২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কর্মসৃজনে ভাগবাটোয়ারা


নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ১২ জুলাই ॥ মহাজোট সরকার অতিদরিদ্রদের কর্মহীন মৌসুমে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে ৪০ দিনের কর্মসৃজন (ইজিপিপি) কর্মসূচীতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও প্রশাসনের অসততা ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে বাস্তবে ভাল ফল আসছে না। কতিপয় সরকারী কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট অনেক ক্ষেত্রে গরিবের মজুরির এ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মহাজোট সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাবনার ৯ উপজেলার ১৩ হাজার ৫শ’ ৩৫ শ্রমিকের কর্মহীন সময়ের কর্মসংস্থানে ১২ কোটি ১৬ লাখ ১৯ হাজার ৯শ’ ৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে পাবনা সদরে ২ হাজার ৯শ’ ৩ শ্রমিকের পারিশ্রমিক ২ কোটি ৫৯ লাখ ১৫ হাজার ৫শ’ ৫৫ টাকা, সুজানগর উপজেলার ১ হাজার ৬শ’ ৭৪ শ্রমিকের কর্মসংস্থানে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বেড়া উপজেলার ১ হাজার ৫শ’ ২৪ শ্রমিকের কর্মসংস্থানে ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৬শ’ ৬৬ টাকা, সাঁথিয়া উপজেলার ২ হাজার ১শ’ ১৬ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ১ কোটি ৯০ লাখ ৮ হাজার ৮শ’ ৮৮, ফরিদপুর উপজেলার ৬শ’ ৮৬ শ্রমিকের কর্মসংস্থানে ৬২ লাখ ১৭ হাজার ৭শ’ ৭৭ টাকা, ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৬শ’ ৫১ শ্রমিকের কর্মসংস্থানে ৫৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬শ’ ৬৬ টাকা, চাটমোহর উপজেলার ১ হাজার ৬শ’ ২৬ শ্রমিকের কর্মসংস্থানে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা, আটঘরিয়া উপজেলার ৮শ’ ৩৮ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ৭৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮শ’ ৮৬ টাকা, ঈশ্বরদী উপজেলার ১ হাজার ৫শ’ ১৭ শ্রমিকের কর্মসংস্থানে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ২শ’ ২২ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কর্মসূচী ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১০ জুন শেষ করা হয়। এজন্য প্রকল্প শুরু আগেই ইউনিয়নভিত্তিক শ্রমিকদের জবকার্ড নির্ধারণ ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে সামাজিক প্রকল্প ঠিক করা হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের ২শ’ টাকা মজুরি ধরা হয়। এ প্রকল্পের চেয়ারম্যান হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব প্রকল্পের সদস্য সচিব, একজন শ্রমিক সর্দার ও একজন সরকারী ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়ে এ প্রকল্প কমিটি করা হয়। প্রকল্প কমিটি জবকার্ড ভিত্তিক শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা স্বাক্ষর করে বিলভাউচার উপজেলা পিআইও অফিসে দাখিল করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট সমঝোতার ভিত্তিতে এ টাকার বড় অংশ লুটে নিয়েছে। পাবনা সদর উপজেলার বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেকের বেশি ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদরের দোগাছি ইউনিয়নের ৪শ’ ৮০ শ্রমিকের বরাদ্দকৃত মজুরির সর্বোচ্চ ২০ ভাগ কাজ হয়েছে। ভাড়ারা, মালঞ্চি, আতাইকুলা, হেমায়েতপুর ইউনিয়নে অর্ধকের বেশি টাকাই লুটপাট করা হয়েছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২৫টি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকা ভাগবন্টন করা হয়েছে। এ উপজেলার খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নে ১০% কাজও হয়নি। ম-ুতোষ, অষ্টমনিষা, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নেও নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া, ছাইকোলা, গুনাইগাছা ইউনিয়ন, ডিবিগ্রাম, পার্শ্বডাঙ্গা, ফৈলজানা, মথুরাপুর ও বিলচলন ইউনিয়নের ৩৯টি প্রকল্পে সবটিতেই কমসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, ফরিদপুর উপজেলায় নামমাত্র কাজ করে গরিবের মজুরি আত্মসাত করা হয়। পাবনা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন উপজেলার কর্মকর্তা আঃ করিম এ কর্মসূচীর টাকা লুটপাটের বিষয় প্রকারান্তে স্বীকার করে বলেছেন, ৪৪টি প্রকল্প দেখভাল করা একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এ প্রকল্পে লুটপাট হতেই পারে। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান একই সুরে জানিয়েছেন, আমরা স্যাম্পল প্রকল্প দেখি তাই দুর্নীতি হতেই পারে।

কক্সবাজারে কাজ শেষ না করেই টাকা উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার থেকে জানান, উখিয়া ও টেকনাফে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন কর্মসূচীর কাজ শেষ না করে দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিরা টাকা উত্তোলন করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন মাত্র শ্রমিক দিয়ে রাস্তায় নামমাত্র কাজ করে শত শত শ্রমিকের নামে মাস্টাররোল দেখিয়ে আত্মসাত করা হচ্ছে সরকারী টাকা। ওই দুই উপজেলায় এখনও কর্মসৃজন কর্মসূচীর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। তবে টাকা উত্তোলন হয়ে গেছে ব্যাংক থেকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষ হচ্ছে দেখে বরাদ্দের টাকা ফেরত গেলে লাভ নেই ধারণায় তড়িঘড়ি করে সরকারী টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শ্রমিক ছাড়া টাকা না দেয়ার নিয়ম থাকলেও টেকনাফ ও উখিয়ায় ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আঁতাত করে স্ব স্ব প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্যরা শ্রমিকদের কাছ থেকে আগাম দস্তখত-টিপসহি আদায় করে টাকা উত্তোলন করছে ব্যাংক থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তার জন্য ৫ শতাংশ হারে বখশিশ দিয়ে শ্রমিকদের জব কার্ডগুলো বুঝিয়ে দিলে অনায়সে টাকা প্রদান করে থাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ঈদ আসছে বলে সবখানে পার্সেন্টিস বেড়ে গেছে। ট্যাগ অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)সহ অন্য কমিটিসমূহকে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকার ৫০ শতাংশ প্রদান করতে হচ্ছে। বাকি টাকা দিয়ে শ্রমিক ও একশ্রেণীর সাংবাদিকসহ অন্যান্য খাতে চাহিদা মিটাতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। ফলে আমাদের কাক্সিক্ষত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি কাজ করতে পারছি না।