২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মোহামেডান-ব্রাদার্স ম্যাচ নিষ্প্রাণ ড্র


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক দল জিতলে চার থেকে দুই নম্বরে, আরেক দল জিতলে পাঁচ থেকে চার নম্বরে উঠবে ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলে রবিবার দ্বিতীয় লেগের একমাত্র ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের সামনে ছিল এমনই সমীকরণ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় কেউ জেতেনি, আবার কেউ হারেওনি। অর্থাৎ খেলা ড্র (গোলশূন্য) হয়। প্রথম পর্বের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য ব্রাদার্স হারিয়েছিল মোহামেডানকে ১-০ গোলে। ফিরতি মোকাবেলায় গোপীবাগের ব্রাদার্সকে হারিয়ে প্রতিশোধটা আর নিতে পারল না ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহামেডান।

এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ জয়হীন হয়ে রইল ‘ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট’ খ্যাত মোহামেডান। আগের ম্যাচে তারা ২-১ গোলে হেরেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের কাছে। পক্ষান্তরে আগের ম্যাচেই ফরাশগঞ্জকে পরাভূত করেছিল ‘দ্য অরেঞ্জ ব্রিগেড’ খ্যাত ব্রাদার্স।

নিজেদের ১৪তম ম্যাচে এটা সাদা-কালো শিবিরের তৃতীয় ড্র। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের চার থেকে উঠে এলো তিন নম্বরে। পেছনে ফেলল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে। ১৪ খেলায় আবাহনীরও পয়েন্ট ২৭। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় (মোহামেডান +১৫, আবাহনী +১৩) মোহামেডানই আপাতত আবাহনীর ওপরে। পক্ষান্তরে নিজেদের চতুর্দশ ম্যাচে এটা ব্রাদার্সের চতুর্থ ড্র। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে আগের পঞ্চম অবস্থানেই রয়ে গেল তারা।

রবিবারের ম্যাচে উভয় দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করে খেলে। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে কোন দলই কাক্সিক্ষত গোলের সন্ধান পায়নি। এ ম্যাচে ব্রাদার্স তীব্রভাবে অনুভব করেছে তাদের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড অগাস্টিন ওয়ালসনের। নিজেদের আগের ম্যাচে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে ওয়ালসন লাল কার্ড পেয়েছিলেন। তাই রবিবারের ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। খেললে হয় তো বা গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে থাকা শেখ জামাল ধানম-ির স্বদেশী ফরোয়ার্ড ওয়েডসন এ্যানসেলমেকে ছুঁতে বা টপকে যেতে পারতেন। উল্লেখ্য, চলমান লীগে ওয়েডসনের গোল ১৫ আর অগাস্টিনের গোল ১৪। ম্যাচের ৬ মিনিটে বাঁদিক থেকে ব্রাদার্সের নাইজিরিয়ান ফরোয়াড-অধিনায়ক কেস্টার একন যে শট নেন, তা ধরে ফেলেন ব্রাদার্সের বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। ১১ মিনিটে গোল লাইনের কাছ থেকে মোহামেডানের ইব্রাহিমের কাটব্যাকে বল পান ক্যামেরুন মিডফিল্ডার বেলিঙ্গা আম্বারা। বেলিঙ্গা ক্রস ফেলেন বক্সের সামনে। কিন্তু তার সতীর্থদের কেউ রিসিভ করতে পারেননি সেই চমৎকার ক্রসটি। ২২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মোহামেডানের অধিনায়ক-ডিফেন্ডার অরূপ কুমার বৈদ্যর শট দক্ষতার সঙ্গে ধরে ফেলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব। ২৪ মিনিটে ডানদিক থেকে ব্রাদার্সের কেস্টারের ক্রসে গোলপোস্টে হেড করতে ব্যর্থ হন নাইজিরিয়ান মিডফিল্ডার এজিওদিকা সিমন। ২৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে নেয়া ফ্রি কিকে ফাঁকা বক্সের সামনে বল পেয়েও ভালমতো হেড করতে পারেননি মোহামেডানের মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ৩০ মিনিটে ইব্রাহিমের ব্যাকপাসে বল পেয়ে শট নেন বেলিঙ্গা। কিন্তু তার নেয়া শটটি বক্সের ডান পাশ দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। ৩৬ মিনিটে ব্রাদার্সের মিডফিল্ডার শরীফুল ইসলামের নেয়া কর্নার কিকে সিমন হেড নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৪৭ মিনিটে বাঁদিক থেকে মোহামেডানের ইব্রাহিমের ক্রস মিডফিল্ডার জুয়েল রানা হেডের চেষ্টা করেন। কিন্তু হেড করার আগেই ব্রাদার্সের গোলরক্ষক বিপ্লব তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ৬১ মিনিটে মোহামেডানের অরূপ বৈদ্যের ক্রসে প্রথম চেষ্টায় শট নিতে পারেননি গিনির ফরোয়ার্ড ইসমাইল বাঙ্গুরা। পরে কিছুটা পেছন দিকে বল পেয়ে জুয়েল শট নেন। কিন্তু তা গোলরক্ষক বিপ্লব কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান। পরে কর্নার কিক থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হন বাঙ্গুরা। ৬৪ মিনিটে ব্রাদার্সের শরীফুল ফাঁকা বক্সে মোহামেডান গোলরক্ষক আশরাফুল হক রানাকে একা পেয়েও শট নিতে দেরি করেন। ফলে পেছন থেকে মোহামেডানের খেলোয়াড়রা এসে তাকে বাধা দিলে আর গোলমুখে শট নিতে পারেননি তিনি। ৭২ মিনিটে বক্সের ভেতরে মোহামেডানের জুয়েলের দুর্বল শট বিপ্লব রুখে দেন। ৮০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ব্রাদার্সের কেস্টারের তীব্র শট মোহামেডানের গোলরক্ষক রান কোন মতে ধরে ফেলেন। শেষ মিনিটে মোহামেডানের জুয়েল রানা সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জুয়েল। বদলি মিডফিল্ডার মেজবাবুল হক মানিক ফ্রি কিক নেন। সেই ফ্রি কিক থেকে ব্রাদার্সের বক্সের মধ্যে জটলা থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন জুয়েল। ফলে আক্ষেপে পুড়তে হয় কাজী জসিম উদ্দিন জোসির শিষ্যদের।