১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈদযাত্রায় কোচ সঙ্কট ভোগান্তিতে যাত্রী


মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ এবার ঈদ যাত্রায় রেলের পূর্বাঞ্চলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে ট্রেন যাত্রীরা। ট্রেনের স্বাভাবিক বরাদ্দকৃত কোচের তুলনায় চলমান কোচের সংখ্যা অনেক কম। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৯৯টি কোচের স্থলে চলাচল করছে ২৭৬টি কোচ। অপরদিকে, মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ২৫২টি কোচের মধ্যে চলাচল করছে ১৮৪টি কোচ। ঈদ যাত্রায় আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ সঙ্কট থাকবে ৯৫টি। পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপ থেকে ৯০টি কোচ মেরামতের নির্দেশনা রেলমন্ত্রী মজিবুল হকের পক্ষ থেকে দেয়ার পর তা গত জুন থেকে ঈদ যাত্রার দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রেনের সঙ্গে সংযোগ করার কথা রয়েছে। তবে এসব কোচ সংযোজনের পরও আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ সঙ্কট থেকে যাবে ৯৫টি কোচের। সিআরবি চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় আইসি কোচ স্টক পজিশন অনুযায়ী একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে চরম কোচ সঙ্কটে পড়বে পূর্বাঞ্চলীয় ট্রেনগুলো। এ পরিসংখ্যানে সন্নিবেশিত তথ্য থেকে পাওয়া উপাত্ত অনুযায়ী ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেনে কোচ ঘাটতি রয়েছে ২৩টি। অপরদিকে, ২৭টি মেল ও এক্সপ্রেস কোচ ঘাটতি রয়েছে ৭২টি। স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সর্বমোট ২৯৯টি কোচ চলাচল করার কথা। এরমধ্যে চলাচল করছে ২৭৬টি। তবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও মহানগর প্রভাতী এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং মোহনগঞ্জগামী হাওড় এক্সপ্রেসের কোন ধরনের কোচ সঙ্কট নেই। স্বাভাবিক নিয়মে এসব ট্রেনের বরাদ্দকৃত কোচ দিয়েই চলাচল করছে।

এদিকে, সঙ্কট রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের দুটি, উদয়ন এক্সপ্রেসের দুটি, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের দুটি, ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেসের একটি, মহানগর গোধূলী এক্সপ্রেসের একটি। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেসের একটি, সিলেটের পারাবত এক্সপ্রেসের একটি, নোয়াখালীর উপকূল এক্সপ্রেসের একটি, সিলেটের জয়ন্তিকার একটি, উপবন দুটি, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেসের একটি, তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের একটি, কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধু প্রভাতী ও গোধূলীর দুটি, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসের দুটি, সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেসের দুটি, কিশোরগঞ্জগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের দুটি এবং সিরাজগঞ্জগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের একটি কোচ সঙ্কটসহ আন্তঃনগর ট্রেনের ২৩টি কোচ সঙ্কট রয়েছে রেলের পূর্বাঞ্চলে। আন্তঃনগর ট্রেনের ঘাটতি কোচের হিসেব অনুযায়ী শোভন চেয়ার ৬টি, শোভন ৮টি, গার্ডব্রেকসহ শোভন চেয়ার চারটি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ¯িœগ্ধা চেয়ারকোচ একটি, ফার্স্ট ক্লাস কোচ একটি এবং ডাইনিং কারসহ মোট ২৩টি কোচ ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেনে সারা বছর ধরে ঘাটতি রয়েছে।

অপরদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ মজুদের হিসাব অনুযায়ী ২৭টি ট্রেনে ৭২টি কোচের সঙ্কট রয়েছে। এসব কোচের মধ্যে ফার্স্ট ক্লাস ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রত কোচের কোন সঙ্কট নেই। এ ব্যাপারে পূর্বাঞ্চলীয় এ্যাডিশনাল চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনড্যান্ট জানান, কোচ সঙ্কট নিরসন করা গেলে শুধু ঈদ যাত্রাই নয়, সারা বছর যাত্রীরা আরাম- আয়েশে গন্তব্যে পৌঁছাতে রেল ভ্রমণকে এড়াতে পারবে না। স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত কোচ নিয়ে ট্রেন চলাচল করলে রেলের কোন ধরনের আর্থিক ক্ষতি কিংবা যাত্রী ভোগান্তি হবে না। প্রয়োজনীয় কোচ সঙ্কট পূরণের মধ্য দিয়ে ট্রেন যাত্রা নির্বিঘœ করতে পারলে যাত্রীরা ব্যাপকহারে ট্রেনমুখী হবে।