১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

পাকিদের চাপের সিরিজ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আজ থেকে শুরু হচ্ছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। এটি যতটা না লঙ্কানদের, সফরকারী পাকিদের জন্য তার চেয়ে ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে জিততে হবে আজহার আলিদের! ৩০ সেপ্টেম্বর’২০১৫ পর্যন্ত আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলই কেবল সেখানে খেলতে পারবে। বাংলাদেশের কাছে ‘হোয়াইটওয়াশ’ হওয়া পাকিস্তান এখন ‘নয়’ নম্বরে। বর্তমানে ‘আট’ নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা পঞ্চম স্থানে, কিন্তু অদৃশ্যভাবে আজহারদের লড়াইটা ক্যারিবীয়দের সঙ্গে! সেই অর্থে পাকিদের জন্য এটি একই সঙ্গে ‘দ্বিগুণ’ চাপের সিরিজও।

রেটিং পয়েন্টে অনেক মার-প্যাঁচ থাকলেও আপাতত সাদামাটা সমীকরণ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণের আশা জিইয়ে রাখতে সবার আগে সিরিজটা জিততেই হবে পাকিস্তানকে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, উপরের কোন দেশকে হারাতে পারলে পিছিয়ে থাকা দল রেটিংয়ে অনেক বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ম্যাচই পাকিদের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। টাইগারদের কথাই ধরা যাক। কিছুদিন আগেও যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮-৯ এ ছিল, পাকিস্তান ও ভারতকে দুটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে সেই বাংলাদেশ এখন ‘সাত’ নম্বরে। একসঙ্গে একাধিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আজহার। পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের জন্য এই সিরিজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা টিকিয়ে রাখতে অবশ্যই জিততে হবে। চাপের বিষয়টা সতীর্থরাও ভাল করে জানেন।’ সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের জন্য ওয়ানডেটা ভাল যাচ্ছে না। বিশ্বকাপে টেনেটুনে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও সেখানে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে ‘লজ্জায়’ ডুবতে হয় মিসবাহ-উল হকদের। এরপর বাংলাদেশ সফরে তিন ওয়ানডের সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ হওয়াটা দলটির জন্য মহাবিপর্যয়ই বলতে হবে। ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ক’দিন আগে ঘরের মাটিতে জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করে তারা। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী যোজন পিছিয়ে থাকা একটি দলের সঙ্গে জয় আজহারদের রেটিং বাড়াতে কাজে আসেনি। সফরকারীদের আত্মবিশ্বাস যোগাতে পারে টেস্ট সিরিজ, লঙ্কানদের ২-১ এ হারিয়ে যেখানে এক লাভে র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে উঠে আসে পাকিস্তান। ব্যাট হাতে ফর্মের তুঙ্গে আছেন আজহার, বাংলাদেশ সফরেই যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়েছেন ওয়ানডের নেতৃত্ব। ভাল করছেন সরফরাজ আহমেদ ও জিম্বাবুইয়ে সিরিজে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা শোয়েব মালিক। ব্যাটিংয়ে আহমেদ শেহজাদ আর আসাদ শফিকের নামও উল্লেখযোগ্য। তবে ইনজুরির জন্য অলরাউন্ডার ওয়াহাব রিয়াজের ছিটকে যাওয়া সফরকারীদের জন্য বড় ক্ষতি। বোলিংয়ে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন দীর্ঘদেহী পেসার মোহাম্মদ ইরফান, আছেন রাহাত আলি, স্পিনে মালিকের সঙ্গী টেস্টের সিরিজসেরা ইয়াসির শাহ। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কাও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার থেকে বিদায় নেয়। অবসরে যাওয়ায় স্বাগতিকরা পাচ্ছে না দুই বড় তারকা কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনেকে। নেতৃত্বে-ব্যাটিংয়ে যথারীতি ভরসা এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। উপুল থারাঙ্গা-লাহিরু তিরিমান্নের সঙ্গে দেখা যাবে অভিজ্ঞ তিলকারতেœ দিলশানকে। পেস আক্রমণে দুরন্ত লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে সুরাঙ্গা লাকমল ও থিসারা পেরেরা। টেস্টে হারলেও সব মিলিয়ে লঙ্কানদের ওয়ানডে স্কোয়াড বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ১৯৭৫ থেকে দু’দল মোট ১৪২ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়ে ৮১টিতে জয় পাকিস্তানের, শ্রীলঙ্কার জয় ৫৬। পরিত্যক্ত ৪ ও টাই হয় ১টি করে ম্যাচ। গত বছরের আগস্টে ২-১ এ সিরিজ জিতেছিল স্বাগতিক লঙ্কানরা। এই ডাম্বুলায় শেষ ম্যাচটি ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছিল ম্যাথুসের দল। ওই ম্যাচে অবশ্য সাঙ্গাকারা-মাহেলা দু’জনই ছিলেন। ‘টেস্টের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আমরা ঘুড়ে দাঁড়াতে চাই। দিলশান-মালিঙ্গা ফিরেছে, আমাদের ওয়ানডে দলটি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। তবে সেরাটা দিতে হবে, কারণ পাকিস্তান শক্ত প্রতিপক্ষ।’Ñ বলেন স্বাগতিক সেনাপতি ম্যাথুস।