২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জাপানী প্রযুক্তিতে প্রথম ভূমিকম্প সহনশীল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি পোশাক কারখানা ভূমিকম্প সহনশীল করা হয়েছে। জাপানের সহযোগিতায় রেট্রোফিট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আশুলিয়ার ডি কে নীটওয়্যার লিমিটেডকে ভূমিকম্প সহনশীল করা হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ২১৪টি পোশাক কারখানা ভূমিকম্প সহনশীল করতে সহায়তা করবে জাপান। রবিবার ঢাকায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, রেট্রোফিট প্রযুক্তির মাধ্যমে জাপানের সরকারী সংস্থা জাইকার সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আশুলিয়ার ‘ডি কে নীটওয়্যার লিমিটেড’ পোশাক কারখানা ভূমিকম্প সহনশীল কারখানায় পরিণত করা হয়েছে। জাপানী রেট্রোফিট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রকৌশলী ও জাইকার বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় এই পোশাক কারখানাটি ভূমিকম্প সহনশীল করা হয়। রেট্রোফিট হলো এমন এক প্রযুক্তি যার মাধ্যমে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন না ভেঙ্গে তা মজবুত ও ভূমিকম্প সহনশীল করা যায়।

সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর জাপান সরকার বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও শ্রমিকের নিরাপত্তার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকা। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার ঋণ তহবিল গঠন করে। জাইকার আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভূমিকম্প সহনশীল মজবুত পোশাক কারখানা তৈরিতে দেশের ৩০০টি পোশাক প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সেখান থেকে ২১৪টি পোশাক কারখানাকে চিহ্নিত করে জাইকা ‘পাবলিক ভবনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে রেট্রোফিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার-(সিএনসিআরপি)’ শীর্ষক এই প্রকল্প গ্রহণ করে। সিএনসিআরপি’র আওতায় গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলী ও জাপানী বিশেষজ্ঞরা এসব ভবনে নিরীক্ষা চালায়। পরীক্ষা শেষে ২১৪টি পোশাক কারখানাকে ভূমিকম্প সহনশীল করার জন্য চিহ্নিত করা হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় সিএনসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত আশুলিয়ার ডি কে নীটওয়্যার লিমিটেডকে সহজ শর্তে ৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীল করা হয়েছে। ডি কে নীটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এ কিউ এম জাহিদ বলেছেন, ডি কে পোশাক কারখানার বর্তমান ভবনটি কারখানা করার উদ্দেশ্যেই আমরা নির্মাণ করেছিলাম। তাই ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমাদের ভবনটি ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০০৬ এর আগেই নির্মাণ করা হয়। আমরা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম আমাদের ভবনটি বিএনবিসি ২০০৬ অনুযায়ী নিরাপদ। এ জন্যই আমরা জাইকার কাছে ঋণের জন্য আবেদন করেছিলাম। তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, রেট্রোফিট প্রযুক্তি ব্যবহার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কর্মক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক উভয়েরই নিরাপত্তার জন্য এ প্রযুক্তি স্বস্তি দায়ক।

জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি হিরোইউকি তোমাতা বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রানা প্লাজার মতো ট্র্যাজেডির যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ জরুরী। খুব শীঘ্রই জাইকা বাংলাদেশে নিরাপদ পোশাক কারখানা নিশ্চিত করতে বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে ডি কে পোশাক কারখানার পাশাপাশি তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনকে রেট্রোফিটের কাজ শেষ করেছেন জাইকা বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা।

সূত্র জানায়, জাইকার সিএনসিআরপি প্রকল্পের আওতায় জাপানী বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের স্থানীয় প্রকৌশলীদের রেট্রোফিট প্রযুক্তি বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষিত করেছেন। এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশের পুরনো জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় করার লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদফতরের ২৫ জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেবে জাপান।

জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইউশিরো ওহিতো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জাপান-বাংলাদেশের যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর সেপ্টেম্বরে জাপান সফরে গেলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সে সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সহায়তার আশ্বাসও দেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: