২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে সক্রিয় জাল নোট চক্র


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ১০ জুলাই ॥ জেলার সর্বত্র জাল টাকার একটি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদের বাজারকে টার্গেট করে জাল টাকার এ কারবারিরা নতুন করে নেমে পড়েছে।

ঈদসহ যেকোন উৎসবে সাধারণ মানুষের নতুন টাকার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না পাওয়ায় জাল টাকার কারবারিরা এ সুযোগকে কাজে লাগায়। ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে ব্যস্ত দোকানদাররা।জানা যায়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের প্রভাবশালীরা জাল টাকা ব্যবসার মূলহোতা। বিভিন্ন কৌশলে জালনোট চক্রটি সাধারণ জনগণহ তাদের সদস্যদের মাধ্যমে হাটবাজার, পাইকারি দোকান ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এদিকে জাল চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন সুন্দরী রমণীরাও জড়িত বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেটের ও বাজারে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা।

যে দোকানে ভিড় সে দোকানেই হানা দেয় জালনোট চক্রের সদস্যরা। দশ থেকে পনেরো হাজার টাকার মালামাল ক্রয় করে অর্ধেক আসল আর বাকিটা জাল টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করে সটকে পড়ে তারা। জাল সিন্ডিকেটের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য নিয়ে বিভিন্ন কায়দায় তারা জাল টাকাগুলো ছড়িয়ে এর বিনিময়ে কাপড়, কসমেটিক, জুতা, স্বর্ণালঙ্কার, খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে বিক্রেতার হাতে জাল নোট ধরিয়ে দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাল টাকার সঙ্গে জড়িত এক কারবারি জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাল টাকা অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ টাকার জালনোট কেনা হয় ২০০ টাকায়, ১০০০ টাকার জালনোট ৪০০ টাকায়, ১০০ টাকার জালনোট ৩০ টাকায় ও ৫০ টাকার জালনোট ১৫ টাকায় কেনা হয়। এছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বাংলাদশ-ভারত সীমান্তবর্তী পয়েন্ট দিয়ে জাল টাকার চালান আসে। তিনি আরও জানান, জালনোট বিক্রেতার চক্রটি এবং এর সদস্যরা দিনের বেলা থেকে রাতের বেলায় সক্রিয় থাকে বেশি। রাতের অন্ধকারে ও বৈদ্যুতিক বাতির কারণে অনেক সময় জালনোটের নিরাপত্তা সুতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ও জলছাপ বোঝা যায় না। তাই কোনটি নকল আর কোনটি আসল না বুঝেই ব্যবসায়ীরা জাল টাকা রাখছেন। জাল টাকাগুলো এমনভাবে ছাপানো যে অনেক সময় আসল টাকাকেই জাল মনে হয়। কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, সারা দিনের বেচাবিক্রি শেষে টাকাগুলো ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা দিতে গিয়ে সন্ধান পান জাল নোটের। জাল নোটের ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা রিপন কাশেম জানান, জাল টাকা চক্রের খপ্পরে পড়ে নিরীহ, সাধারণ ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। টাকা লেনদেন সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।