জেদ্দার জামেয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে সৌদি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে সৌদি আরব সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রবাসীরা তাকে আটক করে। বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কন্সাল জেনারেল (জেদ্দা) মোকাম্মেল হোসেন সৌদি প্রবাসী সাংবাদিকদের কাছে এ খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যেহেতু কামরুলের নামে সৌদি আরবে কোন মামলা নেই, তাই সৌদি পুলিশ তাকে আটকে রাখবে না। তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ

২২ গ্রামের বৈঠক ॥ খুনীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে রবিবার রাতে ২২ গ্রামের মানুষ কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে নিহত সামিউলের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়েছে, ২৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওচিত্র থেকে নির্যাতনকারী চিহ্নিত এবং তাদের মুখচ্ছবিকে বড় করে তারা পোস্টার তৈরি করেছেন। ওইসব পোস্টার নগরের কুমারগাঁও বাসস্টেশন থেকে শুরু করে সামিউলের গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রাম পর্যন্ত সাঁটানো হয়। রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাজারো জনতা খুনীদের গ্রেফতারে প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। অন্যথায় গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়।

বৈঠকে বাদেআলী, অনন্তপুর, পাইকারগাঁও, ইনাথাবাদ, খানুয়া, হাজরাই, হকলামপুর, তাজপুর, দিঘীরপার, বসন্তরাগাঁও, গোস্তরগাঁও, পূর্বদশাগাঁও, পশ্চিমদশা গাঁও, মেদিনিমহল, সুজাতপুর, বাছিরপুর, মীরগাঁও, মইয়ারচর, কুমারগাঁও, নোয়াকুরুখলা, সোনাতলা ও বাওনপুর গ্রামের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমদশা গাঁওয়ের মুরব্বি আশফাক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাদেআলী গ্রামের লিয়াকত আলী মাসুক, সমসের আলী, আকরম আলী মাসুক, ফারুক মিয়া, মোঃ আলী দুদু মিয়া, আবদুল মালিক, অনন্তপুর গ্রামের মুরব্বি আবদুজ জাহির মেম্বার, জসিম মিয়া, আবদুল মছব্বির, পূর্বদশা গাঁওয়ের আবদুল মনাফ, বাছিরপুর গ্রামের আবদুল মতিন, মীরগাঁওয়ের তেরা মিয়া মেম্বার, বসন্তরগাঁওয়ের শামসুল হক, মেদিনিমহল গ্রামের আবদুল হাসিম, দিঘীরপার গ্রামের শাবাজ আলী, পাইকারগাঁও গ্রামের আবদুল কাদির, সাজিদ মিয়া, ইনাথাবাদ গ্রামের আলতা মিয়া, তাজপুর গ্রামের সায়েদ আহমদ প্রমুখ।

এদিকে ২২ গ্রামবাসীর বৈঠকের খবর পেয়ে নগরীর জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন বাদেআলী গ্রামে উপস্থিত হন। তিনি সামিউল হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হবে বলে এলাকাবাসীকে আশস্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি মায়ের ॥ সন্তানহারা মা রুবনা বেগম পুত্র রাজন হত্যাকারীদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সোমবার বিলাপ করে তিনি বলেন, ‘পানির লাগি আমার সন্তানে ছটফট করছিলো। মৃত্যুর আগে এক ফুটা পানিও তারে খাওয়াইছে না তারা। ওরা কাফির, ওরা মুনাফিক। আমার নিরীহ বাচ্চাটারে যেলাখান (যেভাবে) মারছে, আমিও তারা হকলর (সকলের) ফাঁসি চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার করুন।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্মম নির্যাতনের পর মেরে ফেললো ওরা। আমার ছেলেকে তো ফিরে পাব না। তবে এসব হত্যাকারীদের এমন শাস্তি চাই যে, আমার মতো আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’

পুলিশের বক্তব্য ॥ খুনীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত একজনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে এবং আরও একজন গ্রেফতার হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’

নির্যাতনের ভিডিওতে যা ছিল ॥ রাজনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের একটি দোকানঘরের বারান্দার খুঁটিতে সামিউলকে বেঁধে রাখা হয়েছে। খুঁটির সঙ্গে তার দুই হাত পেছন দিক করে বাঁধা। রোলার দিয়ে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত থেমে থেমে চলছিল আঘাত। বাঁধা অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করছিল সামিউল, ‘আমি মরি যাইয়ার! কেউ আমারে বাঁচাও রে বা!’ এতেও বন্ধ হয়নি নির্যাতন। শেষে আকুতি, ‘আমারে পানি খাওয়াও!’ তখন তাঁর চোখ-মুখ বেয়ে অঝোরে ঘাম ঝরছিল। তাঁকে বলা হলো ‘পানির বদলা ঘাম খা!’

সামিউলকে পেটানোর সময় নির্যাতনকারীরাই ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। ভিডিওচিত্রে তিন-চারজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেলেও ভিডিওধারণকারী আরও দুজনের কথাবার্তা ও আগন্তুক একজনের উপস্থিতি ছিল।

শুরুতে ‘এই ক (বল) তুই চোর, তোর নাম ক...কারা আছিল...’ বলতে বলতে চুলের মুঠি ধরে সামিউলকে মারধর করা হয়।

নির্যাতনের একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের জন্য তার হাতের বাঁধন খুলে হাঁটতে দেওয়া হয়। ‘হাড়গোড় তো দেখি সব ঠিক আছে, আরও মারো...’ বলে সামিউলের বাঁ হাত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে আরেক দফা পেটানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে মারা যায় সামিউল। পরে তার লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়। ছবিটি ভিডিওচিত্র থেকে নেয়া। মারধর করার সময় একদিকে সামিউলের আর্তচিৎকার, আর অন্যদিকে নির্যাতনকারীদের মুখে অট্টহাসিসহ নানা কটূক্তি শোনা যায়।

যে ভিডিও ধারণ করার কাজটি করছিল, তাকে নির্দেশ করে নির্যাতনকারীরা জানতে চায় ঠিকমতো ভিডিও ধারণ হচ্ছে কি না। একজনকে তখন বলতে শোনা যায়, ‘ফেসবুকে ছাড়ি দে, এ তো খাঁটি চোর! সারা দুনিয়ার মানুষ দেখব...’। শেষ দিকে সলা-পরামর্শও চলে। নির্যাতনকারী একজন সঙ্গীদের কাছে জানতে চায়, ‘কিতা করতাম?’ অপর একজনকে তখন বলতে শোনা যায়, ‘মামায় যে কইছন, ওই কাম করি ছাড়ি দে!’

সামিউলের বাবা শেখ আজিজুর রহমান মাইক্রোবাসচালক। তার দুই ছেলের মধ্যে সামিউল বড়। আজিজুর জানান, তিনি যেদিন ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালাতে পারেন না, সেদিন সংসার খরচ চালাতে সবজি বিক্রি করতে বের হয় সামিউল।

খুনীদের ছাড় দেয়া হবে- স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ॥ শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যায় জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ঘটনাটি প্রকাশের পর তা নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সোমবার বিকেলে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘ঘটনাটি হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী। একজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

মানববন্ধন ॥ খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ যুবমৈত্রী সিলেট জেলা শাখা। এতে বক্তব্য রাখেন জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান আহমদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সিকন্দর আলী প্রমূখ।

‘জাগো নাগিনীরা জাগো, জাগো কালবোশেখীরা শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাপুক বসুন্ধরা’ এই সেøাগান নিয়ে শিশু রাজন হত্যার বিচারের দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

সোমবার বেলা আড়াইটায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক পংকজ দে, দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি খলিল রহমান, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নাট্যকর্মী আবিদ খান হৃদয়, ডিপময় চৌধুরী, দেওয়ান গিয়াস, এরআর জুয়েল প্রমুখ।

ফেসবুক ও অনলাইনে নিন্দার ঝড় ॥ শিশু রাজন হত্যার ভিডিও চিত্র প্রকাশের পর গত দুদিন থেকে দেশে বিদেশে ফেসবুক ও অন লাইনে প্রতিবাদ নিন্দার ঝড় উঠেছে। লোমহর্ষক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিরা স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এখানে খুনীদের নরপশু হিসেবে আখ্যায়িত করে এদের জন প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সে সঙ্গে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা প্রদর্শনের অভিযোগ উত্থাপন হচ্ছে জোরালোভাবে। এত মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন আসামি বিদেশ পাড়ি জমালো কি করে। তাছাড়া ভিডিও ফুটেজে খুনীদের সচিত্র অবস্থান থেকেও বুঝতে অসুবিধা হয় যে খুনী কারা?

দুই প্রত্যক্ষদর্শী আটক ॥ বিডিনিউজ জানায়, সামিউল আলম রাজনকে নির্যাতনের ঘটনাটি দেখেছিলেন, এমন দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। নির্যাতনের ঘটনা দেখেও তা ঠেকাতে কুমারগাঁওবাসীর এগিয়ে না আসা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সোমবার রাতে এই দুজনকে আটকের কথা জানান জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন। রাত ১১টার দিকে কুমারগাঁও থেকে আজমত উল্লাহ (৫৫) ও ফিরোজ আলী (৬০) নামে ওই দুই ব্যক্তিকে ধরে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ওসি বলেন, ‘নির্যাতনের সময় তারা ঘটনা দেখলেও প্রতিবাদ করেননি।’ ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানায়। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলেও মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তা আক্তার হোসেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: