১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ঢাকার ছাদে ‘গ্রীন মুভমেন্ট’


এমদাদুল হক তুহিন ॥ প্রায় চার বছর ধরে ছাদে বাগান করছেন রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসিন্দা আবু সাইদ। ত্রিতল বাসার ছাদে ৩০ ধরনের ফুল ও ফল গাছের সংগ্রহ রয়েছে তার। দুষ্প্রাপ্য লাল তুলসী গাছও রয়েছে সাইদের বাগানে। আছে রক্তজবা, সাদা জবা, পেয়ারা, কলাগাছ; এমনকি বট বনসাইও। বাদ যায়নি বাঁশবনের সংগ্রহও। তবে সেগুলো যতেœর অভাবে মরতে বসেছে। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও সাইদ পরিবেশপ্রেমী, গাছপ্রেমী। বহু সাধনায় বহু কষ্টে নানা গাছে সমৃদ্ধ করে চলছেন তার ছাদে, যেন সাজানো-গোছানো ছাদের বাগান। শুধু সাইদের ছাদে নয়, রাজধানী ঢাকার বহু ছাদেই টবে করা হচ্ছে বাগান। এমনকি তা প্রসারিত হচ্ছে ঢাকার বাইরেও। যান্ত্রিক নগরী ঢাকার বাইরে প্রতিটি বিভাগ ও জেলা শহরগুলোর ছাদেও চলছে বাগানের প্রসার।

রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানম-ি, বনানী, গুলশান, বারিধারার অধিকাংশ ছাদেই রয়েছে বাগান। এসব এলাকার বাসা-বাড়ির ব্যালকুনিতেও নানা ধরনের বাহারি গাছের দেখা মেলে। সখের বসে কিংবা প্রাকৃতিক নির্মল পরিবেশের নেশায় প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে সবুজায়ন। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেন ঢাকা আবারও একদিন সবুজে ভরে উঠবে। শেওড়াপাড়ার নিজের বাসায় বসবাস করেন তরুণ শিক্ষার্থী নাসিফ। বাসায় বাগান করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বাসায় টবে কিছু গাছ রয়েছে। ফুল ও ফলের গাছ তো আছেই। তবে তা সীমিত। এলাকার বহু বাসার ছাদেই বাগান লক্ষ করা যায়। ছাদে বাগান করা এখন একটি ট্রেডিশনও বটে।

রাজধানী ঢাকায় চলছে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০১৫। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একটি স্টল রয়েছে। ছাদে বাগান করার প্রসঙ্গে নানাভাবে অনুপ্রেরণা দেয়া হচ্ছে স্টলটিতে। সাজানো আছে নানা ধরনের গাছ। করলা, আম, পেয়ারা, পুঁইশাক, মরিচ, বাতাবী লেবু, চেরীফল, আনার, আমড়া, আনারসসহ একাধিক গাছ টবে সাজানো আছে, আর এসব টবের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা দেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। গত মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও স্টলটিতে কোন কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। মেলায় বৃক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক মন্ত্রণালয়ের স্টলও রয়েছে।

নগরীকে সবুজায়নে পরিপূর্ণ করে তুলতে সরকারী বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও তেমন প্রচার প্রচারণা লক্ষণীয় নয়। তবে বেসরকারী উদ্যোগে সচেতনতা সৃষ্টিতে কয়েকটি সংগঠন কাজ করছে। ছাদে বাগান করা উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ গ্রীন রুফ মুভমেন্ট নামের একটি সংগঠন ৯০-এর দশক থেকে কাজ করে চলছে।

চালাচ্ছে প্রচার-প্রচারণাও। বাগান করার প্রতি উৎসাহীদের একত্রিক করার মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলনের লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা, দাবি সংগঠনটির। পূর্ববর্তী সময়ে ‘রুফ গার্ডেনিং’ নামে সংগঠনটি পরিচিত ছিল, শুধুমাত্র সামাজিক আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে নামে পরিবর্তন এনে মুভমেন্ট বা আন্দোলন সংযুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ গ্রীন রুফ মুভমেন্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম হায়দার জনকণ্ঠকে বলেন, দেশে ৪ থেকে ৫ শতাংশ ছাদে বাগান রয়েছে। বর্তমানে আমাদের সংগঠনের সদস্য প্রায় ১৬৫। ছাদে বাগান করতে ভালবাসেন এমন যে কেউ সংগঠনের সদস্য হতে পারেন। মূলত নগরীকে সবুজায়ন করে তোলার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রয়াস।

ছাদে বাগান করার উপকারিতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ছাদে বাগান করলে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের অভাব হয় না। ওই ভবনগুলোর তাপমাত্রা হ্রাস পায়। বাগানযুক্ত ছাদ ও বাগান ছাড়া ছাদের মধ্যে তাপমাত্রার বিস্তর ফারাক থাকে। ফলে ছাদে বাগান করলে এক্ষেত্রেও সুবিধা।

গোলাম হায়দার আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকেও ছাদে বাগান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে তাদের নিজস্ব ভবনগুলোর ছাদে কোন বাগান নেই। তাই তারা যেন নিজেরা বাগান করার পর অন্যদের পরামর্শ দেয়, এতে করে জনসাধারণ ছাদে বাগান করার প্রতি আরও বেশি করে উৎসাহিত হবে।

যে কেউ ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিলে বাংলাদেশ গ্রীন রুফ মুভমেন্ট সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন। তবে তাকে অবশ্যই বাগানপ্রেমী হতে হবে, বাসার ছাদ থাকা এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। সংগঠনের সদস্যকে প্রতিমাসে ৫০ টাকা করে চাঁদা প্রদান করতে হবে। আর সদস্য হতে চাইলে ৬ মাসের চাঁদা একসঙ্গে প্রদান করে সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হয়। একাধিক বাগানপ্রেমী ও বৃক্ষপ্রেমীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিন দিন ছাদে বাগান করার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ছাদে বাগান করার আকর্ষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে দেশে নার্সারি ব্যবসা প্রসারিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনাও রয়েছে।