মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

ডিজাটাল যুগে কষ্ট কমিয়ে দিচ্ছে অনলাইন শপিং সাইটগুলো। পিছিয়ে নেই সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক। কম্পিউটারে ব্রাউজ করলেই ঘরে বসে পাওয়া যাচ্ছে নিজের পছন্দমতো পোশাক, গহনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

অনলাইন শপিং শুনলেই অনেকে মনে করেন, টাকা দিতে হবে ডেডিট বা ক্রেডিট কার্ডে। তবে সেই সমস্যাও এখন বলতে গেলে নেই। বেশিরভাগ অনলাইন শপই ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সার্ভিস দিয়ে থাকে।

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করেন বা যারা বাজারের ভিড় ঠেলে আর দরদাম করে চাল, ডাল, তেল, সবজি কেনার ঝামেলা এড়াতে চান তারাও এখন ঘরে বসে পেতে পারেন প্রতিদিনকার অপরিহার্য বাজার-সদাই। আর এর জন্য প্রায় এক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পযধষফধষ.পড়স।

মাউসের ক্লিকেই কেনা যাবে চাল, ডাল বা সবজি। গ্রোসারি, স্টেশনারি এবং বেবি প্রোডাক্ট সবই রয়েছে এই অনলাইন দোকানে।

চালডাল ডটকমের ওয়াসিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঢাকা এবং উত্তরার মধ্যে তারা বাসায় পণ্য পৌঁছে দেন। ৪শ’ টাকার নিচে অর্ডার করলে তারা ডেলিভারি চার্জ করেন ৪০ টাকা। তবে অর্ডারের পরিমাণ বেশি হলে গ্রাহক সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ঘরে বসে পেয়ে যাবেন তার সামগ্রী। আর ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’র সুবিধা তো আছেই।

ওয়াসিম বলেন, ‘প্রায় ১ বছর হতে চলল আমাদের সাইটের বয়স। প্রতিদিনের চাল ডাল, সবজির পাশাপাশি, বর্তমানে স্টেশনারি এবং বেবি প্রোডাক্টসও সরবরাহ করে থাকি আমরা। মূলত কর্মজীবী এবং বাজারে যেতে পারেন না এমন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আমাদের সাইট।”

তিনি আরও বলেন, “মাসে প্রায় ১ হাজার অর্ডার পাই। পুরো ঢাকাতেই হোম ডেলিভারি সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী এলাকাগুলোতে এখনও সার্ভিস দিতে পারছি না। প্রধান কারণ এসব এলাকার রাস্তাঘাট।”

ওয়াসিমের কাছ থেকে জানা গেল, চালডাল ডটকম বাজার মূল্যেই সরবরাহ করে প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় পণ্য। প্রতিদিনকার শাকসবজি কারওয়ান বাজার থেকে সংগ্রহ করেন। আর তিন ধরনের মিনিকেট চাল তাদের গোডাউনে স্টক করে রাখা হয়।

ছেলে ও মেয়েদের পোশাক, বেবি প্রোডাক্টস, কসমেটিকস, খাবার এসব মিলিয়ে বিশাল এক সম্ভার ফৎবধসংযড়ঢ়নফ.পড়স. বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোন, ট্যাবলেট, পেনড্রাইভ এবং কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট উপকরণও পাওয়া যায় এখানে।

পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও চলছে বিশ্বকাপ ম্যানিয়া। প্রিয় দলের জার্সির পাশাপাশি অনেকেই শখ করে কিনছেন ফুটবল খেলার বুটজুতা। আর পছন্দসই বুটজুতা ঘরে বসেই পেতে চাইলে কম্পিউটারে বসে একটু চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন রভবৎর.পড়স।

এ সাইটে রয়েছে নানা ব্র্যান্ডের বুটজুতার পাশাপাশি বিভিন্ন দলের জার্সি। আরও আছে ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের পোশাক এবং রেপ্লিকা ঘড়ি, সানগ্লাস, কিয়ামি অল ইন ওয়ান সেটসহ আরও অনেক কিছু।

চামড়ার বেল্ট এবং মানিব্যাগও কেনা যায় এই সাইট থেকে। অর্ডার করতে নিজের ই-মেইল আইডি দিয়ে খুলতে হবে এ্যাকাউন্ট। আর সেই এ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই ঘরে বসে কেনাকাটা করতে পারবেন গ্রাহক।

প্রসাধনী, পোশাক এবং গহনা কেনাকাটা করতে চাইলে ব্রাউজ করুন ধঢ়ংযড়ৎধ.পড়স। বাজার দামের চাইতে কম মূল্যে পেয়ে যাবেন অনেক ব্র্যান্ডের দেশী এবং বিদেশী প্রসাধনী।

এই অনলাইন দোকানের প্রতিষ্ঠাতা শায়লা কাজি বলেন, “যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং থাইল্যান্ড থেকে প্রসাধনীগুলো আনাই। তাছাড়া ভারতে আমি নিজে গিয়ে সাইটের জন্য জুয়েলারি নিয়ে আসি। তাই বাজার মূল্যের তুলনায় এসব পণ্য কম দামে দিতে পারি।”

“শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, ডে ক্রিম, নাইট ক্রিম, শাওয়ার জেল, মেনজ আইটেম এমন অসংখ্য প্রোডাক্ট দিয়ে সাজানো এই অনলাইন দোকানে রয়েছে নিজস্ব ডেলিভারি ম্যান। যারা অর্ডার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দেয়।” বললেন শায়লা।

প্রথমে প্রসাধনী দিয়ে শুরু করলেও পরে নিজের নকশা করা কিছু পোশাক এবং গহনা সাইটে রাখা শুরু করেন শায়লা। ঈদ উপলক্ষে তার সাইটের সব পণ্যের ওপরে ১০% ছাড় দিচ্ছেন।

বইপ্রেমীদের কাছে ঘরে বসে বই কেনার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে ৎড়শড়সধৎর.পড়স। দেশী, বিদেশী মিলিয়ে প্রায় ৮৬ হাজার বইয়ের সম্ভার নিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনলাইন বইয়ের দোকান।

প্রায় আড়াই বছর আগে শুধু বই নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও গ্রাহকদের জন্য ভিন্ন ধরনের পণ্য দিয়েও সাইট সাজানোর পরিকল্পনা করছেন তারা। এমনটাই জানালেন এই সাইটের একজন উদ্যোক্তা সোহাগ।

তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ২শ’ থেকে ৫শ’ অর্ডার পেয়ে থাকি আমরা। শুধু ঢাকা শহরে নয়, বরং পুরো দেশজুড়ে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সুবিধা দেই।”

সাইটে নেই, এমন কোন বইয়ের অর্ডার করা হলেও সেটি বাইরে থেকে এনে দেয় তারা। এক্ষেত্রে বইয়ের দাম পড়বে কিছুটা বেশি।

সোহাগ বলেন, “দু’বছর আগে শুধু বই দিয়ে রকমারি ডটকমের যাত্রা শুরু করেছি। তবে আমাদের উদ্দেশ্য আমাজন ডটকমের মতো একটি সাইট তৈরি করা। আমরাই প্রথম ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সুবিধা দিতে শুরু করেছিলাম। তাছাড়া বই বা অন্য যে কোন পণ্যে যদি সমস্যা থাকে তাহলে আমরা তখনই সেটি বদলে দেই।”

এমনই আরও অনেক সাইটের মধ্যে আছে ধঢ়ড়হুড়হব.পড়স, শঁফড়ৎড়.পড়স, ৎিরংঃনধহফং-যড়ঁংব.পড়স, অসধৎএধফমবঃ.পড়স, ভবৎরড়ষধ.পড়স, নধহমষধংযড়ঢ়ঢ়বৎং.পড়স, ধশযড়হর.পড়স, মড়ঢ়ড়হলরহরংয.পড়স, নরঢ়ড়হবব.পড়স, ঢ়ৎরুড়ংযড়ঢ়.পড়স, ফধস.পড়স.নফ, নফবনধুধধৎ.পড়স, ধলশবৎফবধষ.পড়স ইত্যাদি।

শুধু মাছ কেনাকাটার জন্য রয়েছে ভরংয.পড়স.নফ

দেশী ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পোশাক কেনার জন্য রয়েছে নধহমষধফবংযনৎধহফং.পড়স

রঙ, এক্সট্যাসি, সাদা-কালো, মেন্জেক্লাব, প্রবর্তনা, নগরদোলাসহ ৩৯টি ব্র্যান্ডের ২১ হাজারেরও বেশি রকমের কাপড় রয়েছে। আরও আছে ১০ হাজারেরও বেশি বই, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

এখান থেকে ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ড, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস কার্ড, কিউ-ক্যাশ কার্ড অথবা আপনার যে কোন ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড অথবা বিকাশের মাধ্যমে কেনা যাবে।

দেশের সুপার শপ মিনাবাজারও গ্রাহকদের অনলাইন সার্ভিস চালু করেছে সববহধনধুধৎ.পড়স.নফ থেকে যাবতীয় পণ্য কেনা যাবে।

অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেইসবুক। প্রায় তিন বছর ধরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অনলাইন শপিংয়ের ফ্যান পেইজগুলো। ফেইসবুকে পেইজ তৈরি করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাতে দেশীবিদেশী নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন।

ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন পেজগুলো বেশিরভাগই বিদেশী জুয়েলারির জন্য জনপ্রিয়। তাছাড়া দেশীয় বাজারে সহজলভ্য নয় এমন ‘এক্সক্লুসিভ প্রোডাক্ট’ কেনার জন্যও দারুণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক পেজগুলো। বিক্রেতার সঙ্গে ফেসবুক পেজে বা ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়। কোন পণ্য না থাকলেও ফেসবুকের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তা আনিয়ে দেয়।

বিদেশী এবং ভিন্নধর্মী অলঙ্কার কিনতে চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ংঢ়ধৎশষরহমঢ়রীরবং, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/উধুুষরহম.ঐধুব, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ধৎড়নং১২, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/বঃপবঃৎ, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/বষড়সবষড়.নফ, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/অপপবংংড়ৎরবং.উৎবধসং, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঃঁশরঃধশরংযড়ঢ়ঢ়রহম, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঢ়ধমবং/ঝঢ়ধৎশষরহম-ঈড়ৎহবৎ/২৫৪৫৫৩৪৩৪৬৮৬২২৩?ৎবভ=যষ, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ষধফুরপড়হরপনফ, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঈষঁন১৮.ইউ ইত্যাদি পেজগুলো।

অনেক পোশাক ডিজইনার তাদের নকশা করা পোশাক বিক্রির জন্য বেছে নিয়েছেন ফেসবুক। আবার দেশ বিদেশের বিভিন্ন পোশাকের রেপ্লিকাও তৈরি করে দিচ্ছেন অনেকে।

তাছাড়া ফেইসবুকেই চামড়ার তৈরি জিনিস কিনতে চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ারঢ়বৎষবধঃযবৎ

ভিন্নধর্মী সাইটের মধ্যে আছে ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঢ়ধমবং/ঞৎবহফুনড়মৎধ/৩৫৩৭৩৩৯৯১৩৮৭৭০০। ছেলেদের টি-শার্টের জন্য আছে ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঐবধাু.গবঃধষ.ঞ.ঝযরৎঃ, ঁঃংযড়, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ঈরাাুঝঃৎববঃনফ?যপথষড়পধঃরড়হ=ঃরসবষরহব, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/পৎধপশলধপশ১২?যপথষড়পধঃরড়হ= ঃরসবষরহব ইত্যাদি।

একটু ভিন্নধর্মী গিফট আইটেম চাইলে আছে ভধপবনড়ড়শ.পড়স/বহষরাবহ.সব, ভধপবনড়ড়শ.পড়স/ াধল.নরহহধংয ইত্যাদি পেজ।

তাছাড়া বিদেশী কসমেটিকস পাওয়া যায় এমন পেজেরও কমতি নেই। একটু ‘সার্চ’ করলেই পেয়ে যাবেন পছন্দসই জিনিস।

তবে ফেইসবুকে কেনাকাটা করার সময় বা আগে, যে পেজ থেকে কিনতে যাচ্ছেন বা অর্ডার করছেন সেই পেজ এবং এর কর্ণধার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নেয়া ভাল। কারণ অনেক সময়ই ‘ফেইক পেজের পাল্লায় পড়ে ভুগতে হয়েছে অনেককেই।

ডিজিটাল যুগে কেনাকাটা ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়ার ফলে ঘরে আসছে আসল পণ্য, করতে হচ্ছে না খাটনি, বেঁচে যাচ্ছে সময়।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: