২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউরো থেকে গ্রীসের বিদায়!


গ্রীসের ইউরোজোন থেকে বিদায় নেয়ার সময় দৃশ্যত ঘনিয়ে এসেছে। দেশটিকে আবার বেইল আউট তহবিল (দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে অর্থ সহায়তা) যোগানোর প্রশ্নে ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীদের শনিবারের আলোচনা কোন মতৈক্য ছাড়াই ভেঙ্গে পড়ে। গ্রীস প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাসের আর্থিক উদ্ধার পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রীদের কাছ থেকে তীব্র বাধার মুখে পড়ে। সর্বশেষ আলোচনা রবিবার শুরু হওয়ার কথা। খবর গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ ও ইয়াহু নিউজের।

গ্রীসের ৮ হাজার কোটি ইউরোর এক নতুন তিন বছর মেয়াদী বেইল আউট আদায় করে ইউরো থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এড়ানোর চূড়ান্ত চেষ্টা শনিবার ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীদের কাছ থেকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। ফিনল্যান্ড গ্রীসকে আরও অর্থ যোগানোর যে কোন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। আর জার্মানি গ্রীসকে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ইউরো ব্লক থেকে বাইরে রাখার আহ্বান জানায়। অর্থমন্ত্রীরা এক নতুন বেইল আউট প্রস্তাব নিয়ে গ্রীসের সঙ্গে অচলাবস্থা নিরসনে ব্যর্থ হয়। তাদের নয় ঘণ্টার তিক্ততাপূর্ণ আলোচনায় ঋণদাতারা এথেন্সকে তাদের আস্থা বিনষ্ট করার দায়ে অভিযুক্ত করে। এর ফলে ইউরোজোন গঠিত হওয়ার মাত্র ১৫ বছর পর এর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। এক মুদ্রা প্রকল্পকে পতনের হাত থেকে রক্ষার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে অর্থমন্ত্রীদের কোন চুক্তি উদ্ভাবন করতে, নয়তো গ্রীসকে ইউরোজোন থেকে বহিষ্কার করতে রবিবার আবার বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা। এরপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) নেতারা শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। অর্থমন্ত্রীরা দাবি জানান, গ্রীসকে ইউরোতে রাখতে দেশটির জন্য তৃতীয় বেইল আউট নিয়ে তাদের যদি আলোচনা শুরু করতে হয়, তাহলে গ্রীসকে সিপরাসের মেনে নেয়া কষ্টদায়ক কৃচ্ছ্রমূলক পদক্ষেপগুলোর বাইরেও আরও ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে অবশ্য গ্রীসের তিন ঋণদাতার পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, এথেন্সের দেয়া নতুন আর্থিক কৃচ্ছ্রমূলক প্রস্তাবগুলো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বেশ ভালই হবে। ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) গ্রীসের তিন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা।

কিন্তু জার্মান অর্থমন্ত্রী ভুল্ফগাং শেয়েবল ওই অভিমত উড়িয়ে দেন। উত্তর ও পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি রাষ্ট্র তাকে সমর্থন করে। জার্মান অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দলিলে গ্রীসকে ২০১০ সালের পর দু’বেইল আউট বাবদ ২৪,০০০ কোটি ইউরো দেয়ার পর দেশটিকে আরেকবার উদ্ধার সহায়তা অনুমোদনের বিষয়ে গভীর দ্বিধাই প্রকাশ পায়। এতে বলা হয়, ওইসব প্রস্তাব গ্রীসের অনুরোধমতো এক সম্পূর্ণ নতুন তিনবছর মেয়াদী বেইল আউট কর্মসূচীর ভিত্তি হতে পারে না। এতে গ্রীসের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নয়তো দেশটিকে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বহিষ্কার করার দাবি জানানো হয়। এতে গ্রীসকে এর ঋণ পরিশোধের জন্য ট্রাস্ট ফান্ড হিসেবে বাইরের কোন সংস্থার কাছে ৫,০০০ কোটি ইউরোর রাষ্ট্রীয় সম্পদ হস্তান্তর করতেও বলা হয়। ইউরোজোন পাঁচ মাস ধরে সিপরাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু গত ১০ দিনে বড় ধরনের মতৈক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফ্রান্স গ্রীসকে রক্ষা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে এবং কট্টরপন্থীরা এখন গ্রীসকে বহিষ্কার করতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে চাপ দিচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইসিবি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, গ্রীসকে ৭,৮০০ কোটি ইউরোর নতুন উদ্ধার তহবিল মঞ্জুর করতে ব্যর্থতা দেশটির ব্যাংকিং ও অর্থ খাতকে সম্পূর্ণ পতনের পথে ঠেলে দেবে।

যদি রবিবারের বৈঠক চূড়ান্তভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং গ্রীসকে আরও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে দেয়া হয়, তাহলে বার্লিন ও প্যারিসের সম্পর্কের ওপর প্রচ- চাপ পড়বে। ফরাসি অর্থমন্ত্রী মিশেল সাফিঁ সিপরাসের কৃচ্ছ্রমূলক প্রস্তাবগুলোকে পার্লামেন্টে উত্থাপনের প্রশংসা করেন। তিনি গত কয়েকদিনের উদ্যোগগুলোকে ‘ইতিবাচক’ বলে দেখতে পান। সিপরাস পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে তার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। কিন্তু তার সিরিজা দলের অনেকেই নিজ পক্ষ ত্যাগ করেন। এতে তিনি যে নির্বাচন ডাকতে বা নয়তো তার কট্টরপন্থীদের পরিত্যাগ করতে পারেন এবং এক নতুন ‘জাতীয় ঐক্যে’র সরকারের নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে জল্পনা-কল্পনা চলছে।