১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিল্পকলা একাডেমির জেলা-উপজেলায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য শিল্প-সংস্কৃতি নিশ্চিতকল্পে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এই কর্মপরিধি এখন বিস্তৃত হয়েছে জেলা থেকে উপজেলায়। বর্তমানে ৬৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও দেশব্যাপী ৪৮৯টি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে একাডেমি। আর এই সুবিশাল কর্মসূচী সুষ্ঠুভাবে পরিচাল

না, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে সকল জেলা কালচারাল অফিসারদের অংশগহণে শনিবার দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচী বাস্তবায়নে তাঁদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেয় প্রতিটি জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদসহ একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলাকে ঘিরে শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এতে লিয়াকত আলী লাকী সভায় গ্রহণকৃত কর্মসূচী উপস্থাপন করেন। এ সময় একাডেমীর বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ কোটি মানুষকে শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চায় গ্রহণকৃত কর্মসূচী প্রসঙ্গে জানানো হয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আওতায় নির্মিত ৪৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন মেরামত ও সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প ও সাহিত্যচর্চার পরিধি বাড়াতে সকল জেলা একাডেমিসমূহে গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হবে। যেসব জেলায় এখনও রেপার্টরি নাট্যদল, শিশুদের নৃত্য ও সঙ্গীতদল, বড়দের নৃত্য ও সঙ্গীতদল গঠিত হয়নি সেসব জেলায় শিল্পীদল গঠন করা হবে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভুল সুর ও কথায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। এই ভ্রান্তি দূরীকরণে জেলায় জেলায় জাতীয় সঙ্গীত প্রশিক্ষণ কর্মশালা গ্রহণ করা হবে। জেলা একাডেমিসমূহের কর্মকা- বিস্তৃতকরণের স্বার্থে নিয়মিতভাবে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। প্রতিটি জেলার গুণী সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, অভিনয়শিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা ও উপজেলায় চলচ্চিত্র সংসদ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রতিবন্ধী ও অবহেলিত মানুষের পৃথক সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেল এবং ফোকলোর সেল গঠন করাসহ দেশজ সংস্কৃতির বিকাশে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সম্পন্ন হলো যাত্রাশিল্পের জাতীয় সম্মেলন ॥ যাত্রাশিল্পের জন্যে চাই এক নির্মল সকাল সেøাগানে অনুষ্ঠিত হলো যাত্রাশিল্পের জাতীয় সম্মেলন। শনিবার বিকেলে ঢাকাসহ সারা দেশের যাত্রামালিক-শিল্পী ও সংগঠকদের অংশগ্রহণে সরব হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলো। বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদ আয়োজিত সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি যাত্রাশিল্পের সমস্যা ও সঙ্কট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প মাধ্যমটির জাতীয় পার্যায়ে উত্তরণের লক্ষ্যে উঠে আসে নানা সুপারিশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান। বিশিষ্ট যাত্রাব্যক্তিত্ব সুলতান সেলিমের সভাপতিত্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যাত্রানট মিলন কান্তি দে।

সম্মেলনের মূল বক্তব্যে পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন কান্তি দে বলেন, বাঙালীর হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থধারায় প্রবাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই অনবদ্য প্রয়াসে আগামী দিনে যাত্রাশিল্প থেকে অশ্লীলতা রোধে এবং পরিচ্ছন্ন যাত্রাশিল্পচর্চার নিমিত্তে দেশের সর্বস্তরের যাত্রাদলের মালিক, সংগঠক শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন। বর্তমানে যাত্রাশিল্প নানা সমস্যায় আক্রান্ত। যাত্রাশিল্পীরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। মূলত অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও অশ্লীলতা নষ্ট করেছে এই শিল্পটিকে। যাত্রায় নাচ থাকবেÑএটাই স্বাভাবিক। তবে সেটা অশ্লীল নয়, হতে হবে শিল্পিত। যাত্রাশিল্পের সোনালি দিনকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। নাগরিক সমাজে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এ জন্য শিল্প মাধ্যমের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অশ্লীলতাবিরোধী টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। যাত্রাশিল্পের অবনতির আরেকটি কারণ হচ্ছে একই যাত্রা বার বার মঞ্চস্থ হচ্ছে। শিল্পটির পুনরুজ্জীবনে সমকালীন ভাবনা নিয়ে নতুন যাত্রাপালা মঞ্চস্থ করতে হবে। পাশাপাশি যাত্রা নিয়ে প্রতিবছর একটি করে উৎসবের আয়োজন করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিল্পীরা উঠে আসবে। নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়ে এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারলে আবার জীবন ফিরে যাত্রাশিল্প। তিনি আরও বলেন, কোনও সরকারই এই শিল্পের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়নি। তারপরও আশার বিষয় হচ্ছে, বর্তমান সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এছাড়াও বক্তব্য তিনি রাজধানীতে একটি যাত্রামঞ্চ নির্মাণের সুপারিশ করেন সরকারের প্রতি।

কবি আল মাহমুদের জন্মদিন উদ্্যাপিত ॥ শনিবার ছিল প্রখ্যাত কবি আল মাহমুদের ৮০তম জš§দিন। ভক্ত ও অনুরাগীদের সঙ্গে নিয়ে জন্মদিনটি উদ্্যাপনের আকাক্সক্ষা করেছিলেন এই কবি। আর সেই আকাক্সক্ষা পূরণে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আল মাহমুদ ক্লাব। আয়োজনের সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগে শোনা গেল কবি আসছেন না। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। ডাক্তারের পরামর্শে বিশ্রামে থাকতে হবে। তাই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জš§দিন কাটাতে হলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদকে।

কবির অসুস্থতা প্রসঙ্গে আল মাহমুদ ক্লাবের সভাপতি কবি আসাদ চৌধুরী বলেন ‘আল মাহমুদের বয়স হয়েছে। কানে শুনেন কম। অথচ এখনও তিনি শব্দ নিয়ে খেলা করেন। কবিতা লেখেন। প্রবন্ধ লেখেন। তার ইচ্ছে ছিল তার ৮০তম জš§দিনটিতে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাবেন। হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসতে অনুষ্ঠানে আসতে পারলেন না তিনি। তাকে ঘিরে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের কথা জানতে পেরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন, হয়ত সে জন্য অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আশা করি, তিনি সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। নতুন নতুন কবিতা উপহার দেবেন।’

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আল মাহমুদ ক্লাব আয়োজিত আল মাহমুদের ৮০তম জš§দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল পৌনে ৫টায়। ক্লাবের সভাপতি কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও গীতিকবি কেজি মুস্তাফা, প্রাবন্ধিক ও কবি ফরহাদ মজহার, রাজনীতিক গোলাম মাওলা রনি, কবি ও সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, ছাড়াকার আবু সালেহ, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক চিত্রশিল্পী আবদুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর সাবেক পরিচালক আবদুল মজিদ, কথাশিল্পী আফরোজা পারভীন প্রমুখ। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি জাকির আবু জাফর।

আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক মানুষ আছেন যারা আল মাহমুদের কবিতা পড়ে তার ভক্ত আবার অনেক মানুষ আছেন যারা তার কবিতা না পড়ে তার সমালোচক। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের অনেক লেখা হয়ত খসে যাবে কিন্তু আল মাহমুদের সোনালী কাবিনের একটি পঙক্তিও কোনদিন বিলুপ্ত হবে না।’

অন্য বক্তারা আল মাহমুদের কবিসত্তা ছাড়াও বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং একই সঙ্গে তার সুস্থতা কামনা করেন। এর আগে কবি আল মাহমুদের পক্ষে জš§দিনের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন আসাদ চৌধুরী। কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন নজরুল আবৃত্তি পরিষদ, সেই বই, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), স্বাধীনতা ফোরাম, জিয়া সংসদের নেতৃবৃন্দ। ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন শিশুসাহিত্যিক রহিম শাহ, কবি দীলতাজ রহমানসহ আরও অনেকে। কবিকে নিবেদন করে কবিতা ও কবির কবিতা থেকে কবিতা পাঠ করে শ্রদ্ধা জানান শায়লা আহমেদ, শামীমা চৌধুরী, নাসিম আহমেদ, কচি ওবায়দুল্লাহ ও উম্মে হাবীবা প্রীতিলতা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: