মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

খোকার ঈদ

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

লাল পাঞ্জাবি আর সাদা টুপী

খোকার কাছে ভীষণ দামী,

আর কিছু হোক না হোক

বাবার কাছে এইতো দাবি।

রস গোল্লা আর ভাজা জিলাপী

খোকার কাছে মজা ভারী,

মাটির পুতুল মাটির হাড়ি

নিয়ে চড়বে ঘোড়ার গাড়ী।

সাজব এবার নতুন করে

নতুন নতুন গীত বাজিয়ে।

ঈদের দিন সবাই মিলে দূরে কোথাও বেড়াতে যাব। সেখানে গান বাজনা আর ভূড়ি ভোজের আয়োজন থাকবে। আর ঈদে সালামি পেলে তা দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আইসক্রিম খাব। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

দেওয়ান ফাহিম ফয়সাল

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ

বেড়াতে যাব

ঈদের দিন সকালে নতুন কাপড় পরে বাবা-মা ও পরিবারের বড়দের সালাম করব। বিকেলে বাইরে বেড়াতে যাব। এভাবে সকলের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিব। আশা করি ঈদের দিন অনেক মজা করে কাটাব। বন্ধুরা, তোমাদের সকলকে জানাই আগাম ঈদের শুভেচ্ছা। তোমরাও অনেক মজা করে ঈদ উদযাপন কর।

সাদিয়া খান ফারাহ্্

অগ্রণী স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ৮ম শ্রেণী

সেমাই খাব

এক মাস রোজার পর আসে ঈদ। আমি ঈদের দিন অনেক আনন্দ করব। নতুন কাপড় পরব। ঈদের দিন সকালে সেমাই,পায়েশ খাব। তারপর সবার সঙ্গে আনন্দ করব। বিকেলে ঘুরতে যাব। ঈদের দিন বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসে,আমি তাদের সঙ্গে সময় কাটাব। ঈদের দিন হৈ চৈ করব,মজা করব। বন্ধুরা আশা করি তোমরাও ঈদের দিন অনেক মজা করবে,। আনন্দ করবে। আর তোমাদের সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক ।

মালিহা রহমান চৈতি

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ৪র্থ শ্রেণী

নানা বাড়ি যাব

এই ঈদে আমরা সবাই নানা বাড়ি যাব। আমার নানা বাড়ি কুমিল্লার নবীনগরে। সেখানে মামা আছে, মামি আছে, মামাত ভাই-বোন আছে। আমাদের স্কুল বন্ধ তাই আমরা রোজার মধ্যেই যাব। আব্বু ঈদের আগের দিন যাবে। আব্বু আমাদের দুই ভাই-বোনকে নিয়ে মার্কেটে গিয়ে জামা কাপড় কিনে দিয়েছে। আমি একটা সালোয়ার-কামিজ ও একটা ফ্রক কিনেছি। আম্মু কামিজের সঙ্গে চুড়ি, কানের দুল, মালা কিনে দিয়েছে। আর মামা বলেছে জুতা কিনে দিবে। তাই আব্বু সেন্ডেল কিনে দিয়েছে। আম্মু-আব্বু আমার মামাত ভাই-বোনের জন্যও জামা-কাপড় কিনেছে। আব্বু আম্মুকে সুন্দর নীল রঙের একটা শাড়ি কিনে দিয়েছে। আব্বু নিজে কিছু কিনেনি। বলেছে পরে কিনবে। আমার এখনই জামা পরে সাজুগুজু করে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করছে। মামা বাড়ি খুব সুন্দর। আমি সেজে ঈদের দিন মামাত ভাই-বোনদের নিয়ে অনেক ঘুরে বেড়াব। আইসক্রিম খাব, বেলুন ফুলাব, অনেক মজা হবে।

রিয়ানা

গ্রীনউডস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

দলবেঁধে ঘুরে বেড়াব

একা একা আনন্দ করা যায় না। আনন্দ করতে হয় অনেকে মিলেমিশে। তাই তো আমরা ঈদের আনন্দ করার জন্য ছুটে যাই দাদু বাড়ি। আমরা প্রতিটা ঈদ করি নরসিংদী গ্রামের বাড়িতে। ঈদের দিন আমরা পুরো স্বাধীন। আমরা সকালে উঠে গোসল করে নতুন জামা জুতো পরব। তারপর নানান ধরনের পিঠা পায়েস আর সেমাই খাব। দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াব। আমরা কখন কার বাড়ি খাই তার ঠিক নেই। এখন আমি বড় হয়েছি; কলেজে পড়ি। আমি ঈদের সময় মুরব্বি সাজব। ছোট ছেলেমেয়েরা এসে পা ছুঁয়ে সেলাম করলে মাথায় হাত দিয়ে গম্ভীরভাবে বলব, ‘আল্লাহ তোমাকে ভাল রাখুক।’ আমি নতুন টাকা বের করে ওদের হাতে গুঁজে দেব। এটা হবে খুবই আনন্দের।

আমার দাদার নামে একটি সংগঠন আছে ‘কাদের মাস্টার ফাউন্ডেশন।’ এর উদ্যোগে ঈদের পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তৃতা, সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, কৌতুক, ছড়া-কবিতা আবৃত্তি, কেরাত প্রতিযোগিতা এমন নানান বিষয় ও ছোটদের খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকে, যা অনেক আনন্দপূর্ণ হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক।

সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্

শহীদ আসাদ কলেজ, নরসিংদী

তিতির ঈদ

নাসরীন মুস্তাফা

তিতির ছোট চাচা ইস্তি একজন বিজ্ঞানী। তিতি যখন একদম ছোট্ট, বু বু বুু করে খালি বকবক করত, তখন ইস্তি দারুণ কাজের একটি অনুবাদক মেশিন তৈরি করে ফেলেছিল। মেশিনটার নাম হচ্ছে ‘বাংলা মেশিন’। তিতির বু বু বু যে কেবল বকবক নয়, এরও অর্থ আছে, তা জানা গেল যখন মেশিনটা বাংলা করে দিত বু বু বু-কে।

তিতি বড় হতে হতে কথা বলতে শিখে গেল। ইস্তি তবুও লেগে ছিল মেশিনটার পেছনে। পশুপাখিদের সঙ্গে কথা বলতে মেশিনটাকে কাজে লাগাতে পেরেছে। পশুপাখিরা যা বলে, মানুষ সেটা শুনছে বাংলা ভাষায়। আর মানুষ যা বলছে, পশুপাখিরা সেটা শুনছে যার যার নিজের ভাষায়।

কথা বলতে পারলেই তো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তিতির এখন অনেক বন্ধু। ভুলু কুকুর, পুষি বেড়াল, ম্যাকাও পাখি হীরেমতি-পান্নালাল, দাঁড়কাক কংকু, টিকটিকি ঠিকঠিক, তেলাপোকা তেংচু আর এ রকম আরও অনেকে। স্কুলের বন্ধুরা, বাড়ির পাশের বন্ধুরা যেমন বন্ধু, ওরাও তিতির ঠিক তেমনি বন্ধু। আর তাই, মা যখন বললেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ করতে হয়’, তখন তিতি মন খুলে ওর স্কুলের বন্ধুদের, বাড়ির পাশের বন্ধুদের ঈদের দাওয়াত দিল। ওদের মতই তিতির দাওয়াত পেল ভুলু কুকুর, পুষি বেড়াল, ম্যাকাও পাখি হীরেমতি-পান্নালাল, দাঁড়কাক কংকু, টিকটিকি ঠিকঠিক, তেলাপোকা তেংচু আর এ রকম আরও অনেকে।

তিতি এক গাল হেসে বলল, ‘আমার ঈদ অনেক মজার হবে। তোমরা সবাই থাকবে আমার সঙ্গে। আমি তোমাদের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করব। মজার মজার খাবার খাব।’

পুষি বেড়াল ম্যাঁও ম্যাঁও করে জানিয়ে দিল, খাবারের মেন্যুতে ঝাল-টক-তিতা থাকতে পারবে না। রেগে গেল দুই ম্যাকাও পাখি হীরেমতি আর পান্নালাল। ওদের মতে, লাল মরিচ দিয়ে যে মেন্যু হয় না, সে মেন্যু অখাদ্য। স্রেফ অখাদ্য!

একেক জনের একেক মত শুনে মিটি মিটি হাসে তিতি। ও তো জানে, সবার পছন্দ মত খাবার রান্না করবে তিতির মা।

ব্যস, শুরু হয়ে গেল দিন গোনা। একটা করে দিন যায়, আর তিতির মায়ের রান্নার তোড়জোড় বেড়ে যেতে থাকে। তিতি মন দিয়ে ঘর সাজাচ্ছে। ঈদের দিন ওদের বাড়িটা সুন্দর না থাকলে সবাই কী বলবে! নিজেকেও সুন্দর দেখানোর জন্য নিজের জন্য ঈদের জামার নকশা করেছে। মা নিজের হাতে জামাটা বানিয়ে দিচ্ছেন। ঈদের দিন নিশ্চয়ই পরতে পারবে তিতি।

ঈদের কয়েক আগে তিতি মন খারাপের আভাস পেল। ভুলু কুকুর, পুষি বেড়াল, ম্যাকাও পাখি হীরেমতি-পান্নালাল, দাঁড়কাক কংকু, টিকটিকি ঠিকঠিক, তেলাপোকা তেংচু আর এ রকম আরে অনেকে না না করে তিতির কান ঝালাপালা করে ফেলল। ঈদের আনন্দ হবে না। ঈদ হবে না। তিতি রেগে মেগে প্রশ্ন করল, ‘কেন বাপু, ঈদের চাঁদ কি তোমাদের বলেছেন যে তিনি আকাশে দেখা দেবেন না?’

ওরা যা বলল, তার অর্থ হচ্ছে, আকাশে ঈদের চাঁদ দেখা গেলেও ঈদ হবে না। কেন? কেন?

দাঁড়কাক কংকু জানাল, উড়ে উড়ে অনেক জায়গায় যাচ্ছে আর ও দেখছে, অনেক খোকা আর অনেক খুকিদের মনে ঈদের কোন আনন্দ নেই। রাস্তায় রাস্তায় কাগজ কুড়িয়ে সংসার চালানো সাত-আট বছরের রনজুকে নাকি ঈদের দিনেও রাস্তায় রাস্তায় কাগজ কুড়াতে হবে। নইলে ওর মা-ছোট দুই বোন না খেয়ে থাকবে।

ভুলু কুকুর, পুষি বেড়াল, ম্যাকাও পাখি হীরেমতি-পান্নালাল, টিকটিকি ঠিকঠিক, তেলাপোকা তেংচু আর এ রকম আরো অনেকে রনজুর মত আরো অনেক খোকা আর অনেক খুকির কথা জানাল, যাদের কোন ঈদ হবে না। ভাবা যায়, ঈদের দিন আসবে, ওরা ছাড়া বাকিরা সবাই ঈদের আনন্দ করবে! তিতির চোখ ভিজে গেল। মা বলেছেন, সবাইকে নিয়ে আনন্দ না করলে ঈদ হয় না। রনজুর মত অনেক খোকা আর অনেক খুকুকে বাদ দিয়ে আনন্দ করলে তিতির ঈদ কিভাবে হবে? ঈদ যদি না হয়, তাহলে ঘর সাজিয়ে লাভ কি? নতুন জামা বানিয়েই বা কি হবে তিতির?

যথারীতি তিতির কান্না কাঁদিয়ে দিল ছোট চাচা ইস্তিকে। তিতির মা-কে। তিতির বাবা-কে। তিতির আশপাশের সবাইকে। ভুলু কুকুর, পুষি বেড়াল, ম্যাকাও পাখি হীরেমতি-পান্নালাল, টিকটিকি ঠিকঠিক, তেলাপোকা তেংচু আর ওদের মত তিতির এরকম আরো অনেক বন্ধুও কেঁদে ফেলল। সবাই মিলে ঈদ করার জন্য ওরা সবাই রনজুর মত অনেক খোকা আর অনেক খুকুর মনে আনন্দ দিতে এগিয়ে এল।

এরপর যা হ’ল, তা তো ইতিহাস। টিভি চ্যানেলগুলো আবোল তাবোল নাটক-ফাটক, বিজ্ঞাপন-ফিজ্ঞাপন না দেখিয়ে রীতিমত লাইভ দেখাচ্ছে সবার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার কা-খানা। সবাই ঈদের জামা, ঈদের মজার মজার খাবার ভাগ করে নিচ্ছে সবার সঙ্গে। ঈদের জন্য একটা জামা হলেই তো চলে। তাই যাদের অনেক জামা, তারা অন্যদের দিয়ে দিচ্ছে বাড়তিগুলো। অনেকের ঘরে অনেক খাবার, সব খেয়ে শেষ করা মুশকিল। তাই কাজ না করলে যাদের না খেয়ে থাকতে হয়, সেই সব মানুষদের মাঝে খাবার ভাগ করে দিল। তখন কি না খেয়ে আর থাকে কেউ, তোমরাই বল?

তিতি চোখের পানিতে মুখের হাসি ভাসিয়ে দিয়ে বলে, ‘ঈদ মোবারক!’

ওর সব বন্ধুরা, সঙ্গে নতুন হওয়া রনজুর মত অনেক অনেক বন্ধুরাও আকাশ-বাতাস ফাটিয়ে বলে ওঠে, ‘ঈদ মোবারক!’

এভাবে না বললে কি আর ঈদ হয়, বল তোমরা?

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: