২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিল্পায়নে গ্যাস


গ্যাস সঙ্কটের কারণে নতুন করে শিল্পে গ্যাস সংযোগ নেই। এমনকি পুরনো সংযোগে গ্যাসের চাপ বা লোড বৃদ্ধির সুযোগও বন্ধ রয়েছে সরকারী সিদ্ধান্তে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের পর থেকে নতুন কোন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পায়নে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা। এ পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন ঘটানোর জন্য শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অবশেষে মিলল সুখবর। এবার গ্যাস সংযোগ পাবে শিল্প-কারখানা। এতদিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গ্যাস সংযোগের অভাবে যেসব শিল্প-কারখানা অপেক্ষায় ছিল সেসবের একটি অংশ সেই সুযোগ পাবে। জানা গেছে, দেশের গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোতে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে আছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রায় এক হাজার শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য তালিকা করা হয়। এসব তালিকা ধরে অনুসন্ধান চালানো, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনা তৈরি করেছে এমন অন্তত তিন শ’ প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। সংযোগ দেয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের শিল্পায়ন প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এ কথা সত্য যে, গ্যাস সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় এখনও উৎপাদন অনেক কম। আবার বিতরণেও রয়েছে অনেক সমস্যা। পাইপলাইনে চাপ কম থাকায় অনেক জায়গায় সংযোগ দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের গ্যাসসম্পদ অফুরন্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলন শুরু করা না গেলে বিদ্যমান গ্যাসের মজুদ ২০৩১ সাল নাগাদ ফুরিয়ে যেতে পারে। তাই চাইলেই রাতারাতি এই সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ। নতুন সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। সরকারের নির্ধারিত জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তথা প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে পৌঁছাতে শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। কৃষি দিয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখা কোনভাবেই সম্ভব নয় এই সত্যটি মানতে হবে। তাই শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে হবে, এর জন্য দরকার গ্যাস সংযোগ। এই ক্ষেত্রে গ্যাসের অপচয় রোধ করতে হবে। এটি কারও অজানা নয় যে গ্যাসের গৃহস্থালি সংযোগের মাধ্যমে এই মূল্যবান সম্পদটির ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে নতুন করে আর সংযোগ না দিয়ে বরং সিলিন্ডার সহজলভ্য করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অপচয় কমিয়ে আনা যায়। শিল্পায়নে গ্যাস সরবরাহের অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনাকেও এগিয়ে নিতে হবে এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোতে শিল্প স্থাপনে সংযোগ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সারাদেশে গ্যাস উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা এবং গ্যাসের ব্যবহারবিধি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। দেশের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে কিভাবে জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যয় করা যায়Ñ তা নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন গ্যাসকূপ খনন না হলে দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। আশার কথা, বঙ্গোপসাগরের সীমানা জটিলতা নিরসন হওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। দেশে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবেÑ এটাই সবার প্রত্যাশা।