২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ভারতীয় শাড়ি কাপড়ে রমরমা ‘হিলি বাজার’


স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে চোরাকারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই সীমান্তের অন্তত ১২টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি কাপড় দেশে পাচার হয়ে আসছে। এতে করে মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

ভারত থেকে আসা অধিকাংশ শাড়ি কাপড় মজুদ করা হয় হিলি বাজারের গার্মেন্টস ও কাপড়ের দোকানগুলোতে। ভারতীয় এসব শাড়ি কাপড়ের প্রধান মার্কেটই হচ্ছে হিলি বাজার। বাজারের দোকানগুলোতে এবার প্রকাশ্যেই বেচা-কেনা হচ্ছে ভারতীয় শাড়ি কাপড়। আগে বিজিবিসহ স্থানীয় প্রশাসনের ভয়ে গোপনে বিক্রি করা হলেও এবার তার চিত্র উল্টো। বাংলাহিলি খাসমহল হাট ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে একটি পক্ষ নির্বাচিত হয়ে আসার পর কমিটির কিছু ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাঁদা দিতে হবে বলে এসব দোকানদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি দোকান থেকে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়েছে।

সীমান্ত ঘুরে দেখা গেছে, হিলি সীমান্তের জিলাপিপট্টি, ফুটবল মাঠ, রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশ, বালুরচর, ধরন্দা, হিন্দু মিশন, নওপাড়া, হাড়ীপুকুর, নন্দিপুর ও ঘাসুড়িয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রাত-দিন সমানে আসছে ভারতীয় শাড়ি কাপড়। চোরাকারবারিরা মাদকের পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ভারতীয় অবৈধ মালামাল পারাপারে। ভারত থেকে আসা ভারতীয় অবৈধ শাড়ি কাপড়ের প্রধান মার্কেটই হচ্ছে সীমান্তবর্তী হিলি বাজার। ভারতীয় শাড়ি কাপড় বিক্রির জন্য এখানে গড়ে উঠেছে ছোট বড় ২০-২৫টি গার্মেন্টস দোকান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ আশপাশের থানা শহরের লোকজনের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হিলি বাজারে ভারতীয় চোরাই পণ্য ও শাড়ি কাপড়ের মার্কেট।

এই মার্কেট থেকে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লোকজন অফিসের গাড়ি নিয়ে মার্কেট করতে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, হিলি বাজারে যে কয়েকটি দোকান আছে, সেসব দোকানের মালিকদের মেশিন রিডেবল (এম আরপি) পাসপোর্ট রয়েছে। তাঁরা এই পাসপোর্টে মাল্টিপল টুরিস্ট ভিসা (৬ মাস বা ১ বছর) নিয়ে অনায়াসে ভারতে যাচ্ছে। তাঁরা ঈদ বা যে কোন উৎসবেই ভারতে গিয়ে শাড়ি কাপড় কিনে ভারতীয় একজন চোরাকারবারির মাধ্যমে সীমান্তে এনে মজুদ গড়ে। পরে সুযোগ বুঝে শাড়ি কাপড়ের বস্তা সীমান্ত দিয়ে পাচার করে হিলি বাজারে আনছে। হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তরা জানান, হিলিসহ বিভিন্ন সীমান্তের চোরাই পথে শাড়ি ও পোশাক আসার কারণে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। বৈধভাবে আমদানি সুযোগ থাকলেও অসাধু ব্যক্তিরা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে ভারতীয় পোশাক আমদানি করছে।