মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

মহাসড়কে এবার দুর্ভোগ কমার আশাবাদ হাইওয়ে পুলিশের

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫
  • দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো মেরামত
  • স্পিডগান, এ্যালকোহল ডিটেক্টর ও বাড়তি টহল ব্যবস্থা

গাফফার খান চৌধুরী ॥ মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ অনেক স্থান মেরামত করা হয়েছে। মেরামতের কাজ অব্যাহত থাকবে। এবার মহাসড়কে যানজট কম হবে। ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ কমছে। সড়ক দুর্ঘটনাও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আরও কমবে। পণ্যবাহী যানবাহন ছিনতাই, চাঁদাবাজি কমিয়ে আনতে টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে সর্বক্ষণিক এ্যাম্বুলেন্স ও রেকার রাখা হচ্ছে। মাদকাসক্ত চালক, হেলপার, দ্রুতগতির যানবাহন ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন চিহ্নিত করতে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি থাকছে চেকপোস্ট, বাড়তি টহল ব্যবস্থা, স্পিডগান ও এ্যালকোহল ডিটেক্টর।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মল্লিক ফখরুল ইসলাম এমনটাই দাবি করে জনকণ্ঠকে বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পুলিশ সদর দফতর, জেলা পুলিশ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের মূল এজেন্ডাই ছিল ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ কিভাবে লাঘব করা যায় সে বিষয়টি। সে সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্তের মধ্যে এবার সুনির্দিষ্ট তথ্য ব্যতীত কোন যানবাহনে তল্লাশি না চালানোর কথা বলা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই সাভার থেকে পাচারের সময় মাইক্রোবাসসহ উদ্ধার করা হয়েছে বিরল প্রজাতির তিন শ’ কচ্ছপ। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক কমে গেছে। ২২ রমজান পর্যন্ত মহাসড়কে মাত্র দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই হওয়া মালামালও।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান আরও জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ভুয়া চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতি এবং রাস্তার খানাখন্দ। ভুয়া চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ধরতে বিআরটিএ এবং হাইওয়ে পুলিশের অভিযান চলছে। আর মাদকাসক্ত চালকদের শনাক্ত করতে এ্যালকোহল ডিটেক্টর নিয়ে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। কোন গাড়ির গতি অস্বাভাবিক মনে হলেই স্পিডগান দিয়ে গাড়ির গতি মাপা হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্পিডগান পিস্তলের মতো একটি বিশেষ যন্ত্র। যা থেকে একটি তীর্যক আলো চলন্ত গাড়ির গায়ে ফেলা হয়। আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিডগানের মিটারে গাড়ির গতি কত তা লেখা উঠে। গতি বেপরোয়া হলে বা গাড়িটির গতি এলোমেলো মনে হলে পরের স্টেশনে থাকা টহল পুলিশের মাধ্যমে গাড়িটি আটক করা হয়। এরপর এ্যালকোহল ডিটেক্টর দিয়ে চালক মাদকাসক্ত কিনা তা চিহ্নিত করা হয়। এ্যালকোহল ডিটেক্টরও একটি বিশেষ যন্ত্র। যন্ত্রটি চালকের গায়ে স্পর্শ করানোর পর চালক মাদকাসক্ত কিনা বা মাদক সেবনের পর গাড়ি চালাচ্ছে কিনা তা যন্ত্রটি নির্দেশ করে। হাইওয়ে পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে, ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কে মেঘনা সেতুর উভয়প্রান্তে, কাঁচপুর, নরসিংদী ও মদন মহাসড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় মেরামতের কাজ চলছে। ঈদের আগ পর্যন্ত মেরামত কাজ চলবে। মেরামত কাজ ভারি বৃষ্টির জন্য মাঝে মধ্যেই বিঘিœত হচ্ছে। তারপরও মেরামত অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে এ্যাম্বুলেন্স ও রেকার সর্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। রাস্তার পাশে যত্রতত্র যানবাহন থামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধিক সময় যানবাহনকে অপেক্ষা করতে দেয়া হচ্ছে না। আশা করছি, এবার ঈদে মানুষের ভোগান্তি কম হবে।

মহাসড়কের নিরাপত্তা, সড়ক দুর্ঘটনা ও অপরাধ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ১১ জুন হাইওয়ে পুলিশ বিভাগ চালু হয়। হাইওয়ে পুলিশের হিসেবে সারাদেশে ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)-এর হিসেব মতে, সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রায় ২১ লাখ বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন চলাচল করে। যদিও বাস্তবে ২৫ লাখের বেশি যানবাহন যাতায়াত করে। এরমধ্যে মহাসড়কে যাতায়াতকারী যানবাহনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসব যানবাহন চালানোর জন্য বৈধ চালক রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ।

যানবাহনের তুলনায় মহাসড়কের পরিমাণ কম। ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়। এছাড়া মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন বা যানবাহনের মালামাল ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়ও সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া মহাসড়কে খানাখন্দ থাকায় স্বাভাবিক কারণেই দুর্ঘটনা বেশি হয়।

বুয়েটের (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) এক্সিডেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসেব অনুযায়ী সারাদেশের মহাসড়কগুলোতে ২০৮টি ব্লাকস্পট (দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা) রয়েছে। প্রতিবছর গড়ে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আর হাইওয়ে পুলিশের হিসেব মতে, মৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে গড়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে গড়ে অন্তত ৫ হাজার মানুষকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়। হতাহতদের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইওয়ে পুলিশের ২৪টি থানা ও ৪৮টি ফাঁড়ির মধ্যে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি ৫০টি স্থায়ী আউটপোস্ট নির্মাণের কাজ শুরু করে সরকার। এ খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩৫টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নির্মিত হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জমির উপর। বাকিগুলো জমি লিজ নিয়ে, জমি অধিগ্রহণ করে নির্মাণের চেষ্টা চলছে। মহাসড়কে টহল জোরদার, দুর্ঘটনায় পতিত যানবাহন দ্রুত মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যানজট কমাতে, মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনা এবং অপরাধ সংক্রান্ত মামলা যাতে হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত করতে পারে এজন্যই এমন উদ্যোগ। অবৈধ চালকরা ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে লাইসেন্স নেয়ায় দুর্ঘটনা বা অপরাধে জড়িত চালকদের আর শনাক্ত করা যায় না।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: