মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

‘প্রেস’ লেখা বাইকে বহন করা হতো জাল টাকা

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫, ০১:১৩ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মোটরসাইকেলের সামনে টাঙানো নেমপ্লেট- তাতে লেখা ‘প্রেস’। এটা দেখলে আর ঠেকায় কে? পুলিশ র‌্যাব আনসার- সবাই তো প্রেস লেখা দেখলে কিছুটা সমীহ করেই। আর এটাই ছিল নিরাপদে জাল টাকা বহনের অন্যতম উপায়। র‌্যাব যখন জাল টাকার আস্তানায় হানা দিয়ে সব জব্দ করে, তখন বাদ যায়নি প্রেস লেখা মোটরসাইকেলটিও।

রাজধানীর আদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ লাখ জাল টাকা এবং জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এরপর সাংবাদিকদের জানানো হয়, জাল টাকা পরিবহনের জন্য তারা মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লিখে চলাচল করত। গ্রেফতারেরা হলেন মোছাম্মাত জামিলা আক্তার মানিজা (৩০) ও মোঃ হামিদুর রহমান (৩৭)।

র‌্যাব-১ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহবুবুর রহমান শুক্রবার জানান, আদাবরের বায়তুল আমান আবাসিক এলাকায় জাল টাকা তৈরি করা হয়- এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে বায়তুল আমান হাউজিংয়ের ১৫ নম্বর রোড থেকে জামিলাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার ৯০৩ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার ৫/এ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে হামিদুরকে জাল টাকা তৈরির সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, ওই বাসা থেকে ২৫ লাখ সাত হাজার ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট, এগুলো বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মোটরসাইকেল, টাকার নিরাপত্তা সুতাযুক্ত কাগজ পাঁচ কেজি, টাকা তৈরির ট্রেসিং কাগজ ৩০ কেজি, ল্যাপটপ একটি, প্রিন্টার চারটি, এক হাজার টাকার ছাপযুক্ত কাগজ ১১০টি, জাল টাকা তৈরির ডাইস ১২টি, বোর্ড দুটি, লেমিনেটিং মেশিন একটি, কাঁচের ফ্রেম চারটি, অসংখ্য প্রিন্টার কার্টিজ, জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত প্রায় ২০ কেজি পরিমাণ বিভিন্ন কেমিক্যাল, জাল টাকা তৈরির নিরাপত্তা সুতার রোল চারটি, কাটা নিরাপত্তা সুতা ১০ গ্রাম, জাল টাকা কাটার ছুরি তিনটি, ব্লেড চার প্যাকেট, একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ‘দৈনিক মুক্ত খবর’ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

মাহবুবুর রহমান জানান, র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী মোঃ আলামিন ওরফে বাবু ওরফে কালাবাবু এবং তার স্ত্রী আসমা আক্তার টুকটুকি পালিয়ে যায়। শুক্রবার গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এ চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘পরিবার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া করত। পরে সেই ফ্ল্যাটেই তারা জাল নোট তৈরি করত। গ্রেফতার হামিদুর একটি আবাসন কোম্পানিতে ঠিকাদারের কাজের পাশাপাশি এ কাজ করত। তার পরিবারের সদস্যরা এ ব্যাপারে কিছুই জানত না। এ চক্রের সদস্যরা জাল টাকা পরিবহনের জন্য মোটরসাইকেলের সামনে প্রেস লিখে চলাচল করত।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫, ০১:১৩ এ. এম.

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: