২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কবিতা


টুটা তারা

সৈয়দ রফিকুল আলম

আকাশপাড়ের তারার মিছিল অযুত নিযুত সংখ্যাতীতে

টিমটিম টিম জ্বলছে নিভে হীরক খণ্ড স্বপ্নের বাড়ি

আঁধার রাতের ছায়া পর্দায় দুলছে মধুর স্বভাব রীতে

স্বাতী তারার কুজ্ঝটিকায় বটিদারে আসমানি শাড়ি।

তারার উল্কা ছুটে নামে মর্ত্য ধরায় ফানুস জ্বেলে

তীরের ফলায় দ্রুতে নামে শলা; মর্ত্যলোকের গহন দ্বারে

শতবর্ণে মধ্যাকাশে ফাটে ফুলকি চমক ঢেলে

কভু খসে পড়ে- উল্কা বাহন শূন্যের দোলক আঁধার পাড়ে।

প্রকৃতির গ্রহ ভারসাম্যে চলে হাজার কোটি কালের ধারায়

মূল বসতি গাছপালা সব আত্মঘাতীর করাত কলের ঘায়ে

তাইতো সবাই আকাশমুখীন তৃপ্ত লোভন তারার পাড়ায়

ফুল বাগানের তারার ফুলের সন্ধ্যা তারার চনকা কাঁকন ছায়ে।

এমনিতে বাসকলে নাগিনীর জিহ্বা সংকুল বাষ্প ফেঁসে

শিকার অন্তে ছোবল দন্তে বিষ ফোড়ে দেয় ঠোকর শ্বাসে

তাইতো সবাই অন্য মনে খুঁজে তারার নাচন ছন্দ সুভোগ তৃষে

টুটা তারা ধসে, কালোর অন্ধে মোহন বিভার রাসে।

বন্ধু আমার অচেনা মানুষ

কাজী আলিম-উজ-জামান

চেনা মানুষের খাতির সহ্য হয় না

বড্ড জ্বালায়, ভালো লাগে অচেনা মানুষ

রোজ ভিড় ঠেলে তাই দূরে গিয়ে বসি

পুরোনো তক্তায় বানানো বেঞ্চিতে,

লোহা উঁচিয়ে থাকে, সাবধানে বসি।

সামনের জলাশয়ে অলক্ষ্যে বড় হয়

হেলেঞ্চা-দোলেঞ্চা,

আকাশে সদ্য গোসল করা সাদা মেঘ

সাফ-সুতরো হয়ে বিকেলের প্রার্থনায় বসে

চায় জল পিঠে নিয়ে,

উড়ে বেড়াবার স্বাধীনতা।

আমের মুকুলের ঘ্রাণ

বরই-লিচুতে মৌমাছির গুনগুনানি গান

রোদে দেওয়া ঘুঁটে কুড়িয়ে নেয়

মোল্লাবাড়ির পোয়াতি বউ

সকাল হলেই নতুন পৃথিবী,

কাস্তে কোদালের মহড়া।

শেষ ঘণ্টা বাজে, স্কুল ছুটি হয়

ঝাঁকে ঝাঁকে ছুট দেয় সবুজ শিশুরা

ঝিকমিক করে চক-সেøট

নির্ভুল বানানে লেখে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পোনা মাছে লাফ মারে পুকুরে

বড় ভালো লাগে।

২৬.০৪.২০১৫

বাইপাস হবে

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়

যে ছুড়িগুলোকে

সারাজীবন কতো ঘুরে বেড়াতে দেখেছি,

শাই-শা! উড়ে বেড়াতে...- সংসারে, করিডোরে,

সংগঠনে-সভায়, নগর শাখায়, বিশ^বিদ্যালয়ে,

পাঠ্য নাটকে

সা, সিই

পকেটে, আঁচলে দ্রুত-সর্পিল;

ঘাড়, নাক শুধু দ্রুত সরিয়ে বেঁচেছি

কোনো শিহরিত

হসিমুখ বাক্যালাপের যে ছুড়িগুলোকে

উড়ে, ঘুরে বেড়াতে দেখেছি

মুখ-চোখ ঝট ক’রে ডাক করতে প্রাণান্ত হয়েছে

দিনরাত যে ছুড়িগুলোকে

আমার ন্যালাভ্যালা হৃদয়ের কি দোষ আর—

ধরা পড়েছে এবার!

অবরুদ্ধ তা, তার পথ রুদ্ধ কোথাও শতভাগ, আশি;

আর চলতে পারছে না।

যাবে ভেবেছিল একদিন সদ্যনিহত অভিজিতের বাবার বাসস্থানে;

তা, পারছে না ফেলতে তখন একটি পা,

হৃৎপি- সে শক্তি দিচ্ছে না তাকে।

আমার অত্যধিক পৃথিবীযাপন আমি জানি, খানিকটা তেড়া আর

অতিসরলের পক্ষে হয়তো তা এখনই অতিদীর্ঘায়িত।

জানি তার আঘাতের চাপ আজ

দলাদলা মেদের বেরিকেডে হয়েছে জড়ো হৃৎপি-জুড়ে।

এর রক্তস্রোতের পথ মুক্ত করতে শল্যচিকিৎসকের প্রাণদায়ী ছুড়ি

সেখানে কোথায় বসবে শেষে, কতোটা উঠবে যুঝে অনিশ্চিত

তবে, নির্মল ছুড়িকে শেষে নিতে হবে বুকে

একই-রূপ সরল সাহসে;

যখন অন্ধকারের-রক্তাক্তের তারা আজ হেসে কুটিকুটি—

যদি...

যদি ওটি-র শীতলে বাইপাস খুঁজে নাই পেলো রক্তস্রোত ফের ...

আপদ তো হতেও পারে ভালোই বিদায়, দ্রুত ...

তবু, নির্মল ছুড়িকে

সকাল

আইউব সৈয়দ

কোনো সকাল নেই তোমাকে দেবার;

সব অভিজ্ঞান বিষাদে ভরা, সব স্বপ্ন বিষময়

অতীত উচ্ছ্বাসও যে

অতল কলহে।

ঝরনার জল যেন নীরব বেদনার আধিপত্যে;

ভুলের কল্লোল দহন দিয়ে মোড়া,

এক ও একাকী পথে বৃন্তচ্যুত হয়ে

আড়ালে কাঁদে

পলকেই ফুঁসে ওঠে- ক্লান্তির দেশেও।

তাই ফুলকথার কেনো সকাল নেই আমার

তোমাকে দেবার।