২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হেঁশেল নাকি ভাগাড়!


আদিম মানুষই ছিল সুখে। রান্নার ঝক্কি ছিল না, তাই রান্নাঘরেরও প্রয়োজন পড়ত না। ফলে হেঁশেলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও প্রশ্ন ছিল না। কালক্রমে মানুষ সভ্য হয়েছে। রান্না করে খাওয়া শিখেছে। ফলে তার রুচি ও অভিরুচিও গড়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে মানুষ কতই না সৃজনশীল। একই খাদ্যদ্রব্যের নানা ধরনের রেসিপি উদ্ভাবন করেছে তার রসনায় বৈচিত্র্যময় স্বাদ আনার অভিপ্রায়ে। শুধু জীবনধারণের প্রয়োজনে খাদ্যগ্রহণের জন্য রান্নার বিষয়টি সভ্যতার এক পর্যায়ে এসে রীতিমতো শিল্প হয়ে উঠেছে। একই গান যেমন ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠশিল্পীর গায়কীতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যঞ্জনা লাভ করে, তেমনি অভিন্ন ব্যঞ্জনে রন্ধনশিল্পী ভেদে জিহ্বায় স্বাদের তারতম্য ঘটে যায়।

বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতায় সাধারণত গৃহিণীরাই খাবার তৈরির দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে থাকেন। হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যাপারটি আবার আলাদা। সেখানকার শেফ বা পাচকের সিংহভাগই পুরুষ। এটি অবশ্য নারী-পুরুষের ভেদাভেদের বিষয় নয়। যিনি রাঁধেন তিনি তার রান্নাঘর বা হেঁশেলটিকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেন। রন্ধন যদি হয় শিল্প তবে বলতেই হবে রান্নাঘর হলো শিল্পালয়। মানুষ বেঁচে থাকার আবশ্যক শর্ত হিসেবে যেসব খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে থাকে তা নানা উপাদান সহযোগে তৈরি হয় ওই রান্নাঘরে। আর উচ্ছিষ্ট অংশটুকুর স্থান হয় ভাগাড়খানায়। হেঁশেল আর ভাগাড়, মানে রান্নাঘর আর ডাস্টবিন একাকার হয়ে যাওয়া তাই অসমীচীন। রান্নাঘরের পরিবেশ ডাস্টবিনতুল্য হয়ে উঠলে সেখানে প্রস্তুত খাবার মনুষ্য উদরে কি সহ্য হবে? এ তো গেল খাবার গলাধঃকরণের পরের অবস্থা। যিনি খাদ্য গ্রহণ করবেন তিনি যদি আগেভাগে জেনে যান যে তার টেবিলে পরিবেশিত খাবার তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে, তাহলে তার কি বমন উদ্রেক হবে না! অবশ্যই হবে। আমাদের এই রাজধানীর অনেক নামী দামী রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের দশা ডাস্টবিনের মতো। তাহলে সস্তা হোটেলের চেহারাসুরত কী পর্যায়ে রয়েছে? ভ্রাম্যমাণ আদালত আকস্মিকভাবেই রাজধানীর হোটেল রেস্টুরেন্টের পরিবেশ পরিদর্শনে গিয়ে এ ধরনের অনিয়মের সাক্ষাত পান। মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়। প্রথম প্রথম কিছুদিন সতর্ক ও সচেতন থাকে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। তারপর যে কে সেই। থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। বহু হোটেল রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে রাতভর ফেলে রাখা হয় মাখানো বেসন, মাংসের কিমা, আটা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন উপাদান। এক বাসি তেলে কতবার যে ভাজা হয় খাদ্যসামগ্রী তার ইয়ত্তা নেই। অনেক সময় খাবারের তেলও ব্যবহৃত হয় না, তার পরিবর্তে মোবিলে ভাজা হয় বেগুনি পেঁয়াজু। রাজধানীর বেইলি রোড হলো বাহারি ইফতারি আইটেমের জন্য প্রসিদ্ধ। অথচ সেখানেও ভেজাল খাবার ও ইফতার পরিবেশনের অভিযোগে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট দ-িত হয়েছে। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়েছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের চিত্র। একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের পরিবেশ আরও ভয়ানক। তাদের সংরক্ষিত খাবারে পাওয়া গেছে তেলাপোকা।

রমজানে নিয়মিতভাবে অভিযান চালানোর ফলে এসব অনিয়ম ও অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মানুষের গোচরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ যদি এ থেকে শিক্ষা নেয়, তাহলেই শুধু তাদের তৈরি খাবারের ক্রেতারা উপকৃত হবেন। তা না হলে স্বাস্থ্য বিপর্যয় থেকে তাদের রক্ষা নেই।