মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আবর্জনার ভাগাড় যশোর শহর

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলছে শহরবাসী। এ ময়লা পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে যশোর যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় দুর্গন্ধে বসবাসের অযোগ্য হচ্ছে শহর। এদিকে ডাস্টবিনের অভাবে বসতবাড়ির আশপাশের ড্রেনেও ময়লা ঢালছে অনেকে। ফলে শহরের অধিকাংশ ড্রেন ভরে গেছে ময়লা-আবর্জনায়। তাই বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকায় ৯টি ওয়ার্ডে ডাস্টবিন রয়েছে ৪৮টি। বছরখানেক পূর্বেও যার সংখ্যা ছিল ১৩০। বিভিন্ন সময়ে ৮২টি ডাস্টবিন ভেঙ্গে ফেলেছে এলাকাবাসী।

সরেজমিন পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাড়া-মহল্লার রাস্তা থেকে শুরু করে মহাসড়কের পাশে জমে রয়েছে ময়লার স্তূপ। যে কয়েকটি ডাস্টবিন রয়েছে সেগুলোও ব্যবহার না করে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে জমে থাকা আবর্জনায় গবাদি পশু, কুকুর, কাক বিচরণ করে ময়লার স্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিচ্ছে। ফলে একটু বাতাস হলেই চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নাক চেপে চলাফেরা করছে পথচারী। এদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে খানা-খন্দে ভরা শহরের কিছু এলাকার রাস্তা পানিতে থৈ থৈ করছে। একদিকে রাস্তায় পানি, আরেক দিকে ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত কাদা-পানির মধ্যে চলছে শহরের মানুষ। রেলগেট হোটেলের পার্শ্বে, রেলগেট জামে মসজিদের সামনে, জিলা স্কুলের সামনে, ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ও কালেক্টরেট স্কুলের পাশে, লোহাপট্টি রোডে, কোতোয়ালি থানার পাশেসহ শহরের সব জায়গায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। রেলগেট এলাকায় বাসিন্দা তৌহিদুল আজীম, মনিরুজ্জামান লিখন, ফিরোজ হক, গৃহবধূ রেহেনা বেগম, স্কুলশিক্ষক আজিজুর রহমানসহ আরও অনেকে অভিযোগ তুলে বলেন, পুরো এলাকায় একটি মাত্র ডাস্টবিন। সেটির অবস্থান রায়পাড়া প্রাইমারি স্কুলের পাশে, যে কারণে অনেকে ড্রেনে ময়লা ফেলছে। আবার অনেকে ফেলছে রাস্তায়। পৌরসভার ময়লা অপসারণের গাড়ি নিয়মিত না আসায় রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ জমছে।

এদিকে রায়পাড়া প্রাইমারি স্কুলের পাশের বাসিন্দা মোহাম্মদ রেজা জানান, স্কুলের পাশে ডাস্টবিন না থাকলেও সেখানে আবর্জনা রাখায় গন্ধে রাস্তায় হাঁটা যায় না। যশোর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে কথা হয় গৃহবধূ শারমিন আক্তার ও তার ছেলে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র রিয়াজের সঙ্গে। জানা যায়, জিলা স্কুলের সামনের ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গা গুলিয়ে আসে।

এ বিষয়ে পৌর সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, শহরের এমন অবস্থায় আমরা বিব্রতকর অবস্থায় আছি। পরিবহন ও অর্থ সঙ্কটের কারণে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা যাচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়ি নষ্ট রয়েছে। আর গাড়িগুলো বেশ পুরনো। যার কারণে বার বার নষ্ট হয়। তিনি আরও জানান, মাত্র চারটি নতুন গাড়ি থাকলে শহর ঝকঝকে তকতকে রাখা কোন ব্যাপার নয়।

আসন্ন বাজেটে নতুন করে ডাস্টবিন নির্মাণের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ডাস্টবিন নির্মাণ করতে চাইলেও জায়গার সঙ্কটের কারণে নির্মাণ সম্ভব হয় না। কারণ কেউ এ কাজে জায়গা দিতে চায় না। আবার অনেক সময় ডাস্টবিন ভেঙ্গে ফেলা হয়। তবে বাজেটে এ কাজে বরাদ্দ থাকছে।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: