২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জটিল মানসিক রোগ হিকিকোমরি, জাপানে আক্রান্ত দশ লাখ


জাপানের দশ লাখ মানুষ হিকিকোমরি রোগে আক্রান্ত। এদের বেশিরভাগই যুবক। জটিল এই মানসিক রোগের কারণ ও প্রতিকার খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ রোগে আক্রান্তরা বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের একা ঘরে আটকে ফেলে। তারা সারাদিন ঘুমিয়ে জেগে ওঠে রাতে। এরপর সারারাত চোখ আটকে থাকে কম্পিউটারের পর্দায়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ দূরে থাক, বাক্যালাপ পর্যন্ত বন্ধ সকলের সঙ্গে। কেউ ছয় মাস কেউ বা আবার ৩০ বছর নিজের ঘরের বাইরে পা রাখেননি। Ñখবর আনন্দবাজার পত্রিকার

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার সবচেয়ে বড় কারণ হলো হিকিকোমরি আক্রান্তদের কেউ সদ্য কলেজ পেরিয়েছেন। কেউ এখনও কলেজের চৌকাঠও পেরোননি। তারা মনে করছেন, মেধাবী এবং কর্মঠ তরুণ-তরুণীরা নিজেদের সমাজ থেকে আলাদা করে নিলে দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর উপরে মারাত্মক প্রভাব পরতে পারে। ছাত্রাবস্থায় এই জটিলতার শিকার হয়েছিলেন তাকাহিরো কাটো। এখন তিনি হিকিকোমরি বিশেষজ্ঞ। কাটো বলেছেন, জাপানের জনসংখ্যার এক শতাংশ হিকিকোমরি বা এই জাতীয় মানসিক জটিলতার শিকার। এটা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। এভাবে তরুণ প্রজন্ম সমাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু উঠতি প্রজন্মের মধ্যেই এর বিস্তার বাড়ছে ক্রমশ। জাপানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হিকিকোমরি শব্দটা অসুখ এবং আক্রান্ত দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম এবং উন্নয়ন মন্ত্রীর মতে, হিকিকোমরিরা সমাজ থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলেন নিজেদের। কোন কাজ বা লেখাপড়ায় যাবতীয় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখেন না। কখনও ছয় মাস, কখনও আবার বছরের পর বছর ধরে চলে এ অবস্থা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণ-তরুণীরাই এই রোগে আক্রান্ত হন। নিম্নবিত্তদের মধ্যে এর নজির প্রায় নেই বললেই চলে। কাটোর মতে, মধ্যবিত্ত পরিবার, পরিবেশেই এই জটিলতার ঝুঁকি বেশি। জাপানে ছেলেমেয়ে, বিশেষত ছেলেদের মধ্যে সেরা কলেজে সুযোগ পাওয়া, ভাল নম্বর পাওয়া এবং পরবর্তীতে ভাল সংস্থায় চাকরি পাওয়ার চাপ থাকে অত্যন্ত বেশি। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে একপ্রকার তারা সমাজ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।