২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কিচ্ছার আসরে ভিড় নবীন-প্রবীণের


কিচ্ছা! গ্রামবাংলায় প্রচলিত নাম। আধুনিকতার প্লাবনে কিচ্ছা হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাংলায় এখন আর মজাদার কিচ্ছার আসর জমে না। কিচ্ছার আসর ঘিরে জমায়েত হয় না নবীন-প্রবীণরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে কয়েক বছর আগেও ঈদের সময় নিয়মিত কিচ্ছার আসর বসেছে। ছুটিতে আসা গ্রামভর্তি মানুষ মনের আবেগ নিয়ে শুনেছে গা ছম ছম করা নানা কিচ্ছা। আসরকে ঘিরে ভিন্নরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে গ্রামগুলোতে। আসরে একদলের নেতৃত্বে ৪-৫ জন অংশ নিয়েছে। মাইকিং করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে কিচ্ছার আসর। এককভাবেও কিচ্ছা শুনানো হয়েছে। একটি কিচ্ছা শেষ করতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এককভাবে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। গ্রামীণ লোকসাহিত্যটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। শাহবাজপুরে মজহর মিয়ার পাড়ার মনসুর আলম, শামছুল মিয়া ও মন্নর মিয়া, মুন্সী হাটির মেসবাহ উদ্দিন খান লিটন, মেহের আলী আব্বাস, ছন্দুমিয়ার পাড়ার নুরু মিয়া নিয়মিত আসরে কিচ্ছা পরিবেশন করেছেন। এছাড়া প্রয়াত আলী আহাম্মদ, আবুল বাশার কিচ্ছা পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন। বানেছা পরী, ভম্বল দাশ, চাঁদ সওদাগর, ইউসুফ জুলেখা, রাজারানী, রাক্ষস, দৌত্য দানব, লাইলী মজনুর কিচ্ছা অন্যতম। কিচ্ছার ধারা বর্ণনার সময় কখনও হাসি, ভয়ভীতি, উচ্ছ্বাস, আবেগ চলে আসত শ্রোতাদের মধ্যে। সে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। শাহবাজপুর গ্রামের প্রবীণ বজলুর রহমান বলেন, কিচ্ছার আসরে মানুষ আগ্রহ ভরে আসত। পালাগানের আসরের মতো হলেও কিচ্ছার আসরের বৈশিষ্ট্য আলাদা। স্থানীয়রা বলে, কিচ্ছা উপস্থাপনায় ভিন্নতা রয়েছে। কয়েকজনের ওপর কিচ্ছা নির্ভর করে আসরে গানের ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়। ছন্দাকারে কিচ্ছার বর্ণনা দিয়ে থাকেন বর্ণনা কারীরা।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে