১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈদমেলাও এখন তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর


ঈদমেলা ! ঈদমেলা! ঈদমেলা। ঈদের আগে ও পরে শহর এবং গ্রামে মেলা বসে। মাইকের আওয়াজে কান ঝালা-পালা হয়ে ওঠে। মেলার আয়োজকেরা আকর্ষণীয় আয়োজনের কথা বলে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুধু ঈদ কেন্দ্রিক নয়- মেলা বসে বিভিন্ন পার্বণে। গ্রামের এই মেলা কবে, কোথায় কিভাবে চালু হয়েছে এর কোন জোরালো তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়নি। তবে মেলার উৎপত্তি হয়েছে মূলত গ্রামেই। গ্রাম থেকে তা ছড়িয়েছে শহরে এবং শহরতলীতে। শহরে এসে মেলার চালচিত্র বদলেছে, রকম ফেরে শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটালাইজড হয়েছে।

গ্রামে যাত্রা পালার প্রচলন যখন শুরু হয়েছে, তখন থেকেই মেলার আবহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রবীণেরা বলেছেন, সন্ধ্যার পর পুরুষতান্ত্রিক ঘেটু যাত্রা শুরু হতো, সে সময় বাদাম, কালাই, খাজা, কদমাসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকান বসত। এরপর শুরু হতো বিন্দুবাসিনী যাত্রা দলের মূল যাত্রানুষ্ঠান। সে সময় চায়ের দোকানসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকানও বসত। এই ব্যবসা কেন্দ্রিক নানা আয়োজন ধীরে ধীরে প্রসার ঘটে মেলায় রূপ নিয়েছে। সাধারণত পুজো পার্বণে গ্রামে মেলা বসানো হতো। মেলা থেকে যা আয় হতো তা ক্লাবে কিংবা নানা আচার অনুষ্ঠানের জন্য গ্রামের মুরুব্বিরা খরচ করতেন। এ ধরনের মেলা মূলত একদিনই বসত। এ মেলায় কামার তাদের লোহাজাতের পারিবারিক প্রয়োজনের নানা ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র, কুমোর মাটির তৈরি তৈজষপত্র, জেলেরা জাল, কারিগরেরা বিভিন্ন ধরনের কাপড় চোপড় সরবরাহ করে।

এ ছাড়াও নানা পেশাদার মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য মেলার তুলে বিক্রি করে। মেলায় নেচে গেয়ে, নানা সাজে সেঁজে শিশু-কিশোরদের মনোযোগ আকর্ষণ করে তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা এক ধরনের পেশাবৃত্তি মানুষ মেলার আকর্ষণ হয়ে উঠে। যেমন বাঁশিওয়ালা নানা রঙের টুকরো কাপড় দিয়ে সাত তালিতে তৈরি পাজামার সঙ্গে কোর্তা পরে, মাথায় রঙ-বেরঙের কাগজের লম্বা টুপি জড়িয়ে বাঁশিতে সুর তুলে যখন গান গেয়ে ওঠে, তখন মেলার সব মানুষ বাঁশিওয়ালার সুরে এক বৃত্তে গাঁথা পড়ে যায়। এমনকি নানা ঢঙে বায়োস্কোপওয়ালা মেলার একপাশে বসেই পুরো মেলার স্থান দখল করে নেয়, তার জাদুটোনা যন্ত্রের মাধ্যমে। ওই যে দেখা যায় রূপবান, এবার এলো মধু লতা-এভাবে সুর তুলে মেলায় আগত শিশু-কিশোরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মেলায় থাকে নাগরদোলা। লেছ ফিতা চুড়ি আলতাসহ নানা বিলাসী দ্রব্য। যা শিশু-কিশোরদের মূল আকর্ষণ। এমন নানা আয়োজন ঈদমেলাকে প্রসিদ্ধ করে তোলে। সিরাজগঞ্জের প্রতি উপজেলায় ঈদমেলা বসে। মেলা বসে বটতলায়, কড়ি তলায়, গ্রামের খোলা মাঠে, খেলার মাঠে। কোথাও তিন দিন ধরে চলে ঈদ মেলার কার্যক্রম।

শহর এবং শহরতলীতে প্রতিটি ঈদে পাড়ায় মহল্লায় বসে ঈদমেলা। সাজানো হয় রাস্তা, অনেকের বাড়ি ঘরও। তবে এসব মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য থাকে না। শুধু আনন্দ উল্লাসের জন্য মেলা বসানো হয়। সেখানে স্থান করে নেয় ওয়েস্টার্ন মিউজিক, ডিজে পার্টি, ঠা-া পানীয়, খিচুরি-মাংস, খাওয়া হয়। একই সঙ্গে থাকে লারে লাপ্পা মার্কা খিচুরি ডান্সও। আবার মেলাকে কেন্দ্র করে উঠতি বয়সী যুবকদে মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষও বাধে। অনেক সময় পুরো মহল্লায় তা ছড়িয়ে পড়ে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

বর্তমান সময়ে এই মেলা তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটালাইজড হয়েছে। ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে মেলার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। রাজনৈতিক দলের বড় মাপের নেতা বা অনেক ক্ষেত্রে এমপিও ঈদমেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য লেছ ফিতার বা বায়োস্কোপের পরিবর্তে শর্ট ফিল্ম দেখানো হয়।

Ñবাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে