১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্পাদক সমীপে


গত ৩০ জুন ২০১৫ একটি দৈনিকের খেলার পাতায় একটি শিরোনামে চোখজোড়া আটকে গেল। ‘মুক্তিযোদ্ধাকে রুখে দিল ফেনী’ শীর্ষক স্পোর্টস রিপোর্টটির ওই শিরোনাম মুহূর্তেই ভাবিয়ে তুলল। রিপোর্টটির প্রাসঙ্গিক ও প্রাথমিক অংশ এই ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলে গত লীগের তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে রুখে দিয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শক্তির ফেনী সকার ক্লাব।’ সমস্যাটা এখানে নয়, অন্যখানে।

মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধা বাঙালী জাতির গৌরবের ইতিহাস। সশ্রদ্ধচিত্তে এ ইতিহাস আমরা স্মরণ করে থাকি। যতদিন পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ধারা বহমান রবে, ততদিন এ ইতিহাস সার্বিক দিক থেকে শ্রদ্ধার আসনে থাকবে। কোন অপশক্তি এ ইতিহাস কখনও মুছে ফেলতে পারবে না। ১৯৭১ সালের নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম বা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতার বিজয় অর্জিত হয়েছিল। এ যুদ্ধের লড়াকু সৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা জাতির গৌরবের সন্তান। এরা কখনও হারতে যেমন পারেন না, তেমনি এ শব্দের ব্যবহারে সতর্কতাও প্রয়োজন। পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালী গৌরবের জাতি। সে হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার নামীয় গৌরব ও সম্মান সর্বক্ষেত্রে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের মধ্যে পড়ে।

খেলার মাঠ হচ্ছে হার-জিতের মাঠ। এখানে কেউ হারবে কেউ জিতবে। তবে মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নাম নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আসাটা মানায় না। কারণ জিততে হবে এমন কথা নয়, তবে হারলে এ নামের (মুক্তিযোদ্ধা) প্রতি এক ধরনের অবমাননা হয়, যা বেমানান বা অসুন্দর। আমি যদি সেই ক্রীড়াঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা দলের প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় হতাম, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষে স্বীয় দলকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করতাম; যাতে আমার গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষা হয়।

যেখানে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নাম ব্যবহার ঠিক নয়। যারা করে থাকেন, তা আবেগ থেকেই করেন। আবেগ দিয়ে সবকিছু চলে না। আবেগ দিয়ে প্রেম-ভালোবাসা ভালোই জন্মে। কিন্তু ইতিহাস বা রাজনীতি হয় না, হয় না কোন আইন ও বিধি। মুক্তিযোদ্ধারা যখন রণাঙ্গনে ছিলেন, তখন দেশের টানে আবেগাপ্লুত থাকলেও তারা এখন ইতিহাসের অংশ। ক্রীড়াঙ্গনে আবেগ এবং বাস্তবতা দুটোই সমান কাজ করে। ক্রীড়া নৈপুণ্যতা হচ্ছে বাস্তবতা। ইচ্ছা বা উদ্যম হচ্ছে তার আবেগ। সে রকম বাস্তবতা মিশ্রিত আবেগের মাঠে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতাকে এনে বিড়ম্বনায় ফেলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

ক্রীড়াঙ্গনের যে কোন প্রতিযোগিতায় ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নামীয় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত। মুক্তিযোদ্ধারা ’৭১-এর রণাঙ্গনে যেমন হারেননি, তেমনি নিছক খেলার মাঠেও নামীয় অংশগ্রহণে হারতে যাবেন কেন? ব্যক্তি বা দল হারতে পারে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি হারতে পারে না। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবনে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা দরকার।

খন্দকার মাহবুবুল আলম

হালিশহর, চট্টগ্রাম

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা

এক সুতায় বাঁধা

ইতিহাসে প্রমাণ আছে বড় বড় রাজা-বাদশাহ সম্রাটেরা বড় বড় বিজয় অর্জন করেছিল। বিজেতার বেশে দুনিয়ার বহু দেশ জয় করেছিল। ধ্বংস ও হত্যা লুণ্ঠন করিয়া দুনিয়া কাঁপিয়েছিল। চেঙ্গিস খান, তৈমুর লং, নাদির শাহ্ এই মহারাজাদের আগমনে মানুষ ঘরবাড়ি শহর বন্দর ছাড়িয়া দিয়া জঙ্গলে পলায়ন করত। কত লাখ লাখ মানুষ এই রাজারা হত্যা করিয়াছে তাহার সঠিক কোন হিসাব নাই।

হিটলার দরিদ্রতার অভিশাপ হতে বাঁচতে গিয়ে কত কষ্টই না করে গেছেন। জীবনে শ্রমিকের কাজ করেছেন। ছবি আঁকার কাজ করেছেন। সৈনিক হয়ে যুদ্ধ করেছেন। আরও কত কী হিটলার দেখছিলেন, যাদের টাকা আছে ওরা দরিদ্র মানুষদের কিভাবে জুলুম ও নিপীড়ন করেন। বিশেষ করে জার্মানির দরিদ্র মেয়েদের অসহায় অবস্থার চিত্র তাহাকে কষ্ট দিয়েছে। ইহুদিরা সুসংগঠিত ছিল। একে অপরকে সহায়তা করত ওরা ছিল ধনী ব্যবসায়ী; এই ইহুদিদের শিকার ছিল তরুণী ও যুবতীরা। হিটলার এখানে বড় আঘাত পেয়েছিলেন। উনি যখন তার সাধনায় উত্তীর্ণ হয়ে ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে বসলেন তখন বিনাবিচারে ইহুদিদের হত্যা করতে লাগলেন। আর ভয়ে ইহুদিরা দেশ ছেড়ে পালাতে থাকল। ওরা বিদেশে থেকে হিটলারকে উৎখাত করার জন্য ইঙ্গ-মার্কিনীদের সঙ্গে মিল হয়ে হিটলারকে উৎখাত করার জন্য যুদ্ধ করতে লাগল। শেষ পরিণতি হিটলার কলঙ্কিত পরাজয় ও মৃত্যুবরণ করলেন।

জীবন যেমন অমর হয় না তেমনিই শক্তি মানুষের চিরস্থায়ী থাকে না। ক্ষমতা ও শক্তি চলে গেলে তখন কলঙ্ক ও বদনাম বহু বছর রটিতে থাকে। তাই রাজাদের ক্ষমতায় থাকা নেতাদের উচিত জনতা যা চায় তা দিয়ে দেয়া। আসুন আমরা মানবতাবাদী হই। রাজা-প্রজা, গরিব-ধনী সবাই মিলেমিশে পৃথিবীটাকে স্বর্গরাজ্যে পরিণত করি। মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি।

সামসুল হক সরদার

ছয়হিসা, নারায়ণগঞ্জ

ফুলজানের বয়স্কভাতা!

আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, ফুলজান বেঁচে থাকতে জানতেন না যে তার নামে বযস্কভাতার কার্ড হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর দশ মাস পর তাঁকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে বয়স্ক ভাতা কার্ডের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিপুর ইউনিয়নের দেবত্তান গ্রামের ফুলজান মারা যান গত বছর ৯ আগস্ট। গত ২৬ মার্চ ও ২৫ মে দুই কিস্তিতে ফুলজানের কৃষি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে ৭ হাজার ২শ’ টাকা উত্তোলন করা হয়। ফুলজান জানতেন না তাঁর নামে বয়স্কভাতার এ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা-ই হয়েছে। আবার মৃত্যু ব্যক্তির সেই এ্যাকাউন্ট থেকে টাকাও তোলা হয়। ফুলজান যে মৃত, জানে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, তাই ভাতা জমা হতো তাঁর এ্যাকাউন্টে। শেখ হাসিনা সরকার প্রবীণদের স্বার্থে এ কর্মসূচী গ্রহণ করেছিল। পিরোজপুরের ফুলজানের মতো এ রকম ঘটনা যে দেশের অন্য কোথাও ঘটছে না, তা বলা মুশকিল।

এলমা ওয়াজেদ

বাবর রোড, ঢাকা

ফুট ওভারব্রিজ চাই

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রাবাড়ী থেকে ২/৩ কিলোমিটার দূরে মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতাল এবং সাইনবোর্ডের মাঝামাঝি সাদ্দাম মার্কেট অবস্থিত। ওই বাসস্ট্যান্ডের উত্তরে শহর পল্লী এলাকা এবং দক্ষিণে ঘনবসতিপূর্ণ তুষারধারা আবাসিক এলাকা। এ এলাকায় বাজার, অফিস, স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসা আছে। এখানে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ কয়েক লাখ মানুষ বসবাস করে। প্রতিদিনের প্রয়োজনে তারা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্যস্ততম রাস্তাটি পারাপার হতে হয়। বর্তমানে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৮ লেনের সম্প্রসারণ কাজ চলছে।

কিন্তু এই মহাসড়কের সাদ্দাম মার্কেটে এখন পর্যন্ত কোন ফুট ওভারব্রিজ নেই। ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্যস্ত রাস্তাটি পার হয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনাপূর্বক এখানে জরুরীভিত্তিতে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করে হাজার হাজার মানুষের বিপদাপন্ন জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

হোসেন মোহাম্মদ আনোয়ার

কদমতলী, ঢাকা।

বেকুটিয়ায় সেতু চাই

আমরা বরিশাল ও খুলনা দেশের অন্য জেলার তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে আছি। বাংলাদেশের অন্যতম নদীবহুল অঞ্চল হলো বরিশাল। এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস হলো কৃষি কাজ।

আর কৃষি রফতানি সম্প্রসারণের জন্য বরিশাল থেকে খুলনা, মংলা, যশোর, বেনাপোল যাতায়াতের জন্য একমাত্র মহাসড়ক হলো বরিশাল খুলনা মহাসড়ক। এ সড়কের মাঝে অবস্থিত সুপ্রসিদ্ধ কচা নদী যা পারাপার করা হয় ছোট ছোট দুটি ফেরি দ্বারা।

এই পথে এত পরিমাণ বাস, ট্রাক, পিকাপ, ভ্যান এবং প্রাইভেট গাড়ি চলাচল করে যে নদীর দুই পাড়ে সব সময়ই যানজট লেগেই থাকে। মাত্র ২ কিলোমিটার পথ পার হতে সময় লাগে ২ ঘণ্টার বেশি।

তাই দক্ষিণবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে বেকুটিয়ায় একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জনগণের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

মো. রুহুল আমিন (দুলাল)

কাউখালী, পিরোজপুর

শুধু কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদমাধ্যমে বেশ দম্ভের সঙ্গে জানিয়েছেন এবারের ঈদে মহাসড়কে যাত্রীদের কোন ভোগান্তি হবে না। মন্ত্রীর এই কথায় ভরসা রাখতে পারলে যাত্রীদের জন্য ভালই হতো কিন্তু সে জো কই?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, বগুড়া জেলা সদর থেকে কাহালু, ক্ষেতলাল, মোকামতলা ও মোকামতলা-গুজিয়া এবং শেরপুর-নন্দীগ্রাম সড়ক, সিরাজগঞ্জ মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্নœ জেলা সড়কের রাস্তা সংস্কারের ফলে আগের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছে কিন্তু ব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে এসব সড়ক ইতোমধ্যেই যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবহন মালিকÑ শ্রমিকদের স্বেচ্ছাচার, নসিমনের অবাধ যাতায়াত ও যত্রতত্র পার্কিং ও স্ট্যান্ড তৈরির ফলে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও বিড়ম্বনার তৈরি হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার ওপর অবৈধ বাজার। আবর্জনা ফেলা, অবৈধ টেম্পো কিংবা লোকাল বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে এই ভোগান্তি ততই বাড়বে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী।

ঈদ আসন্ন। মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ গণমাধ্যমে শুধু কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়, প্রকৃত অর্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি ও দুঃখ-কষ্টের লাঘব করুন।

স্নিগ্ধ অনন্যা

যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

রাস্তাটির বেহাল দশা

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়া থেকে দোওজানা পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাকুটিয়া থেকে দোওজানা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এতে রিক্সা, টেম্পো, অটোরিক্সা, পিকআপ ভ্যান ও পথচারী গণদুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসীর জন্য এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই রাস্তা দিয়ে পাহাড়ী কৃষিপণ্য পরিবহন করা হয় এবং পাহাড়ী এলাকার মানুষ তথা ছাত্রছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করে।

বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরীভিত্তিতে জনস্বার্থে এই রাস্তাটি প্রয়োজনীয় সংস্কার করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

মোঃ আবুল কাশেম

ঘাটাইল, টাঙ্গাইল