মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জঙ্গী মৌলবাদীদের আস্ফালন কেন?

প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৫
  • শাহরিয়ার কবির

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ মিশনে ভাষা সংগ্রামী, দেশবরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরীর ভাষাসংক্রান্ত কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি জোট দেশে ও প্রবাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন ইস্যু যোগ করার এক হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। গাফ্্ফার চৌধুরীর মতো একজন নিষ্ঠাবান মুসলমানকে ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’, ‘কাফের’ আখ্যা দিয়ে ইসলামের কথাকথিত ধ্বজাধারীরা যে কোরানের ভাষায় কবিরা গুনাহ করে জাহান্নামে নিজেদের স্থান নির্দিষ্ট করেছে- এ নিয়ে তাদের ভ্রƒক্ষেপ নেই। পবিত্র কোরানে যাদের আস্থা আছে তারা কখনও একজন মুসলমানকে ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’ বা ‘কাফের’ বলতে পারেন না।

তারা শুধু গাফ্্ফার চৌধুরী নয়, কবি সুফিয়া কামাল থেকে শুরু করে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন পর্যন্ত নিষ্ঠাবান মুসলমানদের ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’, ‘কাফের’ বলেছে। কারণ তাঁরা মুসলমান হয়েও মানবতার কথা বলেন, ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধাচরণ করেন, ইসলামের নামে গণহত্যাকারী ও নারী ধর্ষণকারীদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেন, ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক রাখার কথা বলেন।

আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরী ধর্মীয় পরিচয়ে একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান, রাজনৈতিক পরিচয়ে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার আদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছে মাদ্রাসা থেকে। ইসলাম ধর্ম বা আরবী ভাষা সম্পর্কে গাফ্্ফার চৌধুরীর জ্ঞান কোন অংশে তাঁর সমালোচনাকারীদের চেয়ে কম নয়। নিউইয়র্কে তাঁর ভাষণের খণ্ডিত অংশে নিজেদের পছন্দমতো শব্দ বসিয়ে জামায়াত-বিএনপির গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তা মৌলবাদীদের বহুল ব্যবহৃত নোংরা কৌশলের অন্তর্গত। স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, জামায়াত-বিএনপির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘ইনকিলাব’, ‘সংগ্রাম’, ‘নয়াদিগন্ত’ প্রভৃতি পত্রিকায় ৫ জুলাই (২০১৫) থেকে গাফ্্ফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিরামহীন বিষোদ্গার অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত-বিএনপির সহযোগী ‘হেফাজতে ইসলাম’সহ ইসলাম নামধারী জঙ্গী মৌলবাদে বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠন যে ভাষায় গাফ্ফার চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে তাতে তারা ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে পশ্চিমের অনেক অমুসলিমদের এই যে অপপ্রচারÑ ‘ইসলাম ও সন্ত্রাস সমার্থক’ তা সত্য প্রমাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

এ উদ্যোগ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রথমবার নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতম গণহত্যা ও বর্বরতম নারী নির্যাতনসহ যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধকে তারা বৈধতা দিয়েছে ইসলামের দোহাই দিয়ে, কোরান-হাদিসের অপ্রাসঙ্গিক ও ভুল উদ্ধৃতি দিয়ে। জামায়াত তখন গণহত্যাকারী রাষ্ট্র পাকিস্তানকে ‘আল্লাহর ঘর’ হিসেবে ঘোষণা করে পাকিস্তান রক্ষার জন্য অন্যদের যেমন উদ্বুদ্ধ করেছে নিজেরাও বিভিন্ন ঘাতক বাহিনী গঠন করে যাবতীয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও ধ্বংসকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে, যার বিচার চল্লিশ বছর পর বাংলাদেশে শুরু হয়েছে।

১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যখন ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরচক্রের মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের নাগরিক আন্দোলন শুরু হয়, তখন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাঙালীর বিবেক হিসেবে পরিচিত আবদুল গাফফার চৌধুরী এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গণহত্যাকারীদের স্বরূপ উন্মোচনসহ গণহত্যাকারীদের বিচারের পক্ষে জনমত সংগঠিত এবং তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী অতুলনীয় অবদান রেখেছে, যে কারণে মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই তাদের গণমাধ্যমে তাঁকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেছে। নাৎসিবাদের একনিষ্ঠ অনুসারী জামায়াত বিশ্বাস করে নাৎসি নেতা গোয়েবলসের মিথ্যাচারের নীতিতে। শুধু গাফফার চৌধুরী নয়, বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে রামুতে নিরীহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা থেকে শুরু করে যাবতীয় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস এবং পরবর্তীকালে ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডের অজুহাত সৃষ্টির জন্য হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি (মুনতাসীর মামুনের ভাষায় হেজাবি)-রা সব সময় কদর্য মিথ্যাচার অবলম্বন করেছে তাদের যাবতীয় প্রচার ও যোগাযোগ মাধ্যমে। চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখা শুধু জঘন্য মিথ্যাচার নয়, ইসলামের দৃষ্টিতেও কবিরা গুণাহÑ যা করতে তারা এতটুকু ইতস্তত করে না।

আফগান ফেরত জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের অন্যতম মুখপাত্র উবায়দুর রহমান খান নদভী ‘ছাগলে কী না খায়, পাগলে কী না কয়’ শিরোনামে গাফ্ফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় বিষোদ্গার করে একটি ব্যক্তিগত নিবন্ধ লিখেছেন মুসলিম নামধারী গোয়েবলসদের মুখপত্র ‘ইনকিলাব’-এ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্য জঙ্গী মৌলবাদীদের চরম উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক বিবৃতি ধারাবাহিকভাবে ছাপছে ‘ইনকিলাব’, ‘সংগ্রাম’, ‘নয়াদিগন্ত’ প্রভৃতি দৈনিক। উদ্দেশ্য একটাইÑ গাফ্ফার চৌধুরীকে উপলক্ষ করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের মূল্যে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করা।

গাফ্ফার চৌধুরীর প্রতি বিষোদ্গারকারী কলমসন্ত্রাসী ইনকিলাবী উবায়দুর রহমান খান নদভীর যাবতীয় লেখার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের তালেবানী আফগানিস্তানে রূপান্তরিত করা। তার একটি বইয়ের নাম ‘আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি।’ এর বিভিন্ন জায়গায় তিনি লিখেছেনÑ

‘...বাংলাদেশের ইসলামপ্রিয় জনতার কাছে আরজ আপনারা ভেবে দেখুন, খোদাদ্রোহী শাসন ও বিশ্বজুড়ে তাগুতি শক্তির বিস্তৃত জালে আটকা পড়ে আমরা যে ধরনের লাঞ্ছিত জীবনযাপন করছি, এখান থেকে আমাদের উদ্ধার হতে হলে সশস্ত্র জিহাদের পথ বেছে নিতে হবে।’ ‘আমার তো মনে হয়, আফগান জিহাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে খোদাভীতি, ইমান, আমল-ইখলাস ও সশস্ত্র সংগ্রামের খুনরাঙ্গা পথই বেছে নিতে হবে। শুধু বাংলাদেশের ১৬ কোটি মুসলমানেরই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উম্মতে মুহাম্মদীর ১২৫ কোটি সদস্যকেই বেছে নিতে হবে সশস্ত্র এই খুনরাঙ্গা পথ।’ ‘আফগান মুজাহিদীনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সার্বিক মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্যে, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ফিলিপিন্স ও পূর্ব ইউরোপসহ সারাÑ বিশ্বের সকল মজলুম মুসলমানের বিজয় ও সাফল্যের জন্যে, বাংলাদেশে ইসলামী জীবনবিধান ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী হুকুমত কায়েমের জন্যে সশস্ত্র জিহাদ ও সংগ্রাম করতে হবে।’

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রতি এই হেফাজত নেতার বিষোদ্গার যে তার আফগান জিহাদেরই অংশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গাফ্ফার চৌধুরীর মতো নিষ্ঠাবান মুসলমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে তাঁকে ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’, ‘কাফের’ বলার এখতিয়ার পবিত্র কোরান যেমন কাউকে দেয়নি, একইভাবে তা আমাদের প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধÑ যার কোনটাতে আস্থা নেই জামায়াত-হেফাজতি জঙ্গী সন্ত্রাসীদের। এমনকি যারা ধর্মের সমালোচনা করে তাদের শাস্তির বিধান ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ব্রিটিশ আমল থেকে থাকলেও কোরানে ‘নাস্তিক’ বা ধর্মের সমালোচনাকারীদের জাগতিক শাস্তির বিধান নেই। ‘ব্লাসফেমি’র ধারণা এসেছে ইহুদী ও খ্রীস্টান ধর্মীয় আইন থেকে। মুসলমানদের ধর্মীয় আইনের প্রধান উৎস পবিত্র কোরানে ব্লাসফেমির জন্য জাগতিক শাস্তির বিধান নেই। নাস্তিক ও আল্লাহ রসুলের সমালোচনাকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান আল্লাহ নিজের হাতে রেখেছেন, তাঁর বান্দাদের দেননি। কোরানে বলা হয়েছেÑ

১. তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা সকলেই অবশ্যই ইমান আনিত। তবে কি তুমি মুমিন হইবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করিবে?* (সুরা : ইউনুস, আয়াত ৯৯)

২. দীন (ইসলাম) সম্পর্কে জবরদস্তি নাই, সত্য পথ ভ্রান্ত পথ হইতে সুস্পষ্ট হইয়াছে। (সুরা : বাকারা, আয়াত ২৫৬)

৩. তুমি যখন দেখ, তাহারা আমার আয়াতসমূহ সম্বন্ধে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয় তখন তুমি তাহাদের (নিকট) হইতে সরিয়া পড়িবে, যে পর্যন্ত না তাহারা অন্য প্রসঙ্গে প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে তবে স্মরণ হওয়ার পরে জালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসিবে না। (সুরা : আন’আম, আয়াত ৬৮)

৪. আল্লাহকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে তাহারা ডাকে তাহাদিগকে তোমরা গালি দিও না। কেননা তাহারা সীমা লঙ্ঘন করিয়া অজ্ঞানতাবশত আল্লাহ্কেও গালি দিবে, এইভাবে আমি তাহাদের কার্যকলাপ সুশোভন করিয়াছি...। (সুরা : আন’আম, আয়াত ১০৮)

৫. যাহারা দীন সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করিয়াছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হইয়াছে তাহাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়; তাহাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। (সুরা : আন’আম, আয়াত ১৫৯)

৬. বল, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে, সুতরাং যাহার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক, যাহার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক। আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি অগ্নি, যাহার বেষ্টনী উহাদিগকে পরিবেষ্টন করিয়া রাখিবে। (সুরা : কাহ্ফ, আয়াত ২৯)

৭. ...যখন তোমরা শুনিবে আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হইতেছে এবং উহাকে বিদ্রƒপ করা হইতেছে, তখন যে পর্যন্ত তাহারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হইবে তোমরা তাহাদের সহিত বসিও না, অন্যথায় তোমরাও উহাদের মতো হইবে। মুনাফিক ও কাফির সকলকেই আল্লাহ্ তো জাহান্নামে একত্র করিবেন। (সুরা : নিসা, আয়াত ১৪০)

৮. আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করিতেন তবে তাহারা র্শিক করিত না এবং তোমাকে তাহাদের জন্য রক্ষক নিযুক্ত করি নাই; আর তুমি তাহাদের অভিভাবকও নহ। (সুরা : আন’আম, আয়াত ১০৭)

৯. তাহারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে তুমি বলিও, ‘আমার কর্মের দায়িত্ব আমার এবং তোমাদের কর্মের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যাহা করি সে বিষয়ে তোমরা দায়মুক্ত এবং তোমরা যাহা কর সে বিষয়ে আমিও দায়মুক্ত। (সুরা : ইউনুস, আয়াত ৪১)

১০. তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং উহাদের সহিত তর্ক করিবে উত্তম পন্থায়। তোমার প্রতিপালক, তাঁহার পথ ছাড়িয়া যে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কাহারা সৎপথে আছে তাহাও তিনি সবিশেষ অবহিত। (সুরা : নাহ্ল, আয়াত ১২৫)

১১. যদি তোমরা শাস্তি দাওই, তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হইয়াছে। তবে তোমরা ধৈর্য ধারণ করিলে ধৈর্যশীলদের জন্য উহাই তো উত্তম। তুমি ধৈর্যধারণ কর, তোমার ধৈর্য তো আল্লাহরই সাহায্যে। উহাদের দরুন দুঃখ করিও না এবং উহাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মন:ক্ষুণœ হইও না। (সুরা : নাহ্ল, আয়াত ১২৬ ও ১২৭)

১২. যাহারা ইমান আনে ও পরে কুফরী করে এবং আবার ইমান আনে, আবার কুফরী করে, অতঃপর তাহাদের কুফরী প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ্ তাহাদিগকে কিছুতেই ক্ষমা করিবেন না। (সুরা : নিসা, আয়াত ১৩৭)

১৩. বল, ‘হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্বন্ধে অন্যায় বাড়াবাড়ি করিও না। (সুরা : মায়িদা, আয়াত ৭৭)

১৪. মু’মিনদিগকে বল, ‘তাহারা যেন ক্ষমা করে উহাদিগকে, যাহারা আল্লাহর দিবসগুলির প্রত্যাশা করে না। ইহা এইজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাহার কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিবেন।’ (সুরা : জাছিয়া, আয়াত ১৪)

কোরানে সহনশীলতা, সমালোচকদের সম্পর্কে ধৈর্যধারণ এবং ক্ষমা সম্পর্কে এরকম আরও অনেক আয়াত আছে যা মওদুদীবাদী ও ওহাবীবাদীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা এসবের উল্লেখ করে না। প্রতিপক্ষকে হত্যা ও জিহাদ সম্পর্কে তাদের পছন্দের কিছু আয়াত তারা প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে খণ্ডিতভাবে যত্রতত্র উদ্ধৃত করে যাবতীয় হত্যা ও সন্ত্রাসের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি যেভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত করছেÑ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তিপ্রদান ব্যতীত ধর্মের নামে তাদের হত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশ মোল্লা উমরদের আফগানিস্তান হবে না, ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী কল্যাণ রাষ্ট্র হবে এটি নির্ধারণ করতে হবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের। ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ ও মৌলবাদী সন্ত্রাসের মাঝামাঝি কোন পথ নেই।

১১ জুলাই ২০১৫

প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৫

১২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: