২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈদমেলায় হাজারও নারী-পুরুষের ঢল


মুন্সীগঞ্জে বিক্রমপুরের রয়েছে নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। শত শত বছর ধরে এ জেলার কৃষ্টির অংশ হিসেবে ঈদমেলা, কালী মেলা, বৈশাখী মেলা, গলিয়া মেলা, মনসা মেলাসহ নানা গ্রামীণ মেলা উদযাপিত হয়।

সিরাজদিখানের ঐতিহ্যবাহী মালখানগর মাঠে প্রতি ঈদে বসে গ্রামীণ মেলা। গভীররাত অবধি অজ পাড়াগাঁয়ের এই মেলায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় প্রতিদিনই মধ্যরাত অবধি থাকে মানুষের ঢল। নানা বয়সী মানুষ কেনাকাটাসহ সরাসরি বিনোদন উপভোগ করে। জেলার শ্রেষ্ঠ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পুরস্কার প্রাপ্ত ‘ফ্রেন্ডস এ্যাসোসিয়েশন অব মালখানগর’ এই গ্রামীণ মেলার আয়োজন করে। বিশাল এই মেলায় দু’শতাধিক স্টল নানা পসরা সাজিয়ে বসে। আর পাশে বড় আকারের মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন তো রয়েছেই। শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস আর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ রকমারি পণ্যের পসরায় স্থান পায় লাড্ডু, পিঠি, মুরলি, নিমকি, গজা ও বিন্দি। মেলাকে ঘিরে সিরাজদিখান উপজেলাসহ পুরো জেলায় বিশেষ উৎসব আমেজ চলে।

২০০২ সাল থেকে এই ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন হচ্ছে। প্রথম রোজা থেকে ঈদের তিন দিন ধরে চলে এই মেলা। তবে পরবর্তীতে ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর কোরবানি ঈদের পরদিন থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলা বসে নিয়মিত।

আয়োজক সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন জানান, মেলাটি এখন নিয়মিত হওয়ায় এই অঞ্চলের স্থায়ী বিনোদনে পরিণত হয়েছে। শুধু কেনাকাটা নয় পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে বা গ্রামীণ মেলা দেখতেও ঈদের আনন্দের মধ্যে ছুটে আসে লোকজন। এতে অনেক শহুরে মানুষও যোগ দেয়।

সিরাজদিখান উপজেলার রৌশনিয়া ইউনিয়ের ইমামগঞ্জ খেলার মাঠে এবং রৌশনিয়া হাইস্কুল মাঠে ও উপজেলা সদরের সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসে ঈদ আনন্দ মেলা। তবে এই মেলাগুলো এখন আর নিয়মিত নয়।

এছাড়া লৌহজং উপজেলার কাজীর পাগলা, লৌহজংয়ের পদ্মার চরেও ঈদমেলার রেওয়াজ ছিল। সিরাজদিখান ও লৌহজং ছাড়াও শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ি ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদমেলা বসে।

সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, নানা কারণেই বিক্রমপুরে ঈদসহ নানা পার্বণে মেলার রেওয়াজ রয়েছে। এটি প্রাচীন বিক্রমপুরের ঐতিহ্য। গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্য ধরে রাখা ও জনগণকে নির্মল আনন্দ দেয়ার জন্য এখনও কমবেশি মেলা বসে। এসব মেলা যে কত বেশি জনপ্রিয় তা বোঝা যায় ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখে। শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী বৈশাখে মাসব্যাপী মেলা বসে। তবে কয়েক যুগ ধরে এই মেলা বন্ধ রয়েছে। শীতে এই বাড়ৈখালীতে সাধু-সন্নাসীদের মেলা বসত। এটিও বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। লক্ষ্মী পুজোর দশমীতে শেখরনগর বাজারে জেলা ও আশপাশের লক্ষ্মী প্রতিমা নিয়ে প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মেলা বসত।

মেলা ছাড়াও ঈদ বিনোদনের জন্য মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মার পারে মাওয়া রিসোর্টে, লৌহজংয়ে পদ্মা রিসোর্টে এবং মুক্তারপুর সেতুসহ নানা স্থানে মানুষের ঢল নামে ঈদের পরে ২-৩ দিন। তখন এসব এলাকায়ও বসে অস্থায়ী মেলা। এছাড়া ঈদের পর ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা বাইচ উপলক্ষেও শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল মুন্সীগঞ্জ থেকে