২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বাঘায় পাঁচ শ’ বছরের ঐতিহ্য ঈদমেলা


ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের সঙ্গে বাড়তি উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মানুষ। বিশেষত ২০ রোজার পর পরই শুরু হয় ঈদমেলার আয়োজন। এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় প্রহর গোনে এখানকার মানুষ। শুধু বাঘা উপজেলা নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের ঈদ আনন্দের সঙ্গে বাড়তি আনন্দের খোরাক জোগায় এখানকার ঈদমেলা। জেলার ঐতিহ্যবাহী ও পুরাকৃতি সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে প্রসিদ্ধ বাঘা উপজেলার ঈদমেলার ঐতিহ্য পাঁচ শ’ বছরের। মূলত ঈদের আগের দিন থেকেই শুরু হয় মেলায় আয়োজন। চলে টানা ১০ দিন। কোন কোন বছর এ মেলার স্থায়ীত্ব হয় ১৫ দিনেরও বেশি। প্রতি বছরের মতো এবারও মেলার আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে মেলার স্থান ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। এবার মেলা ইজারা দেয়া হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আব্বাসীয় বংশের হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (রহ) ও তার ছেলে হযরত আবদুল হামিদ দানিসমন্দ (রহ) এর সাধনার পীঠস্থান রাজশাহীর বাঘা। আধ্যাত্মিক এ দরবেশের ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ঈদ-উল-ফিতরে আরবি শাওয়াল মাসের তিন তারিখে ধর্মীয় ওরস মোবারক উৎসবকে সামনে রেখে বাঘা ওয়াকফ এস্টেটের উদ্যোগে বিশাল এলাকাজুড়ে আয়োজন করা হয় এ মেলার।

বিভাগীয় শহর রাজশাহী নগরী থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা মানুষগুলোর আনন্দ বাঘার ঈদমেলাকে ঘিরে। তাই এই মেলা এখানকার মানুষের কাছে অনেক অবেগ এবং গভীর আগ্রহের। পুরনো স্মৃতির পটভূমিতে নতুন করে আঁচড় কাটে ঈদমেলা। বছর ঘুরে তাই এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকে সবাই। যাদের স্বজনরা সীমান্তের ওপারে থাকেন, তারা বছরের নির্দিষ্ট এ সময়টা বেছে নেন একে অপরের সঙ্গে দেখা করার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাদের বসবাস ছুটে আসেন তারাও। পাঁচ শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় লাখো মানুষের সম্মিলন ঘটে। গ্রামের মেঠো পথ ছুঁয়ে ধনী-গরিবের মিলনমেলায় পরিণত হয় মেলাকে ঘিরে। দূরের জেলা থেকেও মেলায় আসে মানুষ।

শুরু থেকেই ঈদমেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে ব্যবসায়ীরা। এখানে স্টলের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। বেচাকেনা চলে ঈদের দিন থেকে শুরু করে দশ দিনব্যাপী গভীর রাত পর্যন্ত। পাওয়া যায়, রকমারি মিষ্টি, খেলনা, মনোহারি সামগ্রী, লোহা ও কাঠের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র, মাটির তৈরি তৈজসপত্রসহ সদরঘাটের পান। মেলাকে ঘিরে আয়োজন করা হয়, সার্কাস, মৃত্যুকূপ ও মোটরসাইকেল খেলা। এছাড়া বিভিন্ন খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়। এবারও একই নিয়মে সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। শুধু তাই নয় মেলা প্রাঙ্গণে ওরস মোবারককে ঘিরে সারারাত চলে ভক্তদের জিকির, সামা কাওয়ালি। ভক্ত ও আগ্রহী মানুষরা এতে যোগ দেয় দূর-দূরান্ত থেকে এসে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে পাপ মোচন ও পুণ্য লাভের আসায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ বাঘায় আসে পবিত্র ওরস মোবারকে অংশ নিতে ও মাজারে নামাজ আদায় করতে।

Ñমামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে