১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশের পানি খাতে সুশাসন নিশ্চিতকরণের আহ্বান


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বহুমুখী সমস্যা ও দুর্নীতির ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের পানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় শুদ্ধাচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্র্র্ক (বাউইন)।

রবিবার টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার: বর্তমান প্রেক্ষিত ও উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে সংগঠন দু’টির নেতারা এ আহ্বান জানান।

গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম।

গবেষণা প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসা’র অর্জন সম্পর্কে বলা হয়, পানি সরবরাহকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পানি সরবরাহের ক্ষমতা অর্জন করেছে। পুর্বের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হলেও ২০১৩ সালে তারা ৯৫ শতাংশ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার ব্যয় কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ওয়াসা কম্পিউটারাইজড বিলিং সিস্টেম প্রবর্তন (এসএমএস সেবা) চালু করে, ই-টেন্ডার অন্তুর্ভূক্তি ও কল সেন্টার গঠন ছাড়ার ওয়াসা ইউনেস্কো পুরষ্কার পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ঢাকা ওয়াসাকে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে সব মৌসুমে সব এলাকায় সমানভাবে সেবা প্রদান করার অক্ষমতা, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহে ঘাটতি, ধনী-মধ্যবিত্ত-দরিদ্র মানুষ অধ্যুষিত এলাকার সেবার মানের তারতম্য, দূষণমুক্ত পানি সরবরাহের সমস্যা। এছাড়াও বিদ্যুৎ ঘাটতি, জলাভূমি দখলের কারণেই পানি বন্টন ও পানি সরবরাহে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসা অনানুষ্ঠানিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে রজনৈতিক নেতা ও দালাল কতৃক পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়ম-বহিভূর্ত কার্যাদেশ পরিবর্তন ও অতিরিক্ত কাজের অনুমোদন প্রদানের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)‘র ক্ষেত্রে দুর্নীতির শাস্তি না হওয়া এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জেরর মধ্যে ভূপৃষ্ঠের পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, চিংড়ি চাষীদের দ্বারা বাঁধের ক্ষতি, জলবায়ু পরিবর্তন, কারিগরি জ্ঞানের অভাব এবং আইনের দুর্বল কাঠামোর কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

উল্লেখ্য, বাউইন ২০০৯ সালে টিআইবি’র উদ্যোগে পানি খাতের ১৭ টি বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক। প্রতিবেদনটিতে দেশে বিদ্যমান পানি বিষয়ক নীতি আইন ও বিধি সংশ্লিষ্ট ২৯ টি সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং ঢাকা ওয়াসা ও বাংলাদেশ ওয়াটার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের পানি ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান প্রক্রিয়ায় সততার মাত্রা নিরুপন করা হয়। দুর্বল আইন এবং তার সঠিক বাস্তবায়নের নির্দেশিকার অভাবে পানি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গ্রাহকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সব এলাকায় ঢাকা ওয়াসা তাদের সেবা প্রদান করতে পারে না। এক্ষেত্রে সেবা প্রদানে আয় অনুযায়ী এলাকা ভিত্তিক বৈষম্য বিরাজ করছে। দালালদের কারণে পানি সরবরাহ নিয়েন্ত্রণে এলাকা-ভিত্তিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের একাংশের উৎপাত এখনো বিরাজমান। ঢাকা ওয়াসা সর্ম্পকে গ্রাহকের মানও সেন্তোষজনক নয়। অনেক অভিযোগ গ্রহণ করা হয় কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় এর সুফল অনেকেই পান না। যথাযথ সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

গবেষণায় উত্থাপিত নয় দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, আইন, কৌশলপত্র, নির্দেশিকা ইত্যাদি হালনাগাদ করা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক সৈয়দ হাফিজুর রহমান এবং বাউইন সমন্বয়কারী সনজীব বিশ্বাস সঞ্জয়।