২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ছিনতাই, পকেটমার ও টানা পার্টির কাছে জিম্মি রেলযাত্রীরা


আজাদ সুলায়মান ॥ অপরাধীদের কবল থেকে রক্ষার জন্য এবারের ঈদে রেলস্টেশন ও ট্রেনে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। অন্যান্যবারের ন্যায় এবারও যাতে অপরাধীরা বেপরোয়া হতে না পারে সেজন্য বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। পুলিশের অন্যান্য ইউনিট থেকে কর্জ করে আনা হয়েছে অতিরিক্ত আরও প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্য।

এদিকে, অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরও রবিবার রেল অপরাধীরা হামলা চালিয়েছে একটি ট্রেনে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ঢিলে ঢাকা অভিমুখী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সহকারী চালক আমিরুল ইসলাম (৪০) আহত হয়েছেন। রবিবার দুপুর ২টার দিকে আখাউড়া রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কুলিবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ওসি আবদুল মজিদ জনকণ্ঠকে জানান, ঈদের আগেই রেল জগতের চিহ্নিত বেশিরভাগ অপরাধীকে পাকড়াও করা হয়েছে। বাকিদের ধরার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। অতিরিক্ত রেল পুলিশ মোতায়েন করা হলেও যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগÑ দেশের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের আন্তঃনগর ট্রেনে সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ছিনতাই, পকেটমার ও টানা পার্টি নামে পরিচিত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত এসব চক্রের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। এসব দলে আছে নারী সদস্যও। ঈদ সামনে রেখে এসব চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। রোজায়ও তাদের হামলার শিকার হয়েছেন ভৈরব ও চট্টগ্রামের কয়েকজন যাত্রী। কমলাপুর থেকে রাতে যারা সিএনজিতে করে গন্তব্যে রওনা হন, তারাও ছিনতাই, পকেটমার, টানা পার্টির কবলে পড়ছেন। বিশেষ করে বিমানবন্দর থানা, বিমানবন্দর পুলিশ বক্স, বিমানবন্দর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং বিমানবন্দর রেলের নিরাপত্তা শাখার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব চক্র দিনের পর দিন এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে টঙ্গী স্টেশন পর্যন্ত এসব চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। প্রতিটি দলের অধিকাংশ সদস্যই সুদর্শন ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত। ছুটে চলা ট্রেন থেকে অনায়াসে নেমে পড়ার দক্ষতা আছে এ চক্রের নারী-পুরুষ সব সদস্যেরই।

ছিনতাইকারী ॥ আন্তঃনগর ট্রেনে ছিনতাইকারী গ্রুপগুলোর মধ্যে স্বপন গ্রুপ অন্যতম। এই গ্রুপটিই বেশি শক্তিশালী। গ্রুপের অন্যতম সদস্যরা হলোÑ মিজান, ফারুক ও রতন। এরা দুর্ধর্ষ প্রকৃতির।

পকেটমার ॥ রেলযাত্রীদের ওপর সবচেয়ে বেশি উৎপাত চলে পকেটমারদের। পূর্ব থেকে পশ্চিম- সর্বত্র চলছে পকেটমারদের দৌরাত্ম্য।

ধাক্কা ও টানা পার্টি ॥ গাজীপুরের ভাওয়ালের বনের ভেতর দিয়ে চলা রেলের দু’ধারে প্রায়ই লাশ পাওয়া যায়। এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হলেও পুলিশ বলছে, সবই এখানে মারা হয় না। বাইরে থেকে মেরেও এখানে এনে ফেলা হয়। এ জন্য দুর্নামটা রেলের ওপর পড়ে।

অসাধু পুলিশচক্রের সখ্য ॥ এদিকে বিমানবন্দর থানার ‘আ’ ও ‘ম’ আদ্যক্ষরের দু’জন এএসআই, বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের ‘ক’ ও ‘র’ আদ্যক্ষরের দু’জন এএসআই, বিমানবন্দর রেলওয়ে ফাঁড়ির একজন পদস্থ কর্মকর্তা (‘ন’ আদ্যক্ষরের), বিমানবন্দর রেলওয়ের নিরাপত্তা শাখার একজন ইন্সপেক্টর ও একজন কন্সটেবল এসব অপরাধীর কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।