২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বগুড়া শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বেহাল দশা


স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ কথা ছিল বগুড়া শহরকে তিলোত্তমা নগরীতে গড়ে তোলা হবে। সে গুঁড়ে বালি পড়েছে অনেক আগেই। এখন বর্ষাকালে এই নগরীর পাকা সড়ক আছে কি না তা বোঝা খুব কঠিন। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতটাই বেহাল হয়ে পড়েছে যে মাঝারি বৃষ্টিতেই শহরের বড় একটা অংশ ডুবে যায়। মনে হয় বড় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে এই নগরী। নগরবাসী পৌর মেয়রকে বছরে কতবার যে এই বিষয়টি জানিয়েছে এবং বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেতে তার টেবিলে কত আবেদন পড়ে তার হিসাব নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যত কোন কাজই হয় না। গ্রীষ্ম মওসুম শেষ হওয়ার আগে সামান্য বৃষ্টিতেই যখন পৌরবাসীর নাজেহাল অবস্থা তখনই বলাবলি হয় এবার বর্ষায় শহর না জানি কত ডুবে যায়। হয়েছেও তাই। আষাঢ়ের ভারি বর্ষণে নগরবাসী নাকাল। তারওপর বৃষ্টি ঝরা শুরু হলেই সাতমাথা থেকে পার্ক রোডের বড় অংশ, মেলপুর রোডের দুটি লিঙ্ক রোডের মোড়, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক হয়ে বড়গোলা দত্তবাড়ি মোড়ে যে জ্যাম লেগে যায় তা সহজে ছুটতেই চায় না। ওই পথগুলোতে যানবাহনের প্রায় অর্ধেক পানিতে এমনভাবে ডুবে থাকে, মনে হবে ডুবে থাকা বগুড়া শহরের পথে এ্যাম্ফিবিয়াস গাড়ি (যে গাড়ি পানিতে ও ডাঙ্গায় চলতে পারে) চলছে। এর মধ্যেই এবার বর্ষার আগেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে। ঝড়ও হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই অধিকাংশ এলাকার পথঘাট এমনকি কোন এলাকার বাসা বাড়িতেও স্রোতের মতো পানি ঢোকে। শহর ও শহরতলির নিম্নাঞ্চল তো বর্ষা মওসুমজুড়েই জলবাবদ্ধতার এলাকায় পরিণত। শহরের প্রধান কেন্দ্র সাতমাথা থেকে উত্তর দিকে কবি নজরুল ইসলাম সড়ক হয়ে পশ্চিমে বাদুরতলা চক সূত্রাপুর এলাকা, উত্তরের বড়গোলা টিনপট্টি, উত্তর পশ্চিমের কাটনারপাড়া, সুলতানগগঞ্জ, ফুলবাড়ি, বৃন্দাবনপাড়া, পূর্ব দিকের চেলোপাড়া, নারুলী, দক্ষিণ দিকের সূত্রাপুর, ঠনঠনিয়া, মালগ্রাম, জহুরুলনগরসহ আশপাশের সমস্ত এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গত বছর কয়েক দফায় টানা ভারি বৃষ্টিপাতে শহর প্রায় ডুবেই গিয়েছিল। চলতি বছর ৪ এপ্রিল ঝড় ও টানা ভারি বর্ষণে শহরের অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে দুই দিনেও অনেক এলাকার পানি অপসারণ করা যায়নি। সূত্র জানায়, বগুড়া পৌরসভায় মোট সড়ক রয়েছে প্রায় আটশ’ কিলোমিটার। পৌর নির্মাণশৈলী অনুযায়ী সড়কের আনুপাতিক হারে ড্রেনের যে দৈর্ঘ্য থাকার কথা কার্যত তা নেই। নগরায়ণের নিয়ম অনুযায়ী শহরের মোট আয়তনের অন্তত ২৫ শতাংশ সড়ক থাকার কথা এবং এসব সড়কের দুই ধারে পাকা ও সুপরিসর ড্রেন থাকতে হবে। বাস্তবে সেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শহরের মোট আয়তনের আনুপাতিক হারে সড়ক আছে সাত শতাংশেরও কম। সাধারণত সড়কের উভয় পাশেই ড্রেন থাকার কথা। কোথাও তাও নেই। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য মাত্র ৭১০ কিলোমিটার। যার আবার ২৭০ কিলোমিটার কাঁচা। শহরের পুরানো ১২টি ওয়ার্ডের ড্রেনের প্রশস্ততা মাত্র দুই ফুট। কম প্রশস্তের এই ড্রেনগুলো ময়লা আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি উপচে শহরে দুর্গন্ধ ছড়ায়, ওই পথ দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পচা নোংরা পানির মধ্যে হাঁটাচলা করতে হয়। নোংরা পানি টক্সিক হয়ে পড়ায় একবার পানিতে পা ভিজালে চর্ম রোগের পাল্লায় পড়তে হয়। এই অবস্থার মধ্যে দিনগুজরান করতে হয় নগরবাসীকে। প্রতি বছর নগরীতে নতুন মানুষের আগমন ঘটছে ও তারা বসতি গড়ছে। সেই অনুপাতে বাড়ছে না পথঘাট ড্রেন। শহরের নিচু এলাকাগুলো যেমন মালতিনগরের নামাপাড়া, জহুরুলনগর, জামিলনগরের অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে গেলে অসহনীয় দুর্ভোগের ফেরে পড়ে এলাকাবাসী। ওই এলাকার লোকজন জানায়, প্রতিবারই পৌর কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কাজ কিছুই হয় না। পৌর প্রকৌশলীর কথা, ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার একটা প্রোগ্রাম নেয়া আছে। আশা করা যায় দুর্ভোগ কিছুটা কমবে। পৌর মেয়র বললেন, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে শহরে নতুন ৬ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর বাইরে বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। আরেক সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে বগুড়া শহরে রাস্তা চওড়া করার সময় কথা ছিল ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করে করতোয়া নদীর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা হবে। বিশেষ এই প্রকল্পটি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।