১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিলেটে জাতীয় পার্টিতে কোন্দল


সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ সিলেটে জাতীয় পার্টির অন্তর্কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একাধিক উপদলে বিভক্ত নেতাকর্মীরা কোন কর্মসূচী সফল করতে পারছেন না। সাম্প্রতিককালে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নেতারা দুই দফা সার্কিট হাউসে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছেন। সার্কিট হাউসে গোলাগুলি ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সিলেট জাতীয় পার্টির অন্তর্দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত ১৫ বছরে সুশৃঙ্খভাবে পার্টির দ্বন্দ্বমুক্ত জেলা কমিটি যেমনি গঠন সম্ভব হয়নি তেমনি কমিটিও সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কার আর অব্যাহতির মাধ্যমে নেতৃত্বের দুর্যোগ চলছে। সাম্প্রতিককালে নেতৃত্বের চলমান দ্বন্দ্ব আরও ডালপালা ছড়িয়েছে। দল সরকারে থাকায় সিলেট থেকে দুটি আসন পেয়েছে জাতীয় পার্টি। সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব ও জাতীয় সংসদের হুইপ সেলিম উদ্দিন ও বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ কেন্দ্রীয় যুগ্মসাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া পদাধিকারবলে নিজ জেলায় দলীয় কার্যক্রম চালাতে ও নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু তাদের বিপক্ষের বাধার কারণে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না।

এছাড়া সম্প্রতি সিলেটে এরশাদ বলয়কে শক্তিশালী করতে জেলা জাপার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করেছিলেন চেয়ারম্যান এরশাদ। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জাপার দ্বন্দ্ব আর বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এরশাদ বলয়ের নেতাদের কোণঠাসা করে রেখেছেন রওশন বলয়ের সাংসদরা।

এরশাদ বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ সিদ্দিকী ও জেলা জাপার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব উসমান আলী। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব ও জাতীয় সংসদের হুইপ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্মসাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া রওশন বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রওশন বলয়ের এ দুই নেতার মধ্যে রয়েছে অনৈক্য।

দীর্ঘদিন ধরে এ দুই নেতা আলাদা বলয় নিয়ে চলছেন সিলেটের রাজনীতিতে। বুধবার জাতীয় পার্টির এক অংশের ইফতার মাহফিলে অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব সেলিম উদ্দিন এমপি। অপরপক্ষের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দীন বাবলু। ইফতারের পর আবদুল্লাহ সিদ্দিকী নেতাকর্মীদের নিয়ে সার্কিট হাউসে মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান। এই সময় ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াও নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। জিয়াউদ্দীন বাবলুর উপস্থিতিতেই কর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষের সময় সার্কিট হাউসে গোলাগুলি ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ইফতার মাহফিলে বিরোধীদলীয় হুইপ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব সেলিম উদ্দিন এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কারণে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি নির্বাচনে বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। জাতীয় পার্টিকে বিভিন্ন দল ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার জন্য ঋণখেলাপী ও জনগণের টাকা আত্মসাতকারীদের পদ দিয়ে সিলেট বিভাগে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন দল বা সংগঠন না করা বসন্তের কোকিলদের দিয়ে দল চলবে না। পরীক্ষিত এরশাদ সৈনিক ও নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। এখানে তার বক্তব্য থেকেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুর বেরিয়ে এসেছে। বুধবার পৃথক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দীন বাবলু বলেছেন, এ দেশের উন্নয়নের রূপকার হচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দেশের সকল উন্নয়নের বেশিরভাগই হয়েছে জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় থাকার সময়। এরশাদ এত উন্নয়ন করতে পেরেছেন শুধু জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। আর এখন দেশে চলছে লুটপাট ও নাশকতার রাজনীতি।